Advertisement
কোটি টাকার চাকরি ছেড়ে হৃষিকেশে মাটির কুটির, Airbnb-তে ট্রেন্ডিং 'দিল্লি ব্রাদার্সে'র তৈরি আস্তানা, ভাড়া জানেন?
ইন্টারনেট পরিষেবা নেই। প্রায় দেড় কিলোমিটার জঙ্গল ঘেরা পথ পেরিয়ে পৌঁছতে হয় পর্যটকদের।
দিল্লিতে বেড়ে ওঠা দুই ভাইয়ের। অংশ কুমার এবং রাঘব কুমার। স্থাপত্যবিদ হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। পড়াশোনা শেষে জার্মানির সংস্থায় কাজও শুরু করেন। মোটা বেতন। তবে নিজেদের জন্য সময় ছিল না এতটুকু। বরং পেশাগত দায়দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে মাঝেমধ্যে তাঁদের মনে হত দিন ৪৮ ঘণ্টার হলে ভালো হয়। ক্রমশ যন্ত্রমানব হয়ে উঠছিলেন তাঁরা। কাজের ফাঁকে অক্সিজেনের খোঁজে ছুটে যেতেন শহর থেকে অনেক দূরে।
মাঝে এল কোভিড। কাজের চাপ অনেকটাই কম। বুঝেছিলেন পরিবার কাকে বলে। পেশাগত চাপ না থাকলে নিজেকে কীভাবে নতুন করে আবিষ্কার করা যায়, বুঝতে পারেন। আর তারপরই সিদ্ধান্ত নেন চাকরি আর করবেন না। পরিবর্তে নিজেরা জুটি বেঁধে স্বপ্নপূরণ করবেন। যেমন ভাবা, তেমন কাজ। মাটি, পাথর দিয়ে শুরু হয় বাড়ি তৈরির কাজ। তাতে সাফল্যও আসে। এরপরই প্রকৃতির কোলে স্বপ্নের বাড়ি তৈরির পরিকল্পনা।
তারপরই শুরু স্বপ্নের রূপকথার জাল বোনা। হৃষিকেশের বেশ দুর্গম এলাকায় জায়গা পছন্দ করেন। যেখানে বেশ কিছুটা রাস্তা হাঁটা ছাড়া কোনও গতি নেই। পেরতে হয় বাঁশের সাঁকো। ইন্টারনেট যে কী, তা জানেন না কেউ। তবে প্রকৃতি যেন অকৃপণ হাতে সাজিয়ে রেখেছে জায়গাটিকে। পাহাড়, জঙ্গল সঙ্গে নদী। কফি চাষও হয় বিস্তর। দুই ভাইয়ের স্বপ্নপূরণে সেখানেই শুরু হয় 'দক্ষযজ্ঞ'।
কম্পিউটারের কোনও ম্যাপিং নয়। কাজের নীল নকশা তৈরি নয়। সরাসরি মাটিতে বসে চলছে পরিকল্পনা। আর সেই তৎক্ষণাৎ গড়ে উঠছে মাটির বাড়ি। নিজেদের স্বপ্নের ঠিকানা তৈরি করতে ইট পর্যন্ত বয়ে এনেছেন দুই ভাই। তাঁদের স্বপ্ন বাস্তবায়িত করতে পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন ১৮টি দেশের কমপক্ষে ১০০ জন স্বেচ্ছাসেবক। স্থানীয় অন্তত ২০ জন ছিলেন। স্বপ্ন বাস্তবায়িত হতে সময় লেগেছে বছর তিনেক।
দুই কামরার ওই মাটির বাড়ি তৈরি করতে খরচ পড়েছে আনুমানিক ২৮ লক্ষ ৭২ হাজার ৫২৪ টাকা। নিজেদের এবং বাবা-মায়ের সঞ্চিত অর্থে স্বপ্নপূরণ করেছেন 'দিল্লি ব্রাদার্স'। এরপর দুই ভাই সিদ্ধান্ত নেন 'এআরবিএনবি'র সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধে ব্যবসা করবেন। সেই অনুযায়ী নিজেদের স্বপ্নের মাটির বাড়ির নাম নথিভুক্ত করান ওই সংস্থায়। প্রতি রাতে এই বাড়িতে থাকার খরচ ১৩ হাজার ৪০৫।
ইন্টারনেট পরিষেবা নেই। প্রায় দেড় কিলোমিটার জঙ্গল ঘেরা পথ পেরিয়ে পৌঁছতে হয় পর্যটকদের। প্রকৃতির কোলে যাঁরা কয়েকটাদিন কাটাতে চান, তাঁদের জন্য এই মাটির বাড়িই হল আদর্শ ঠিকানা। 'দিল্লি ব্রাদার্সে'র দাবি, বছরের প্রায় ৬০ শতাংশ সময় বাড়িতে পর্যটকের আনাগোনা লেগেই থাকে। তাঁরা সকলেই বাড়ির নকশায় মুগ্ধ। কেউ কেউ বলেন, হ্যারি পটারের বাড়ির মিল রয়েছে। আবার কারও মতে, বাড়িটি যেন রূপকথার মতো।
তবে দুই ভাইয়ের মতে, "এই বাড়িটির কোণায় কোণায় রয়েছে পরিশ্রম আর স্বপ্নপূরণে গল্প। যাঁরা পরিশ্রম করে বাড়িটি তৈরি করেছেন, আর যাঁরা ছুটি কাটিয়ে খুশি হচ্ছেন তাঁদের গল্পই লুকিয়ে রয়েছে বাড়ির অন্দরে।" তাঁদের মতে, "কোভিডই আমাদের শিখিয়েছে জীবন ঠিক কতটা ক্ষণস্থায়ী। জীবনের প্রতিটি বাঁকে যে কার জন্য কী অপেক্ষা করে রয়েছে তা জানেন না কেউ।"
তাই স্বপ্ন সফল করতে না পারার ব্যর্থতার যন্ত্রণা মনে নিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে আর চাকরি করতে চাননি। সে কারণেই চাকরি ছেড়ে স্বপ্নপূরণের লক্ষ্যে কোমর বেঁধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। এমন সিদ্ধান্ত যে বেশ ঝুঁকির ছিল, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। তবে সে-ই ঝুঁকি নিয়েই একশো শতাংশ সফল 'দিল্লি ব্রাদার্স'। নিজেদের স্বপ্নপূরণ করতে পেরে আপাতত স্বস্তিতে দুই ভাই।
Published By: Sayani SenPosted: 07:48 PM Jun 14, 2026Updated: 09:15 PM Jun 14, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
