তৃণমূল জমানায় ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ সেবাশ্রয় শিবির চালু করেন। নিখরচায় দূরদূরান্তের বহু মানুষ সেখানে চিকিৎসা করাতে যান। সেবাশ্রয়ের বিরুদ্ধে উঠেছে ভূরি ভূরি অভিযোগ। চিকিৎসা করাতে গিয়ে কেউ হারিয়েছেন পা। কারও বা বাদ গিয়েছে হাত। অভিষেকের বিরুদ্ধে অভিযোগও দায়ের হয়েছে। এবার বিধানসভাতে উঠল সেবাশ্রয় প্রসঙ্গ। শুক্রবার রাজ্য বিধানসভায় তা নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ করেন ফলতার বিজেপি বিধায়ক দেবাংশু পণ্ডা। এই মর্মে মুখ্যমন্ত্রীর বিবৃতি দাবি করেন তিনি। শনিবার বিবৃতি দেবেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।
শুক্রবার বিধানসভায় দৃষ্টি আকর্ষণ পর্বে ফলতার বিজেপি বিধায়ক বলেন, “কোথাও মাঠ দখল করে রাখা হয়েছে। কোথাও আবার মাটির তলায় পুঁতে রাখা হয়েছে ওষুধ। এছাড়াও চিকিৎসার নামে নানা অপকর্ম করা হয়েছে। কোনও রোগীর হাত বাদ গিয়েছে। কোনও রোগীর পা বাদ গিয়েছে। ফলতায় মাঠ দখল করে একটি শিবিরের ফলে ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা খেলাধুলা করতে পারছে না। সরকারের তরফে ওই প্যান্ডেল খুলতে ২৪ লক্ষ টাকা খরচ হবে। ওই প্যান্ডেল রেখে দেওয়ার অর্থ ছিল গত ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফলঘোষণার পর বিজেপি কর্মীদের নিয়ে গিয়ে পালিশ করা। আমি এই বিষয়টি বিধানসভার নজরে আনছি। মুখ্যমন্ত্রীর বিবৃতি দাবি করছি।"
জবাবে পরিষদীয় মন্ত্রী শংকর ঘোষ বলেন, "আমরা বিভিন্ন মাধ্যমে এই বিষয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ পেয়েছি। চিকিৎসা নিয়েও অভিযোগ উঠছে। শনিবার বিধানসভায় এই বিষয়ে বিবৃতি দেবেন মুখ্যমন্ত্রী।" এই প্রসঙ্গে সুর চড়িয়েছেন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তাঁর দাবি, ইচ্ছাকৃতভাবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Abhishek Banerjee) 'টার্গেট' করা হচ্ছে। তাঁর কথায়, "অভিষেক একজন সাংসদ। তাই প্রয়োজনে অভিষেককে বিশেষভাবে আমন্ত্রণ জানিয়ে জবাবি ভাষণ দিতে দেওয়া হোক। যাতে তিনি উত্তর দিতে পারেন।" রাজনৈতিক মহলের দাবি, তার ফলে সেবাশ্রয় নিয়ে আরও বিপাকে পড়তে চলেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
