shono
Advertisement
Health minister

গাড়ি-এসি নয়, হাতে থাকুক ১ লক্ষ! সরকারি ডাক্তারদের বেতনবৃদ্ধির সওয়াল স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

সম্প্রতি জেলার সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র‌্যাকটিস নিয়ে ক্ষোভপ্রকাশ করেছিলেন স্বাস্থ‌্যমন্ত্রী নিজেই।
Published By: Sucheta SenguptaPosted: 09:21 PM Jul 16, 2026Updated: 09:22 PM Jul 16, 2026

সরকারি হাসপাতালে যাওয়ার জন‌্য ঝা চকচকে গাড়ি না হোক। বাড়িতে এসি না থাক। ন্যূনতম বেতন হোক ১ লক্ষ থেকে দেড় লক্ষ‌ টাকা। যাঁরা ডাক্তারি পাশ করে জেলার হাসপাতালগুলিতে কাজে যোগ দিচ্ছেন, তাঁদের বেতন বাড়ানোর পক্ষে এভাবে সওয়াল করলেন খোদ স্বাস্থ‌্যমন্ত্রী ডাক্তার শারদ্বত মুখোপাধ‌্যায়। স্বাস্থ‌্যমন্ত্রীর কথায়, ‘‘যে যুবক সদ‌্য ডাক্তারি পাশ করছেন তাঁর কাছে পেশাটাকে আরও আকর্ষক করতে হবে। মনে রাখতে হবে, ছাব্বিশ বছরের ছেলেটা জেলা হাসপাতালে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘর পায় না। অথচ ছোটবেলা থেকে সে এয়ার কন্ডিশন ঘরে বড় হয়েছে। তাঁর নিজস্ব গাড়ি নেই। তারই বয়সী একজন সফটওয়‌্যার ইঞ্জিনিয়ার বেশি কামিয়ে নিচ্ছেন।’’

Advertisement

কেন কাটছে না প্রাইভেট প্র‌্যাকটিসের অভ্যেস? স্বাস্থ‌্যমন্ত্রী ডাক্তার শারদ্বত মুখোপাধ‌্যায়ের ব্যাখ্যা, বাংলায় কংগ্রেস জমানায় শুরু হয় প্রাইভেট প্র‌্যাকটিস। বাম জমানায় মাঝখানে তা কিছুদিনের জন‌্য বন্ধ হলেও ফের রমরমা শুরু প্রাইভেট প্র‌্যাকটিসের।

সরকারি হাসপাতালে দেখা মেলে না চিকিৎসকদের। এই অভিযোগ বহুদিনের। গত বছর, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে মেদিনীপুর মেডিক‌্যাল কলেজে পাঁচ প্রসূতি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। অভিযোগ, স্যালাইন দেওয়ার পরেই তাঁরা অসুস্থ বোধ করেন। একজনের সেখানেই মৃত্যু হয়। চারজন প্রসূতিকে গ্রিন করিডর করে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এসএসকেএমে মারাও যান একজন প্রসূতি। সেসময় অভিযোগ উঠেছিল, সিনিয়র ডাক্তারদের অনুপস্থিতিতে চিকিৎসা করছিলেন জুনিয়ররাই। তাই এত বড় বিপদ ঘটে গিয়েছে। সম্প্রতি জেলার সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র‌্যাকটিস নিয়ে ক্ষোভপ্রকাশ করেছিলেন স্বাস্থ‌্যমন্ত্রী স্বয়ং। কিন্তু কেন কাটছে না প্রাইভেট প্র‌্যাকটিসের অভ্যেস? স্বাস্থ‌্যমন্ত্রী ডাক্তার শারদ্বত মুখোপাধ‌্যায়ের ব্যাখ্যা, বাংলায় কংগ্রেস জমানায় শুরু হয় প্রাইভেট প্র‌্যাকটিস। বাম জমানায় মাঝখানে তা কিছুদিনের জন‌্য বন্ধ হলেও ফের রমরমা শুরু প্রাইভেট প্র‌্যাকটিসের।

তাঁর কথায়, ‘‘এই অনুশীলন বন্ধ করতে ‘বেড়াল ইঁদুরের খেলা’ শুরু করে লাভ নেই। কারণ পয়সা কথা বলে। পয়সা সবাইকে নাড়িয়ে দেয়। যিনি ডাক্তারি পাশ করে সরকারি হাসপাতালে কাজে যোগ দিচ্ছেন তার মাইনে যদি দেড় লক্ষ হয় তাহলে প্রাইভেট প্র‌্যাকটিস করতেন না।’’ স্বাস্থ‌্যমন্ত্রীর কথায় সমর্থন জানিয়েছেন বাংলার প্রথিতযশা চিকিৎসক ডা. সুকুমার মুখোপাধ‌্যায়। প্রবীণ চিকিৎসক জানিয়েছেন, ‘‘১৯৯৪ সালে আমি যখন অবসর নিই মাইনে পেতাম ৫ হাজার টাকা। সাময়িক যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চিকিৎসকদের পর্যাপ্ত মাইনে দিতে হবে। চিকিৎসকরা বরাবরই কাজের তুলনায় কম বেতন পান। তাঁদের চাকরিতে দশটা পাঁচটা ডিউটি নেই। এসব দিক মাথায় রেখেই বেতন স্থির হওয়া উচিৎ।''

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement