একদিকে শরিকদের সঙ্গে আসন বণ্টন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। অন্যদিকে, জোটের পাঁকে আটকে সিপিএম (CPM)। কংগ্রেস ও হুমায়ুন 'ক্লোজড চ্যাপ্টার' হয়ে গেলেও আইএসএফের সঙ্গে আসন সমঝোতা নিয়ে এখন জট পেকে আছে। আইএসএফ কোনওভাবেই ৫০টি আসনের নিচে নামবে না বলেই খবর। আবার আইএসএফকে (ISF) এত আসন দিলে শরিকদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়তে পারে। কারণ, স্থানীয় স্তরে লড়ার ক্ষমতা অনুযায়ী শরিকদের এবার আসন ছাড়ার পক্ষে সিপিএম। শরিকদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শুরু করেছেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু। সেই মতো রবিবার বৈঠক ছিল ফরওয়ার্ড ব্লকের সঙ্গে।
সূত্রের খবর, ফরওয়ার্ড ব্লককে ১২ থেকে ১৫টি আসন ছাড়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু নরেন চট্টোপাধ্যায়ের দল প্রায় ৩০টি আসনের দাবিপত্র দিয়েছিল। আইএসএফের সঙ্গে জোট কেন, সেই প্রশ্ন তুলে আগেরদিন ফ্রন্টের বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছিলেন নরেন। এদিনের বৈঠক নিয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি তিনি। কিন্তু তাঁর কথায়, সম্মানজনকভাবে সব শরিকদের মর্যাদা দেওয়া হোক। বৈঠক সূত্রে খবর, আগেরদিন নরেনের প্রকাশ্যে মুখ খোলা ও বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়া নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়েছেন বিমান বসু (Biman Bose), মহম্মদ সেলিম (Md Salim)। এটা অকমিউনিস্টসুলভ, বলছে আলিমুদ্দিন। আসন বণ্টন নিয়ে চূড়ান্ত পর্যায় পর্যন্ত দেখতে চায় ফরওয়ার্ড ব্লক। নরেন বলেন, "ঝগড়া, অশান্তি বামপন্থীদের মধ্যে থাকলেও সেটা আলোচনা মারফৎ সমাধান হবে, ঐক্যবদ্ধভাবে আমরা লড়ব।"
বৈঠক সূত্রে খবর, আগেরদিন নরেনের প্রকাশ্যে মুখ খোলা ও বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়া নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়েছেন বিমান বসু, মহম্মদ সেলিম। এটা অকমিউনিস্টসুলভ, বলছে আলিমুদ্দিন। আসন বণ্টন নিয়ে চূড়ান্ত পর্যায় পর্যন্ত দেখতে চায় ফরওয়ার্ড ব্লক। নরেন বলেন, "ঝগড়া, অশান্তি বামপন্থীদের মধ্যে থাকলেও সেটা আলোচনা মারফৎ সমাধান হবে, ঐক্যবদ্ধভাবে আমরা লড়ব।"
এদিকে, কংগ্রেস বাম-সঙ্গ ছাড়তেই পুরোদমে দর কষাকষি শুরু করে দিয়েছে আইএসএফ। ২০২১ সালে জোটে থেকে ৩২টি আসনে লড়াই করেছিল। এবার অন্তত ৫০টি আসনে লড়তে চাইছে তারা। চাপে পড়েছে সিপিএম। অনেক শরিকরা আইএসএফকে এত আসন বামফ্রন্ট থেকে ছাড়তে চাইবে না।
অন্যদিকে, মিম আবার শনিবার থেকে নতুন করে অস্বস্তি বাড়িয়েছে সিপিএমের। জোট প্রস্তাব নিয়ে সিপিএমের তরফে নাকি মিমের কাছে ফোন এসেছিল বলে প্রকাশ্যে দাবি করেছেন তাদের রাজ্য সভাপতি ইমরান সোলাঙ্কি। যা নিয়ে ফের বিতর্ক শুরু হয়েছে সিপিএমের মধ্যে। মিমের দাবি নস্যাৎ করে সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তীর বক্তব্য, "রাম-শ্যাম-যদু-মধু যে যা বলবে উত্তর দিতে হবে নাকি! মিমের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য সিপিএম লাফাচ্ছে এটা সত্য নয়।" এভাবে জোট করা নিয়ে নানা দরবারে সিপিএমের ঘুরে বেড়ানো নিয়ে কটাক্ষ করে তৃণমূল বলেছে, রাজনৈতিক দেউলিয়া অবস্থা সিপিএমের। একা লড়ার মুরোদ নেই সেলিমের দলের। ভিক্ষাপাত্র হাতে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
হুমায়ুন সিপিএমকে জোটে পেতে এখনও আগ্রহী। সিপিএমও তাঁর দলের প্রতি আগ্রহী বলে হুমায়ুনের বক্তব্যে এদিন স্পষ্ট। রবিবার হুমায়ুন বলেন, "শূন্য শূন্য যোগ করলে শূন্য হয়। একটা শূন্য কেটে গিয়েছে। আরেকটা শূন্য আমাদের সঙ্গে থাকার জন্য আগ্রহ দেখিয়েছে। ২৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে মিম, আইএসএফ, সিপিএম কার সঙ্গে জোট বাঁধছি বাংলার মানুষের কাছে স্পষ্ট করব। আমি ১৩৫টি আসনের নিচে নামব না। আর জোট না হলে ১৮২টি আসনে প্রার্থী দেব।" বিধানসভা নির্বাচনের মুখে বাবরি মসজিদ যাত্রাও শুরু করতে চলেছেন হুমায়ুন।
