আর কিছুক্ষণের মধ্যেই রাজ্য বিধানসভায় প্রথম বাজেট (West Bengal Budget) পেশ করবেন রাজ্য়ের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। সোমবার সকাল ১০টা ১৫ মিনিট নাগাদ রাসবিহারীর বাড়ি থেকে বেরন তিনি। বাজেটে কী ঘোষণা করতে চলেছেন, তা নিয়ে ক্রমশ চড়ছে উত্তেজনার পারদ। ডিএ নিয়ে বড় ঘোষণা করবেন তিনি, তা নিয়ে তুঙ্গে জল্পনা। আশায় বুক বাঁধছেন সরকারি কর্মীরা।
বর্তমানে রাজ্য সরকারি কর্মীরা ২২ শতাংশ হারে ডিএ (DA) পান। কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীরা পান ৫৮ শতাংশ হারে। কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে ডিএ-র ফারাক ৩৬ শতাংশ। বকেয়া ডিএ নিয়েও জটিলতা রয়েছে গিয়েছে। তারই মাঝে বাজেটে কোনও সুরাহা হয় কিনা, সেদিকে চাতক পাখির মতো তাকিয়ে রয়েছেন সরকারি কর্মীরা। এই প্রসঙ্গে সংগ্রামী যৌথমঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ বলেন, "বর্তমানে যে ৪২ শতাংশ ডিএ বকেয়া, তার হড় অংশ মিটিয়ে দেওয়া হবে বলেই জানানো হয়েছিল। আমাদের ভরসা আছে মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি। আশা করি প্রতিশ্রুতিপূরণ হবে। বাংলার কর্মীরা ভবিষ্যতে এআইসিআইপি অনুযায়ীই মহার্ঘভাতা পাবেন। সেটা যদি দিতে হয়, তাহলে ৪২ শতাংশ যত দ্রুত সম্ভব মেটানো প্রয়োজন।" তিনি আরও বলেন, "আমরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে রয়েছি।"
ছাব্বিশের নির্বাচনের আগে থেকে ডিএ ক্ষতে জর্জরিত ছিলেন রাজ্য সরকারি কর্মীরা। বিজ্ঞপ্তি জারি হলেও প্রত্যেক রাজ্য সরকারি কর্মীর কাছে এখনও পৌঁছয়নি ডিএ-র টাকা। তারই মাঝে ভোটপ্রচারের মঞ্চ থেকে অমিত শাহ-সহ পদ্মশিবিরের একাধিক নেতা-মন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ক্ষমতায় আসার ৪৫ দিনের মধ্যে কার্যকর হবে সপ্তম পে কমিশন। তার ফলে বেতন পরিকাঠামোয় বদল আসবে।
গত ৪ মে প্রকাশিত ভোটের ফলাফল অনুযায়ী রাজ্য সরকারের পালাবদল হয়েছে। প্রথমবার বাংলার ক্ষমতায় আসে বিজেপি সরকার। গত ৯ মে, ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহের উপস্থিতিতে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। শপথ নেওয়ার পর থেকেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে তৎপর মুখ্যমন্ত্রী। তারই অংশ হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণের ৯ দিনের মাথায় দ্বিতীয় বৈঠকে সপ্তম পে কমিশনে সায় দেয় রাজ্য মন্ত্রিসভা। এবার দেখার রাজ্য বাজেটে ডিএ প্রত্যাশা পূরণ হয় কিনা।
