পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে মিড ডে মিলের খাবার নিয়ে একাধিক অভাব-অভিযোগের কথা সামনে এসেছে। প্রশ্ন উঠছে, খাবারের মান নিয়ে। কখনও টিকটিকি তো আবার কখনও মিড ডে মিলের খাবারে আরশোলা পড়ে থাকার খবর সামনে এসেছে। সেদিকে নজর রেখে এবার বড়সড় সিদ্ধান্ত শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) সরকারের। কলকাতার স্কুলে এবার মিড ডে মিল সরবরাহ করবে ইসকন। বাজেট (Bengal Budget 2026) শেষে বক্তব্যে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
শুভেন্দু বলেন, এতদিন পড়ুয়া পিছু মাত্র সাড়ে ৬ টাকা করে বরাদ্দ ছিল মিড ডে মিলের জন্য। এবার থেকে তা বাড়িয়ে করা হবে ১০ টাকা। আরও বেশি করে পুষ্টিকর খাবার পাবে ছোট ছোট পড়ুয়ারা।
বাজেট ভাষণ শেষে বঙ্গ বিধানসভায় অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তকে (Swapan Dasgupta) সঙ্গে নিয়েই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানেই তিনি পরিস্কার বলে দেন, ''শ্যামাপ্রসাদের দেখানো পথেই বাংলা চলবে। স্বামী বিবেকানন্দের ভাবনায় বাংলা চলবে। রামকৃষ্ণ মিশন, গৌড়ীয় মঠ, ভারত সেবাশ্রম, ইসকনের দেখানো পথে পশ্চিমবঙ্গ চলবে। এই সংস্কৃতির থেকে বিচ্যুতি ঘটবে না। আমরা ইসকনকেই মিড ডে মিল খাবার সরবরাহ করার জন্য উদ্যোগ নিচ্ছি। পাইলট প্রজেক্ট হিসাবে পুরো কলকাতাকেই দেওয়া হচ্ছে। ইসকন খাওয়াবে। আপত্তি থাকলে হরে কৃষ্ণ বলবেন না। কেউ আপনাদের জোর করবে না। ভালো খাবার পাবেন। শুদ্ধ খাবার পাবেন। চিন্তার কোনও কারণ নেই।''
বঙ্গে পালাবদলের পর এদিন বিজেপি সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। যেখানে একগুচ্ছ নতুন ঘোষণা করেন তিনি। একই সঙ্গে স্কুলগুলির পরিকাঠামোর উন্নয়নে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মিড ডে মিলে দেওয়া খাবারের মান যাতে ঠিক থাকে, সেদিকে নজর রেখে বিপুল বরাদ্দের ঘোষণাও এদিন করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, এতদিন পড়ুয়া পিছু মাত্র সাড়ে ৬ টাকা করে বরাদ্দ ছিল মিড ডে মিলের জন্য। এবার থেকে তা বাড়িয়ে করা হবে ১০ টাকা। আরও বেশি করে পুষ্টিকর খাবার পাবে ছোট ছোট পড়ুয়ারা। শুধু তাই নয়, মিড ডে মিলের রাঁধুনিদেরও পারিশ্রমিক বাড়ানো হয়েছে মাসে ১০০০টাকা করে। তবে এর মধ্যেই বড় সিদ্ধান্ত, ইসকনকে কলকাতায় পুর এলাকায় মিড ডে মিলের খাবার সরবরাহের দায়িত্ব ইসকনকে তুলে দেওয়া। গুজরাতে মিড ডে মিলের দায়িত্বে ইসকন। এমনকী বেশ কয়েকটি রাজ্যেও মিড ডে মিল সরবরাহ করে থাকে হিন্দু ধর্মীয় এই সংস্থা।
