ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের আগে তৃতীয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) সরকারের শেষতম বাজেট (West Bengal Budget) বা ভোট অন অ্যাকাউন্ট পেশ হচ্ছে আজ, বৃহস্পতিবার। দুপুর সাড়ে ১২টার কিছু পরে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস অধিবেশনে সূচনা ভাষণ দেন, তবে সেই ভাষণ অতি সংক্ষিপ্ত - মাত্র সাড়ে চার মিনিট। আর তা নিয়ে তরজা শুরু হয়েছে শাসক-বিরোধী শিবিরে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) দাবি, ‘‘রাজ্যের তৈরির করা মিথ্যা ভাষণ পড়েননি রাজ্যপাল। আমি তাঁকে ধন্যবাদ জানাতে চাই।'' কিন্তু শুভেন্দুর সেই দাবি নস্যাৎ করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানালেন, ‘‘আমি জানি রাজ্য কী কারণে এমনটা করেছেন।''
বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজ্যপালের সংক্ষিপ্ত ভাষণের পর বিধানসভায় নিজের ঘরে শুভেন্দু বলেন, ‘‘রাজ্যপাল সূচনা ভাষণের প্রথম সাড়ে চার মিনিট পড়েছেন। সেখানে কেন্দ্রের কাছে রাজ্যের পাওনার কথা লেখা ছিল, কোনও অসুবিধা নেই। এর তথ্য আছে। কিন্তু তথ্য ছাড়া যেখানে মিথ্যা ভাষণ আছে, সেটা উনি পড়েননি। লেখা ছিল, ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান কেন্দ্রের জন্য হয়নি। এটা পুরোপুরি মিথ্যা। রাজ্যপাল কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধি। উনি মিথ্যা ভাষণ রাখেননি। ওঁর সাহস আছে। উনি উচিত কাজ করেছেন।’’ বিরোধী দলনেতার দাবি, ‘‘রাজ্যপাল যখন চলে যাচ্ছিলেন, তখন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) ওঁকে প্রশ্ন করেন, উনি কেন পড়বেন না? উত্তরে রাজ্যপাল ওঁকে দেখান কী লেখা আছে, সেই জন্য তিনি পড়বেন না। এর পরে স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে বলেন, জাতীয় সঙ্গীত হবে। তাঁকে থেকে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। রীতি মেনে জাতীয় সঙ্গীত হওয়ার পরে রাজ্যপাল বেরিয়ে যান।’’
তৃতীয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের শেষতম বাজেট বা ভোট অন অ্যাকাউন্ট পেশ হচ্ছে আজ, বৃহস্পতিবার। দুপুর সাড়ে ১২টার কিছু পরে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস অধিবেশনে সূচনা ভাষণ দেন, তবে সেই ভাষণ অতি সংক্ষিপ্ত - মাত্র সাড়ে চার মিনিট।
কিন্তু শুভেন্দুর এসব বক্তব্য যে নেহাৎই 'মনগড়া', তা বোঝা গেল খোদ মুখ্যমন্ত্রীর কথায়। বাজেট ভাষণ শেষ হওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী নিজে রাজ্যপালকে বিদায় জানাতে বিধানসভার গেট পর্যন্ত এগিয়ে দেন। সেসময় তাঁদের দু'জনকে একান্তে কিছুক্ষণ কথা বলতেও দেখা যায়। এরপরই রাজ্যপালের সংক্ষিপ্ত বাজেট বক্তৃতা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘আমি জানি কী কারণে রাজ্যপাল এমনটা করেছেন। আমার বলা উচিৎ নয়। তবে আমি জানি, রাজ্যপালের ফ্লাইট ধরার তাড়া ছিল।'' তাঁর কথায়, ‘‘বিরোধীরা ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। কিন্তু এটাও জেনে রাখুন, অনেক আসন হারাবেন।'' রাজ্যেপালের ভাষণের পক্ষে এই কথা বলে ভাষণ শেষ করেন মুখ্যমন্ত্রী।
