স্টাফ রিপোর্টার: বেসরকারি উদ্যোগে ছানিকাটার কাজ রাজ্যে তুলনামূলকভাবে বেশি হচ্ছে। কিছুটা হলেও পিছিয়ে আছে সরকারি হাসপাতাল (Government Hospital)। বেসরকারি হাসপাতাল বা স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ক্যাম্প করে ছানি কাটছে। চশমা দিচ্ছে। ছানি কাটায় কেন পিছিয়ে পড়ছে সরকারি হাসপাতাল, কয়েকদিন আগে স্বাস্থ্যভবনে রিভিউ মিটিংয়ে এই প্রশ্নটাই বড় হয়ে ওঠে। তাই সব জেলা ও জেলা হাসপাতালগুলিকে আপাতত তিনমাসের সময় বেঁধে দেওয়া হল ছানি কাটার সংখ্যা নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছে দিতে।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) স্বপ্নের প্রকল্প ‘চোখের আলো’ দেশের মধ্যে প্রথম হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক থেকে পুরস্কার আদায় করেছে। রাজ্যে দশটি স্যাটালাইট ছানিকাটার ওটি চালু হয়েছে। এমনকী, জেলাস্তরের হাসপাতালেও যাতে ছানি কাটার সুবিধা পাওয়া যায় তার জন্য রোগীকে হাসপাতালে ছানি কাটিয়ে ফের বাড়ি ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। কিন্তু তথ্য বলছে, এতরকম পরিকাঠামোর সুবিধা থাকা সত্ত্বেও বেসরকারি হাসপাতাল বা স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ছানি কাটার কাজে অনেক এগিয়ে। স্বাস্থ্যভবনের এক কর্তার কথায়, ‘‘প্রায় প্রতি পদে হোঁচট খাচ্ছে এবং ছানিকাটার কাজ এতটাই ধীর গতিতে যে রাজ্যের আটটি জেলায় ছানি অস্ত্রোপচারের ৫০ ভাগও ছুঁতে পারেনি বিগত অর্থবর্ষে। আবার কলকাতা, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা-সহ এমন কিছু জেলা রয়েছে যেখানে বেসরকারি ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার থেকেও অনেকটা পিছিয়ে সরকারি হাসপাতালের চোখের ক্লিনিক।
[আরও পড়ুন: তৃণমূলের লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের পালটা বিজেপির নারায়ণ ভাণ্ডার! ঘোষণা সুকান্তর]
জেলার মতো মেডিক্যাল কলেজস্তরেও ছানিকাটার কাজে ভাটা পড়েছে মেডিক্যাল কলেজেও। সরকারি পরিষেবায় রাজ্যের অন্তত ছ’টি জেলা লক্ষ্যমাত্রার ২০ শতাংশ ছুঁতে পারেনি। জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে যে সব তথ্য উঠে এসেছে তাতে রীতিমতো বিস্মিত স্বাস্থ্যকর্তারা। দেখা গেছে অন্তত ছ’টি জেলায় জরুরি প্রয়োজনে চোখ পরীক্ষা এমনকী, টর্চের জন্য টেন্ডার দেওয়ার সিদ্ধান্ত হলেও শেষ পর্যন্ত বাস্তবের মুখই দেখেনি। প্রশ্ন ছিল কীভাবে কাজ হচ্ছে, উত্তর এসেছে পুরনো টর্চ মেরামত করে কাজ হচ্ছে? অবস্থা দেখে ক্ষুব্ধ স্বাস্থ্যকর্তারা। এক স্বাস্থ্যকর্তার অক্ষেপ, ‘‘সরকার টাকা দিতে কার্পণ্য করছে না। কিন্তু টাকা ফেরত আসছে। এমনটা হলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’
গত বছরের আগস্টে ছানি নির্ণয় করার জন্য ৩৮টি স্লিট ল্যাম্প, ছানি কাটার জন্য ১৮৫টি ডিরেক্ট অপথ্যালমোস্কোপ এবং ২১টি ফেকো ইমালসিফিকেশন যন্ত্র কেনার জন্য রিকুইজিশন দেওয়া হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত টেন্ডারই দেওয়া হয়নি। অভিযোগের তির সেন্ট্রাল মেডিক্যাল স্টোরের দিকে। মৃতের চোখ থেকে নেওয়া কর্নিয়া গ্রাফটিংয়ের জন্য চারটি কেরাটোপ্লাস্টি ইন্সট্রুমেন্ট সেট এবং ৪৪০টি টর্চের জন্য টেন্ডার দেওয়া ঠিক হলেও কেন বাস্তবায়িত হয়নি তার কোনও উত্তর পাননি স্বাস্থ্যকর্তারা। এমনকী, ছোট অস্ত্রোপচারের জন্য ২১টি ওটি টেবল কেনার কথা থাকলেও কেনা হয়নি। স্বাস্থ্য দফতরের এক আধিকারিকের কথায়, ‘‘বৈঠকে জেলাগুলিকে সতর্ক করা হয়েছে। এক শ্রেণির কর্মীর জন্য পরিষেবার বেহাল কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবেনা। এমনকী, কোনও মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসক বা আধিকারিকের গাফিলতি নজরে এলে রেয়াত করা হবে না।’’ এমনকী, যে সব জেলার সার্বিক পারফরম্যান্স ভাল সেই সব জেলা হাসপাতাল বা মেডিক্যাল কলেজের কাজ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বেশ কয়েকটি মেডিক্যাল কলেজ স্তরের হাসপাতাল যেমন সাগর দত্ত মেডিক্যাল কলেজ, দেবেন মাহাতো মেডিক্যাল কলেজ, বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ, আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে মাসে ৩০টি করেও চোখের অপারেশন হয় না।
