সরকারি দপ্তরে কর্মী ঘাটতি মেটাতে বড়সড় উদ্যোগ নিতে চলেছে রাজ্য সরকার। বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তরে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা শূন্যপদের মধ্যে আগামী এক বছরের মধ্যে যে পদগুলি পুরণ করা জরুরি, সেগুলি চিহ্নিত করে বিস্তারিত তথ্য পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলির কাছে জরুরি ভিত্তিতে এই সংক্রান্ত প্রস্তাব চাওয়া হয়েছে। রাজ্যস্তরের ম্যানপাওয়ার র্যাশনালাইজেশন কমিটি শীঘ্রই বৈঠকে বসতে চলেছে। সেই বৈঠকের আগে বিভিন্ন দপ্তরের কাছ থেকে শূন্যপদের বিস্তারিত হিসাব সংগ্রহ করতে চাইছে সরকার। কোন দপ্তরে কত পদ খালি রয়েছে, তার মধ্যে কতগুলি পদ দ্রুত পূরণ করা প্রয়োজন এবং আগামী এক বছরে কোন পদগুলিতে নিয়োগ দেওয়া দরকার, সেই তথ্যই চাওয়া হয়েছে।
সমস্ত প্রশাসনিক দপ্তরকে নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী শূন্যপদের তালিকা তৈরি করে পাঠাতে বলা হয়েছে। তবে সব শূন্যপদ একসঙ্গে পূরণ করার পরিবর্তে, আপাতত জরুরি ভিত্তিতে পূরণ করা প্রয়োজন এমন পদগুলিকেই অগ্রাধিকার দেওয়ার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
নবান্ন সূত্রের খবর, সমস্ত প্রশাসনিক দপ্তরকে নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী শূন্যপদের তালিকা তৈরি করে পাঠাতে বলা হয়েছে। তবে সব শূন্যপদ একসঙ্গে পূরণ করার পরিবর্তে, আপাতত জরুরি ভিত্তিতে পূরণ করা প্রয়োজন এমন পদগুলিকেই অগ্রাধিকার দেওয়ার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। সরকারি দপ্তরে দীর্ঘদিন ধরে বহু পদ খালি পড়ে থাকায় কাজের চাপ বাড়ছে। কোনও কোনও দপ্তরে প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মী না থাকায় দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজ সামলাতে সমস্যা হচ্ছে। সাধারণ মানুষকে পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রেও কর্মী ঘাটতির প্রভাব পড়ছে বলে প্রশাসনের অন্দরে আলোচনা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় পদগুলি চিহ্নিত করে দ্রুত নিয়োগের পথে এগোতে চাইছে রাজ্য।
ম্যানপাওয়ার র্যাশনালাইজেশন কমিটির বৈঠকে বিভিন্ন দপ্তরের পাঠানো প্রস্তাবগুলি নিয়ে আলোচনা হতে পারে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাজের পরিধি, প্রয়োজনীয় কর্মী সংখ্যা এবং বর্তমানে কতগুলি পদ খালি রয়েছে-এই সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখে নিয়োগের অগ্রাধিকার ঠিক করা হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, সরকারি কর্মীর সংখ্যা এবং কাজের প্রয়োজনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি। কোথাও প্রয়োজনের তুলনায় কর্মী বেশি, আবার কোথাও কর্মীর ঘাটতি রয়েছে কিনা, তা পর্যালোচনা করেই নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। সে ক্ষেত্রে ম্যানপাওয়ার র্যাশনালাইজেশন কমিটির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। ইতিমধ্যেই দপ্তরগুলিকে দ্রুত প্রস্তাব পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক দপ্তরগুলিকে শূন্যপদ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দিতে হবে। সেই তথ্য হাতে পাওয়ার পর কমিটির বৈঠকে বিষয়গুলি খতিয়ে দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করা হবে। অর্থাৎ, সরকারি দপ্তরে খালি থাকা সমস্ত পদ এক ধাক্কায় পূরণের বদলে আগামী এক বছরের মধ্যে কোন পদগুলি সবচেয়ে বেশি জরুরি, তা চিহ্নিত করে ধাপে ধাপে নিয়োগের পরিকল্পনা করছে রাজ্য। দপ্তরগুলির রিপোর্ট এবং কমিটির সুপারিশের পরই নিয়োগ সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পথ পরিষ্কার হবে।
