মিলছে না পরিমাপ। মুখ থেকে মদের গন্ধ বের হলেও যন্ত্র দেখাচ্ছে, মদের পরিমাণ কম। তাই পুজোর আগেই অন্তত দু'শোটি ব্রেথ অ্যানালাইজারের পরিমাপের মান নির্ধারণ করতে চায় লালবাজার। তার জন্য প্রায় ১৩ লাখ টাকা খরচ করতে চলেছেন লালবাজারের কর্তারা।
পুলিশের মতে, থানা ও ট্রাফিক গার্ডের হাতে থাকা ওই ব্রেথ অ্যানালাইজারগুলি অনেক দিন ধরেই কাজে লাগানো হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে কর্তব্যরত পুলিশ আধিকারিক ও পুলিশকর্মীদের মনে হয়েছে, গাড়ি বা বাইকের চালক মদ্যপান করে রয়েছে। কিন্তু সে যতটা মদ্যপান করেছে, ততটা পরিমাপ ব্রেথ অ্যানালাইজারে দেখানো হচ্ছে না।
লালবাজারের সূত্র জানিয়েছে, মদ্যপ গাড়ি ও বাইকের চালক ধরতে আরও তৎপর হয়েছে পুলিশ। তার উপর সামনেই বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজো। কালীপুজো ও ছটের পর থেকে বড়দিন এবং বর্ষবরণের জন্য তৈরি হয়ে যান কলকাতাবাসী। পুজোর আগে থেকেই অনেকের মধ্যে মদ্যপানের প্রবণতা তৈরি হয়। তার উপর কোনও পানশালা ও অন্য কোথাও মদ্যপানের পর গাড়ি ও বাইক চালানোরও প্রবণতা দেখা দেয়। মদ্যপ চালকদের রোধ করতে এখন থেকেই বিভিন্ন সময় শহরের থানা ও ট্রাফিক গার্ডের পক্ষ থেকে চলছে নাকা চেকিং। পুজোর সময় থেকে এই নাকা চেকিংয়ের সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে। সাধারণত নাকা চেকিং চলাকালীন প্রথমেই গাড়ি বা আটকানোর পর চালকদের মুখের সামনে ধরা হয় ব্রেথ অ্যানালাইজার। চার থেকে পাঁচ সেন্টিমিটার দূর থেকে ফুঁ দিতে বলা হয়। আবার কখনও বা আট থেকে দশ সেন্টিমিটারের মধ্যেও বলা হয় ফুঁ দিতে। আধুনিক ব্রেথ অ্যানালাইজারগুলি তাতেই ধরে ফেলে চালক মদ্যপান করে রয়েছে কি না। সাধারণভাবে পরিমাপ ১৫ থেকে ৩০-এর মধ্যে থাকলে সতর্ক করা হয়। কিন্তু ৩০-এর উপর গেলেই পুলিশ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়। এমনকী, পরিমাপ বেশি থাকলে গাড়ি বা বাইক আটকে রাখা হয়। সেই চালককে রাতে গাড়ি বা বাইক চালাতে দেওয়া হয় না। আবার প্রয়োজন হলে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েও পরীক্ষা করানো হয়। পুলিশকর্তাদের মতে, মদ্যপান করে গাড়ি বা বাইক চালানোর কারণে যাতে দুর্ঘটনা না ঘটে, তার জন্যই এই আগাম ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
পুলিশের মতে, থানা ও ট্রাফিক গার্ডের হাতে থাকা ওই ব্রেথ অ্যানালাইজারগুলি অনেক দিন ধরেই কাজে লাগানো হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে কর্তব্যরত পুলিশ আধিকারিক ও পুলিশকর্মীদের মনে হয়েছে, গাড়ি বা বাইকের চালক মদ্যপান করে রয়েছে। কিন্তু সে যতটা মদ্যপান করেছে, ততটা পরিমাপ ব্রেথ অ্যানালাইজারে দেখানো হচ্ছে না। সেই ক্ষেত্রে পরিমাপ আরও সঠিক হলে চালকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যায়। অভিযুক্ত মদ্যপ চালকরা যাতে পুলিশের হাতে থেকে পালাতে না পারে, তার জন্যই এবার অতিরিক্ত সতর্ক হচ্ছে লালবাজার। পুলিশের হাতে থাকা দু'শোটি ব্রেথ অ্যানালাইজারের ক্রমাঙ্কন বা পরিমাপের মান নির্ধারণ করতে চলেছেন লালবাজারের কর্তারা। যাতে অভিযুক্তরা শাস্তি পায়, তার জন্যই এই ব্যবস্থা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
