গৌতম ব্রহ্ম: এ রাজ্যে কত হাটবাজার রয়েছে, অডিট শুরু করল নবান্ন (Nabanna)। হাটের পরিসর, পরিকাঠামো, ক্রেতা বিক্রেতা, রেল স্টেশন, বাসস্ট্যান্ড থেকে দূরত্ব-সব ব্যাপারেই পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য সংগ্রহ করতে হবে জেলাশাসকদের। তারপর তা পাঠাতে হবে রাজ্যের ক্ষুদ্র, মাঝারি ও কুটিরশিল্প বিকাশ দপ্তরে। সম্প্রতি দপ্তরের সচিব রাজেশ পাণ্ডে এমনই নির্দেশিকা জারি করেছেন।
উদ্দেশ্য স্পষ্ট। জেলায় মজুত হাটবাজারগুলির পরিকাঠামোর উন্নয়ন। পর্যাপ্ত পানীয় জল, শৌচাগার, মাল পরিবহণের ব্যবস্থা করা। যাতে বিক্রিবাটা আরও ভাল হয়। চাঙ্গা হয় গ্রামীণ অর্থনীতি। বেশ কিছু জেলায় হাটবাজার প্রয়োজনের তুলনায় কম। কোথাও খুব ছোট পরিসরে বেসরকারি উদ্যোগে হাট বসে। এক্ষেত্রে সরকারি উদ্যোগকে যুক্ত করে হাটবাজারের স্বাস্থ্য ফেরানোরও চেষ্টা হবে। যেখানে হাটবাজার নেই, সেখানে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে নতুন হাট বা বাজার তৈরি করতে হবে। দপ্তরের মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিংহ জানান, বাজার, হাট তো আছেই। কুটিরশিল্পের সম্প্রসারণে কর্মতীর্থগুলিরও উন্নতির কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মহিলাদের কর্মসংস্থানে জোর দেওয়া হয়েছে। হাটবাজারগুলিতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের প্রচুর সামগ্রী কেনাবেচা হয়। কিন্তু হাটবাজারের উন্নয়নের প্রশ্নে অনেক সময়ই স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে ঠেলাঠেলি হয়। এবার সেই সমস্যা দূর হবে।
[আরও পড়ুন: মধ্যপ্রদেশে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ১৩ জনের মৃত্যু, টুইটে শোকপ্রকাশ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের]
ইতিমধ্যেই প্রতিটি শিল্পকেন্দ্র জেলার হাটবাজার নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট পাঠিয়েছে নবান্নে। তার ভিত্তিতেই রাজ্যের ক্ষুদ্র, মাঝারি ও কুটির শিল্প দপ্তরের সচিব রাজেশ পাণ্ডে জেলাশাসকদের চিঠি দিয়ে জেলার হাটবাজারের পরিকাঠামো উন্নয়নে প্রস্তাব চেয়েছেন। তাঁর পর্যবেক্ষণ, গ্রামীণ অর্থনীতি, বিশেষ করে কৃষিজাত বাণিজ্য বিকাশে এই নয়া কর্মসূচি গ্রহণ করেছে রাজ্য। যে সমস্ত গ্রামীণ হাটবাজারের পরিকাঠামোগত উন্নয়নের প্রয়োজন, তার তালিকাও দ্রুত পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে চিঠিতে। রিপোর্টে অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে এলাকার নাম, রেল স্টেশন ও জাতীয় বা রাজ্য সড়ক বা অন্য কোনও গুরুত্বপূর্ণ বড় রাস্তা থেকে সংশ্লিষ্ট বাজার বা হাটের দূরত্ব কতটা। হাট বা বাজারে বহু দূর থেকে চাষিরা পণ্য নিয়ে আসেন।
ক্রেতা ও বিক্রেতার সুবিধার জন্য স্থানীয় পরিবহণ ব্যবস্থার শিরা-উপশিরার সঙ্গে হাটের সংযোগ ঘটানো খুব জরুরি। এই বিষয়টিও মাথায় রয়েছে প্রশাসনের। হাটে মজুত কোনও নির্মাণ ভাঙার প্রয়োজন হলে তাও উল্লেখ করতে হবে। সঙ্গে দিতে হবে হরেক তথ্য। হাটে বা বাজারে কত স্টল রয়েছে, কত মানুষ পেশাগতভাবে এর সঙ্গে যুক্ত, কী কী ধরনের সুযোগসুবিধা করে দিতে হবে, সবই উল্লেখ করতে হবে। আসলে মুখ্যমন্ত্রী বরাবরই গ্রামীণ অর্থনীতির উপর জোর দিয়েছেন। কৃষিজাত পণ্যের ব্যবসা সম্প্রসারণের কথা বলেছেন। গ্রামীণ বাজারহাট গ্রামীণ অর্থনীতির মেরুদণ্ড। তা শক্ত করতে জেলায় জেলায় হাটবাজার তৈরির সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য।
