shono
Advertisement
West Bengal Ration scam

মমতা জমানায় বাংলায় ১৮ হাজার কোটির রেশন দুর্নীতি, খাদ্যশস্য পেয়েছেন ১ কোটি অনুপ্রবেশকারী!

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জানিয়ে লাভ হয়নি, এবার শুভেন্দুর দ্বারস্থ রেশন ডিলাররা। রাজ্য সরকারের ভিজিল্যান্স বিভাগ গত ১৭ জুলাই বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে।
Published By: Subhajit MandalPosted: 06:46 PM Jul 31, 2026Updated: 09:28 PM Jul 31, 2026

রাজ্যে পালাবদলের পর বিগত সরকারের একের পর এক দুর্নীতি প্রকাশ্যে আসছে। আমফান থেকে স্বাস্থ্যসাথী, যুবশ্রী থেকে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার-সর্বত্রই বেনিয়মের বিস্তর অভিযোগ প্রকাশ্যে আসছে। এবার রেশন ব্যবস্থাতেও বিরাট দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশ্যে এল। অল ইন্ডিয়া ফেয়ার প্রাইস শপ ডিলার্স ফেডারেশনের অভিযোগ, মমতা জমানায় স্রেফ রেশন ব্যবস্থায় কমবেশি ১৮ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে। এমনকী বারবার আপত্তি সত্ত্বেও প্রায় ১ কোটি ভুয়ো রেশনকার্ড ধারীকে খাদ্যশস্য দেওয়া হয়েছে।

Advertisement

তৃণমূল জমানায় রেশন বিলির ক্ষেত্রেও বিরাট দুর্নীতি হয়েছে বলে দাবি রেশন ডিলারদের। তাঁরা বলছেন, অন্তত ১ হাজার এমন রেশন কার্ডে দীর্ঘদিন ধরে রেশন দেওয়া হচ্ছিল, যারা রেশন পাওয়ার যোগ্য নয় বা ভুয়ো। রেশন ডিলারদের দাবি, ওই এক কোটি গ্রাহকের অধিকাংশই অনুপ্রবেশকারী।

অল ইন্ডিয়া ফেয়ার প্রাইস শপ ডিলার্স ফেডারেশনের দাবি, তৃণমূল জমানায় মূলত দু'ভাবে জনগণের টাকা তছরূপ হয়েছে। প্রথমত কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনায় বিরাট অর্থ নয়ছয়। নিয়ম অনুযায়ী একজন কৃষকের কাছ থেকে দিনে সর্বোচ্চ ৪৫ কেজি পর্যন্ত ধান কিনতে পারে সরকার। কিন্তু ২০২১-২২ সাল পর্যন্ত দেখা গিয়েছে একই আধার কার্ড থেকে একই সময়ে ভিন্ন ভিন্ন জেলায় ৪৫ কেজি করে ধান কেনা হচ্ছে। অর্থাৎ একই ব্যক্তি একই সময়ে আলাদা আলাদা জেলায় সরকারের কাছে ধান বিক্রি করছেন। শুধু তাই নয়, ওই সময় বহু রাইস মিল থেকেও বিপুল ধান কেনে রাজ্য। রেশন ডিলারদের সংগঠনের দাবি, ওই ধান কেনার অনেকটাই স্রেফ খাতায়কলমে। বাস্তবে ওই খাদ্যশস্য সরকারি গুদামে পৌঁছায়নি। ফলে ধানের সংকটও তৈরি হয়েছিল।

তৃণমূল জমানায় রেশন বিলির ক্ষেত্রেও বিরাট দুর্নীতি হয়েছে বলে দাবি রেশন ডিলারদের। তাঁরা বলছেন, অন্তত ১ কোটি এমন রেশন কার্ডে দীর্ঘদিন ধরে রেশন দেওয়া হচ্ছিল, যারা রেশন পাওয়ার যোগ্য নয় বা ভুয়ো। রেশন ডিলারদের দাবি, ওই এক কোটি গ্রাহকের অধিকাংশই অনুপ্রবেশকারী। কারণ পরবর্তীকালে যখন বায়োমেট্রির মাধ্যমে রেশন দেওয়া চালু হল, তখন প্রায় এক কোটি গ্রাহক উধাও হয়ে যান। সব মিলিয়ে দু'ভাবে মোট অর্থ নয়ছয়ের অঙ্কটা প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকা।

অল ইন্ডিয়া ফেয়ার প্রাইস শপ ডিলার্স ফেডারেশনের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক বিশ্বম্ভর বসু বলছেন, "আমরা পূর্ববর্তী সরকারের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিষয়গুলি জানিয়েছিলাম। কিন্তু কাজের কাজ হয়নি। পরে আমাদের মুখ্য উপদেষ্টা শিশির অধিকারীর পরামর্শ অনুযায়ী বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দপ্তরে চিঠি দিয়েছি। সরকার তদন্ত শুরু করেছে।" সূত্রের খবর, রাজ্য সরকারের ভিজিল্যান্স বিভাগ গত ১৭ জুলাই বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement