shono
Advertisement

Breaking News

CPM

‘আজাদি’ স্লোগানে 'দেশদ্রোহী' বলার সুযোগ পাচ্ছে বিজেপি! বিতর্ক থেকে দূরে থাকতে কী ভাবনা সিপিএমের?

দলের অন্দরের আলোচনায় উঠে আসছে একটি প্রশ্ন, আন্দোলনের স্লোগান কি মানুষের দাবি থেকে নজর সরিয়ে দিচ্ছে?
Published By: Tiyasha SarkarPosted: 05:01 PM Sep 01, 2026Updated: 07:38 PM Sep 01, 2026

কথায় কথায় রাস্তায় নেমে ‘আজাদি’ স্লোগান তুলে আদতে বিজেপি-আরএসএসকে সুবিধা করে দেওয়া হচ্ছে! কারণ পালটা দেশদ্রোহী বলে লাল ঝান্ডাধারীদের দাগিয়ে দেওয়া সুযোগ পাচ্ছে গেরুয়া শিবির। এমনটাই ধারনা সিপিএমের (CPM) একাংশের। সম্প্রতি কল্যাণীতে পার্টির রাজ্য কমিটির বর্ধিত অধিবেশনে এই প্রসঙ্গে পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে বলে সওয়াল করেন বেশ কয়েকজন প্রতিনিধি। প্রয়োজনছাড়া এই স্লোগান তোলায় বামেদের মূল দাবিদাওয়া অর্থাৎ রুটি, রুটি, কর্ম সংস্থান ও বাসস্থান থেকে নজর ঘুরিয়ে দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে বিরোধী শিবির। তাই ‘আজাদি’ নিয়ে নতুন করে চিন্তাভাবনার সময় এসেছে বলেই দাবি পার্টির একাংশের।

Advertisement

‘আজাদি’ স্লোগান কি দেশবিরোধী? বামেদের বিভিন্ন কর্মসূচিতে এই স্লোগান উঠলেই পালটা ‘দেশদ্রোহী’ তকমা দেওয়ার প্রবণতা নিয়ে এবার দলের অন্দরেই শুরু হয়েছে পর্যালোচনা। ‘আজাদি’ কোনওভাবেই দেশবিরোধী স্লোগান নয়-এই অবস্থান স্পষ্ট রেখেও আন্দোলনের মূল ইস্যু থেকে যাতে নজর না সরে যায়, তা নিয়ে সতর্ক হচ্ছে সিপিএম। পার্টির একাংশের মতে, রুটি-রুজি, অন্ন, বাসস্থান, কর্মসংস্থান, মূল্যবৃদ্ধি-সহ মানুষের জীবন-জীবিকার মৌলিক দাবিকে সামনে রেখেই আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া দরকার। কিন্তু আজাদি স্লোগানকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হলে আন্দোলনের মূল দাবিগুলি আড়ালে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা থেকে যাচ্ছে। সেই সুযোগই গেরুয়া শিবির নিতে চাইছে বলে মনে করছেন সিপিএমের একাংশ।

তাঁদের বক্তব্য, আন্দোলনের বিষয়বস্তু থেকে নজর ঘুরিয়ে বিতর্ককে অন্য দিকে নিয়ে যাওয়া নতুন কৌশল নয়। রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের আমলেও ‘জয় বাংলা’, ‘খেলা হবে’-র মতো স্লোগানকে ঘিরে রাজনৈতিক মেরুকরণ তৈরি হয়েছিল। বামেদের একাংশের দাবি, এর ফলে বিভিন্ন সময়ে মানুষের দাবি দাওয়া কেন্দ্রিক আন্দোলন তার মূল অভিমুখ হারিয়ে রাজনৈতিক স্লোগান-নির্ভর বিতর্কে আটকে পড়েছিল। এবার একই ধরনের কৌশল বিজেপি এবং আরএসএস নিতে চাইছে বলে আশঙ্কা কমরেডদের একাংশের। ‘আজাদি’ শব্দটিকে সামনে রেখে আন্দোলনকারীদের দেশবিরোধী হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা হলে আন্দোলনের আসল প্রশ্ন- কাজ, খাদ্য, বাসস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং শ্রমজীবী মানুষের অধিকার-পিছনের সারিতে চলে যেতে পারে। এই পরিস্থিতিতে ‘আজাদি’ স্লোগান নিয়ে পার্টির অবস্থান নতুন করে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। স্লোগান নিষিদ্ধ করার প্রশ্ন নয়, বরং কোন স্লোগান কখন, কী প্রেক্ষাপটে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং তার ফলে আন্দোলনের রাজনৈতিক বার্তা কোথায় যাচ্ছে-সেই বিষয়েই সতর্ক থাকতে চাইছে পার্টি।

সিপিএমের একাংশের মতে, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের তৈরি করা বিতর্কের মধ্যে ঢুকে পড়লে চলবে না। মানুষের দৈনন্দিন সমস্যাকে সামনে রেখে বৃহত্তর জনসমাজকে আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত করাই এখন প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিৎ। তাই স্লোগানের চেয়ে আন্দোলনের বিষয়বস্তুকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়ার পক্ষে সওয়াল করছেন কমরেডরা। দলের অন্দরের আলোচনায় উঠে আসছে একটি প্রশ্ন, আন্দোলনের স্লোগান কি মানুষের দাবি থেকে নজর সরিয়ে দিচ্ছে? সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই ‘আজাদি’ বিতর্ককে ঘিরে সতর্ক পদক্ষেপের পথে হাঁটতে চাইছে সিপিএম।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement