‘অ্যাসিস্ট্যান্ট বিউটি থেরাপিস্ট’ অনলাইন কোর্স শেষ হয়েছিল ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে। কিন্তু আজও তিনি হাতে পাননি পরীক্ষার রেজাল্ট! কেননা প্রশিক্ষকের শর্ত, কেবলমাত্র তাঁর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করলে তবেই হাতে পাওয়া যাবে রেজাল্ট ও শংসাপত্র। এমন এক পরিস্থিতিতে রীতিমতো হকচকিয়ে গিয়েছিলেন প্রথমে। মাত্রা অতিক্রম করায় উত্তর কলকাতার জোড়াবাগান থানায় ডায়রি করেছেন উত্তর কলকাতার এক গৃহবধূ। দাবি করেছেন, তাঁর বাড়ি গিয়ে তাঁকে যৌন হেনস্তা করেছেন অভিযুক্ত। শাসিয়েছেন ফের একই 'কাণ্ড' ঘটানোর।
পুলিশ জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ সোসাইটি ফর স্কিল ডেভেলপমেন্টের আওতায় ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে ‘অ্যাসিস্ট্যান্ট বিউটি থেরাপিস্ট’ অনলাইন কোর্স হয়। তাতেই যোগ দেন অভিযোগকারিণী ওই গৃহবধূ। তিনি অনলাইনেই পুরো কোর্স ও প্র্যাকটিক্যাল প্রশিক্ষণ শেষ করার পরও কোনও ফল বা শংসাপত্র পাননি। তাই গত জানুয়ারিতে তিনি নিউ টাউনে কারিগরি ভবনে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে গিয়ে যোগাযোগ করেন। সেখানে আধিকারিকরা তাঁকে জানান, প্রশিক্ষকের তরফ থেকেই ফল আটকানো রয়েছে। তাঁর সঙ্গে সরাসরি কথা বলার পরামর্শ দেওয়া হয় মহিলাকে। তিনি ওই প্রশিক্ষককে ফোন করলে প্রথমে তিনি ব্যাপারটা ‘দেখছেন’ বলে জানান। কয়েকদিন পর বলেন, কোনও জটিল সমস্যা রয়েছে ফল প্রকাশের ক্ষেত্রে। বিষয়টি ‘বোঝানো’র জন্য ওই প্রশিক্ষক গৃহবধূকে নিউ টাউনের একটি ক্যাফেতে ডাকেন। গৃহবধূ ভাবতেও পারেননি কী অভিজ্ঞতা হতে চলেছে।
অভিযোগ, ক্যাফেতে গেলে তাঁর উদ্দেশে কুমন্তব্য করেন প্রশিক্ষক। সেই সঙ্গে জানান, হোটেলে গিয়ে যৌন সম্পর্ক তৈরি করলে তবেই মিলবে রেজাল্ট। প্রশিক্ষকের এমন দাবিতে স্বাভাবিক ভাবেই রীতিমতো মানসিক আঘাত পান গৃহবধূ। সরাসরি তিনি ওই কুপ্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। সঙ্গে সঙ্গে নাকি রীতিমতো মারমুখী হয়ে ওঠেন অভিযুক্ত। দাবি, তিনি ওই ছাত্রীকে হুমকি দিতে থাকেন। গত এপ্রিলে মহিলার জোড়াবাগানের বাড়িতে পৌঁছে তাঁর যৌন হেনস্থাও করেন তিনি, অভিযোগ তেমনই।
মহিলার দাবি, তিনি রুখে দাঁড়ালে প্রশিক্ষক হুমকি দিতে দিতে বেরিয়ে যান। এর পর তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন ও এপ্রিলেই জোড়াবাগান থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ জানান। কিন্তু তখন পুলিশ কোনও মামলা দায়ের করেনি। মহিলার অভিযোগ, গত মাসে ওই প্রশিক্ষক ফের হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ করে মহিলাকে জানান, কয়েকদিনের জন্য বিশেষ কাজে তিনি উত্তর প্রদেশে যাচ্ছেন। ফিরে এসে আবার তিনি মহিলার বাড়িতে হানা দেবেন। এবার মনস্থির করে ফের পুলিশের কাছে যান নির্যাতিতা। নতুন করে অভিযোগ দায়ের করেন। তারই ভিত্তিতে পুলিশ প্রশিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানি, যৌন হেনস্তা, হুমকি ইত্যাদি অভিযোগে মামলা রুজু করেছে। প্রশিক্ষককে তলবও করা হয়েছে।
