সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: খাস কলকাতায় (Kolkata) গণপিটুনির শিকার এক কিশোর। এন্টালিতে ওই কিশোরের মৃত্যু ঘিরে তুমুল উত্তেজনা ছড়াল। পরিবারের অভিযোগ, চোর সন্দেহে নৃশংসভাবে পিটিয়ে খুন করা হয় ১৬ বছরের ওই নাবালককে।
ঘটনা শুক্রবার রাতের। গভীর রাত ১টা নাগাদ বাড়ি থেকে বের হয়েছিল ট্যাংরার বাসিন্দা মহম্মদ সোনু। তখনই তাকে চোর সন্দেহ করে বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। মার খেয়ে জ্ঞান হারায় কিশোর। তাকে এনআরএস হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করে। এরপরই তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। হাসপাতাল চত্বরে দফার দফায় বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। কিশোরের মৃত্যুকে ঘিরে রীতিমতো উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি।
[আরও পড়ুন: Coronavirus: রাজ্যে আরও শিথিল করোনাবিধি, বাড়ছে বার-রেস্তরাঁ খোলার সময়সীমা]
কিশোরের মৃত্যু নিয়ে ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে রহস্য। হাতে ও মাথায় ধারাল অস্ত্র দিয়ে আঘাতের চিহ্ন মিলেছে মহম্মদ সোনুর শরীরে। হয়েছে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণও। ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ। ঘটনাস্থল খতিয়ে দেখছে কলকাতা পুলিশের হোমিসাইটের শাখা। চোর সন্দেহেই ওই কিশোরকে পিটিয়ে খুন করা হয়েছে, নাকি পূর্বপরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত তিন অভিযুক্তকে আটক করে লাগাতার জেরা করছে পুলিশ। তবে ঘটনাস্থলের কোনও সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া যায়নি। তবে প্রশ্ন উঠছে, করোনা কালে নাইট কারফিউর মধ্যে রাত ১টায় বাড়ির বাইরে কী করছিল সোনু? যদিও পরিবারের দাবি, প্রতিদিনই সে রাত ১টা দেড়টা নাগাদ বেরত। শিয়ালদহের সবজি বাজার থেকে সবজি কিনে বিক্রি করে উপার্জনের তাগিদে। তখনই তার উপর হামলা করা হয়।
এর আগেও চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে মৃত্যুর ঘটনা উঠে এসেছে শিরোনামে। তবে এবার নাবালকের প্রাণ যাওয়ায় পরিস্থিতি রীতিমতো অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে।
