জামদানি-মিনাকারি থেকে হ্যান্ডলুম, সস্তায় শাড়ি কেনার নয়া ঠিকানা, জানেন কোথায়?

10:08 PM Sep 15, 2022 |
Advertisement

অভিষেক চৌধুরী, কালনা: করোনার চোখ রাঙানিতে দু’বছর দুর্গাপুজোর (Durga Puja 2022) আমেজে মাততে পারেনি বঙ্গবাসী। কোপ পড়েছিল কেনাকাটাতেও। ধাক্কা খেয়েছিল কোটি-কোটি টাকার ব্যবসাও। মহামারীর মেঘ কেটেছে অনেকটাই। তাই এবছর পুজোর বাজারও জমজমাট। বাজারে এসেছে বিভিন্ন ধরনের নতুন শাড়ি। জমে উঠেছে কালনার (Kalna) তাঁতের হাটে। পুজোর আগে রবিবার সেখানকার তাঁতের হাটে কেনাবেচা হল প্রায় কোটি টাকার।

Advertisement

কালনা মহকুমার তাঁত অধ্যুষিত এলাকা হিসাবে পরিচিত পূর্বস্থলী-১ ব্লকের সমুদ্রগড়-সহ বিভিন্ন এলাকা। রয়েছেন ২৫ হাজার তাঁতশিল্পী। তাঁতশিল্পই তাঁদের একমাত্র উপার্জনের রাস্তা। রাজ্য সরকার তাঁতিদের কথা ভেবে যেমন বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা দিয়েছেন, তেমনই সরকারি উদ্যোগে ধাত্রীগ্রাম ও শ্রীরামপুর দুটি তাঁতের হাটও হয়েছে। তাঁতিরা এখানে সরাসরি কাপড় বিক্রিও করতে পারেন। বিশাল এলাকা নিয়ে তৈরি দ্বিতল এই হাটে চারশো উপর বিক্রেতা রয়েছে। ভোর ৪টে থেকে সন্ধে ৭টা পর্যন্ত এই বেচাকেনা চলে।

[আরও পড়ুন: কয়লাপাচার কাণ্ড: ফের ইডি দপ্তরে অভিষেকের শ্যালিকা]

পূর্বস্থলীতে রয়েছে তাঁতের সরকারি-বেসরকারি হাট। পুজোর মুখে ছুটির দিন রবিবার স্বাভাবিক কারণেই চওড়া হাসি ছিল বিক্রেতাদের মুখে। প্রায় এক কোটি টাকার কেনাবেচা হল পূর্বস্থলী ১ ব্লকের তাঁতের হাটে। কয়েকমাস আগে সেই বেচাকেনা না হলেও পুজোর মরসুমে কাপড়ের বিক্রি বেড়েছে। তাঁতের শাড়ির চাহিদাও রয়েছে বেশ ভাল। জামদানি,মিনাকারি থেকে হ্যান্ডলুমের বিভিন্ন শাড়ি বিক্রিও হচ্ছে। ধাত্রীগ্রামের সরকারি হাটে আগস্ট মাসে আটদিনে তাঁতিরা সরাসরি শাড়ি বিক্রি করেন ২২ লক্ষ টাকা আয় করেছেন। শ্রীরামপুরের হাটেও ভাল বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে, সমুদ্রগড়ের গণেশচন্দ্র তাঁত কাপড় হাটে রবিবার রেকর্ড বিক্রি হয়েছে। প্রায় এক কোটি টাকা।

Advertising
Advertising

শুভ্র দেবনাথ, রমেশ সাহা,সুব্রত বসাক নামে শাড়ি বিক্রেতারা বলেন,“বিক্রির হার বেড়েছে। দূরদূরান্তের জেলা থেকে ক্রেতারা আসছেন। শাড়ির বিক্রির হার খুব ভাল।তাই বেশ ভাল লাগছে।” এদিন হুগলির ব্যান্ডেল থেকে আসা পিঙ্কি বিশ্বাস,নদীয়ার সোমা সূত্রধর,শ্রেয়সী বন্দ্যোপাধ্যায়রা বলেন,“এই প্রথমবার সমুদ্রগড় তাঁত কাপড়ের হাটে এসেছি। কম দামে এত ভাল জিনিস,তার উপর এত বড় হাটে হাজার হাজার মানুষের এই উপস্থিতিতে পুজোটা দোরগোড়ায় চলে এসেছে বলেই মনে হচ্ছে। খুব ভাল অভিজ্ঞতা হল।” হাট কতৃপক্ষ সুবীর কর্মকার বলেন,“ভোর হতেই মানুষের ভিড় উপচে পড়ছে। এদিনের হাটে ৯৫ লক্ষ টাকার বেশি বেচাকেনা হয়েছে। ভিড় বাড়ায় সকলের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে সিসিটিভি ক্যামেরা চালু করা হয়েছে।”

[আরও পড়ুন: মাঝরাতে ইডি দপ্তরে অভিষেকের শ্যালিকা, তলব করেও অফিসে ছিলেন না আধিকারিকরা!]

তাঁতের হাটে যে কোনও ধরনের অপরাধ রুখতে ও সকলের নিরাপত্তায় ৩৮টি সিসিটিভি ক্যামেরা ও শৌচাগারের উদ্বোধন করেন এলাকার বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ। তিনি বলেন,“কর্মকার তাঁত কাপড়ের হাটে কমপক্ষে এক কোটি টাকার কেনাবেচা হয়। বেসরকারি উদ্যোগে হওয়া এই হাট বেশ কয়েকবছরে ভাল জায়গায় পৌঁছেছে। ক্রেতা ও বিক্রেতাদের স্বাচ্ছন্দ্য ও সকলের নিরাপত্তার কথাকে মাথায় রেখে সিসিটিভি লাগানো হয়েছে।”

 

This browser does not support the video element.

Advertisement
Next