বারাকপুরের চিরসবুজ ঘাসফুলের বাগানে পদ্ম ফোটা আটকাতে ব্যর্থ হয়েছেন রাজ চক্রবর্তী (Raj Chakraborty)। রাজ্যপাট হাতছাড়া হতেই বিদায়ী তারকা বিধায়কের বিরুদ্ধে একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ ছুড়ে দিলেন তৃণমূলের প্রবীণ নেতা উত্তম দাস। 'ধান্দাবাজ' বলে কটাক্ষ করে তাঁর দাবি, "রাজ বারাকপুরে সিনেমায় ঢোকানোর ব্যবসা খুলে বসেছিল।"
বিধানসভা ভোটে বারাকপুর মহকুমার বারোটি কেন্দ্রের মধ্যে 'শিবরাত্রির সলতে'র মতো একমাত্র কামারহাটিই ধরে রাখতে পেরেছে ঘাসফুল শিবির। একুশের বিধানসভা নির্বাচনে বারাকপুরে বিপুল ভোটে জয়ী হওয়া রাজ চক্রবর্তীও আসন ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন। সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে তৃণমূলের এহেন ভরাডুবির পরই এবার দলের অন্দর থেকে বিক্ষোভের সুর উঠল বিদায়ী তারকা বিধায়কের বিরুদ্ধে। পরাজিত প্রার্থী রাজ চক্রবর্তীকে কার্যত 'রাজনৈতিক বহিরাগত' হিসেবেই সম্বোধন করলেন বারাকপুর পুরসভার চেয়ারম্যান উত্তম দাস। তাঁর অভিযোগ, "পাঁচ বছর ধরে রাজনীতি নয়, এলাকায় "সিনেমাতে লোক ঢোকানোর ব্যবসাঠ চালিয়েছেন রাজ।" এখানেই শেষ নয়!
"রাজ আসলে রাজনীতির সঙ্গে সিনেমা গুলিয়ে ফেলেছিলেন। উনি এখানে সিনেমা করতে এসেছিলেন। খালি টাকা নিয়ে একে ঢোকাব, ওকে ঢোকাব, এই বিধায়ককে ঢোকাব,..."
রাজ চক্রবর্তী, ফাইল ছবি।
বিজেপির কৌস্তভ বাগচীর কাছে প্রায় ১৬ হাজার ভোটের মার্জিনে হারের পর উত্তম দাসের বিস্ফোরক মন্তব্য, "রাজ আসলে রাজনীতির সঙ্গে সিনেমা গুলিয়ে ফেলেছিলেন। উনি এখানে সিনেমা করতে এসেছিলেন। খালি টাকা নিয়ে একে ঢোকাব, ওকে ঢোকাব, এই বিধায়ককে ঢোকাব, ওই সাংসদকে ঢোকাব— সিনেমাতে ঢোকানোর একটা ব্যবসা খুলে বসেছিল কার্যত। এই জন্যই বারাকপুরে দলের এহেন বিপর্যয়।" পাশাপাশি দলের পুরনো কর্মীদের বঞ্চনার অভিযোগও তুলেছেন তিনি। উত্তমের দাবি, "১৯৯৮ সাল থেকে যাঁরা দল করছেন, তাঁদের বেশিরভাগই বঞ্চিত। আর ২০১৯ থেকে '২০ সালে যারা এসেছে, তারাই নেতৃত্ব দেবে- এই সংস্কৃতি মানুষ মেনে নেয়নি।" সিনেদুনিয়ার ব্যক্তিত্ব হয়েও কেন রাজনীতিতে? এপ্রসঙ্গেও ক্ষোভপ্রকাশ করেন বারাকপুর পুরসভার চেয়ারম্যান।
তৃণমূলের ভরাডুবির পর দলের অন্দরে জমে থাকা ক্ষোভ যে এবার প্রকাশ্যে বিস্ফোরিত হচ্ছে, সেটা উত্তম দাসের মন্তব্যেই স্পষ্ট। এদিকে নির্বাচনী ফলপ্রকাশের দিন রাজপাট হস্তান্তরিত হতেই রাজের কপালে জুটেছিল 'চোর চোর' স্লোগান। শুধু তাই নয়, পরিচালককে লক্ষ্য করে ছোড়া হয় কাদা-জুতোও।
প্রাক্তন বিধায়ক রাজ চক্রবর্তীকে (Raj Chakraborty) কড়া ভাষায় আক্রমণ শানিয়ে উত্তম দাসের সংযোজন, "ও রাজনৈতিক লোক নয়। ধান্দাবাজ লোক। ধান্দা করতে এসেছিল। মানুষ সেটা মেনে নেয়নি।" তৃণমূলের ভরাডুবির পর দলের অন্দরে জমে থাকা ক্ষোভ যে এবার প্রকাশ্যে বিস্ফোরিত হচ্ছে, সেটা উত্তম দাসের মন্তব্যেই স্পষ্ট। এদিকে নির্বাচনী ফলপ্রকাশের দিন রাজপাট হস্তান্তরিত হতেই রাজের কপালে জুটেছিল 'চোর চোর' স্লোগান। শুধু তাই নয়, পরিচালককে লক্ষ্য করে ছোড়া হয় কাদা-জুতোও। যদিও সেসময়ে মেজাজ না হারিয়ে নিজেকে সংযত রেখে হাসিমুখে গণনাকেন্দ্র ছেড়েছিলেন, তবে এবার রাজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে বিস্ফোরত অভিযোগ আনলেন দলের প্রবীণ নেতা তথা বারাকপুর পুরসভার চেয়ারম্যান।
