'পরিবর্তনের ঢেউ' আছড়ে পড়ল টলিউডেও! সোমে রাজ্যে প্রথমবার পদ্ম ফোটানোর চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যেই ইম্পা দখল নিল বিজেপি। রাজ্যজুড়ে গেরুয়া ঝড়ের আবহে মঙ্গলবার সকালেই জানা যায় যে, রাজ্য রাজনীতির পালাবদলের আবহে বিশেষ আলোচনার জন্য পিয়া সেনগুপ্তকে চিঠি মারফৎ আগামী ৭২ ঘণ্টা মধ্যে বৈঠকের আহ্বান জানানো হয়েছে। সেই চিঠিতে সাক্ষর করেছিলেন রতন সাহা, মিলন ভৌমিক, কৃষ্ণনারায়ণ দাগা, গৌতম দাস, কবিতা নষ্কর, মৃত্যুঞ্জয় রায় এবং শতদীপ সাহা। এরপর বিকেলে ইম্পার অফিসে সভাপতি পিয়াকে ঘিরে চূড়ান্ত বিক্ষোভ দেখান সংশ্লিষ্ট সংগঠনের সদস্যদের একাংশ।
বিকেলে ইম্পার অফিসে সভাপতি পিয়াকে ঘিরে চূড়ান্ত বিক্ষোভ দেখান টলিপাড়ার বিজেপি সমর্থকরা।
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পরেই বাংলার সিনেইন্ডাস্ট্রিতেও অশান্তির আঁচ। মূলত বাংলা ছবির প্রযোজকদের সংগঠন ইস্টার্ন ইন্ডিয়া মোশন পিকচার্স অ্যাসোসিয়েশন-এর অফিসে ক্ষোভ উগরে দিলেন রতন সাহা, মিলন ভৌমিক, শতদীপ সাহা-সহ ইম্পার বেশ কয়েকজন বিক্ষুব্ধ সদস্য। মঙ্গলবার বিকেলে ইম্পার সভাপতি পিয়া সেনগুপ্তর সঙ্গে দেখা করতে আসেন তাঁরা। এর আগে ইম্পার সম্পাদককে একটি চিঠি দেন বিক্ষুব্ধ সদস্যরা। এর থেকেই সমস্যার সূত্রপাত। সোমবার রাজ্যে পালাবদলের পরেই ইম্পা-এর অফিসে গেরুয়া আবির খেলেন বেশ কিছু সদস্য এবং গঙ্গাজল দিয়ে অফিস ধুইয়ে শুদ্ধিকরণও করা হয়। রতন সাহা, শতদীপ সাহা, মিলন ভৌমিকরা একযোগে বলেন, "ইম্পাতে রাজনীতির রং লাগিয়েছেন পিয়া সেনগুপ্ত। আমরা পিয়া সেনগুপ্তর অপসারণ চাই। স্বরূপ বিশ্বাস এবং অরূপ বিশ্বাসের ছায়া টলিউড থেকে সরাতে চাই। দিনের পর দিন আমাদের কাজ করতে দেওয়া হয়নি। শুটিংয়ে অত্যাধিক টেকনিশিয়ান্স নিতে বাধ্য করা হয়েছে। বাংলা ছবির রিলিজ ক্যালেন্ডার প্রকাশ করার কথা বললেও ডিস্ট্রিবিউটরদের সঠিকভাবে তথ্য দিয়ে সাহায্য করা হয়নি। এই সমস্ত কিছু নিয়ে আমরা অভিযোগ জানাতে এসেছিলাম। আমাদের মূল দাবি ইম্পা থেকে তৃণমূলকে সরানো। নতুন সরকারের কাছেও আমরা আবেদন করব। টলিউডের ব্যান কালচার বন্ধ করতে হবে।"
"ইম্পা কখনওই কোনও রাজনৈতিক সংগঠন নয়। আমাদের স্বশাসিত সংস্থা। নির্বাচিত সদস্যরা রয়েছেন। এখানে মিটিং ডাকতে গেলে ১৪ দিন সময় দিতে হয়। স্বরূপ বিশ্বাস ফেডারেশনের সভাপতি হিসেবে মিটিংয়ে আসেন। আমরা কোনও রাজনৈতিক দলের পক্ষে নই। বাবুল সুপ্রিয় যখন বিজেপির মন্ত্রী ছিলেন তখনও তিনি ইম্পার সদস্য ছিলেন। ক্ষমতায় যে দল এসেছে আমরা তাদের সঙ্গেই সুসম্পর্ক রেখে কাজ করেছি।..."
এছাড়াও পিয়া সেনগুপ্তর বিরুদ্ধে মারাত্মক অভিযোগ আনেন তাঁরা। তাঁদের দাবি, পিয়া সেনগুপ্ত ছবিতে এক্সিকিউটিভ প্রডিউসার হিসেবে থাকার জন্য তিন লক্ষ টাকা করে দাবি করতেন। পিয়ার ছেলে বনি সেনগুপ্তকে ছবিতে নেওয়ার জন্যও জোর করা হত। নাহলে হল পেতে সমস্যায় পড়তেন প্রযোজকরা। যদিও এই অভিযোগ নস্যাৎ করে দিয়েছেন পিয়া। ইম্পা সভাপতির কথায়, "যদি এই রকম কোনও অভিযোগ থাকে তাহলে প্রমাণ দেখানো হোক। প্রমাণ ছাড়া কোনও কিছু বললে হবে না। ইম্পা কখনওই কোনও রাজনৈতিক সংগঠন নয়। আমাদের স্বশাসিত সংস্থা। নির্বাচিত সদস্যরা রয়েছেন। এখানে মিটিং ডাকতে গেলে ১৪ দিন সময় দিতে হয়। স্বরূপ বিশ্বাস ফেডারেশনের সভাপতি হিসেবে মিটিংয়ে আসেন। আমরা কোনও রাজনৈতিক দলের পক্ষে নই। বাবুল সুপ্রিয় যখন বিজেপির মন্ত্রী ছিলেন তখনও তিনি ইম্পার সদস্য ছিলেন। ক্ষমতায় যে দল এসেছে আমরা তাদের সঙ্গেই সুসম্পর্ক রেখে কাজ করেছি। কাজের প্রয়োজনে আমরা বিজেপির সঙ্গেও সুসম্পর্ক রেখে আমাদের পরবর্তী কার্যকলাপ চালিয়ে যাব।" ইম্পার এই কমিটির মেয়াদ শেষ হবে সাতাশ সালে তার আগে ইম্পার প্রেসিডেন্ট পিয়া সেনগুপ্তর অপসারণ নিয়ে তুমুল চর্চা টলিউডে। ইম্পা হাউজের এই বিক্ষোভ কার্যত টলিউডের অন্দরের ছাই ছাপা আগুনের বহিঃপ্রকাশ। পরবর্তীকালে এই ঘটনা কোনদিকে মোড় নেয় এখন সেদিকেই নজর রয়েছে সকলের।
