shono
Advertisement
Parambrata Chatterjee

এবার যদি ফেডারেশনের খবরদারি বন্ধ হয়! তৃণমূলের বিদায়ে 'স্বস্তির নিঃশ্বাস' পরমব্রতর

বঙ্গে গৈরিক সূর্যোদয়ের পর টলিউড নিয়ে আশাবাদী হলেও পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় স্পষ্ট বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, লড়াকু নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি তাঁর ব্যক্তিগত সম্মান বরাবর বহাল থাকবে।
Published By: Sandipta BhanjaPosted: 11:17 AM May 06, 2026Updated: 11:17 AM May 06, 2026

রাজ্যে দ্বিতীয় দফা ভোটের প্রাক্কালে তৃণমূলের প্রচার মঞ্চে দাঁড়িয়ে ব্যক্তিগত রাজনৈতিক ইনিংসে হাতেখড়ির কথা বলেছিলেন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। কৃষ্ণনগরে প্রচারের পিচে দাঁড়িয়ে স্পষ্ট বলেছিলেন, "২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন শুধুমাত্র একটি ভোট নয়। এই নির্বাচন বাংলার ও বাঙালির আত্মসম্মান, আত্মমর্যাদা রক্ষার লড়াই। সেই লড়াইয়ে প্রত্যেকটা বাঙালির শামিল হওয়া দরকার।" যার জেরে কম কটাক্ষ, সমালোচনার শিকার হতে হয়নি অভিনেতা-পরিচালককে। এবার বাংলার মাটিতে পদ্মফুল ফুটতেই সিনেইন্ডাস্ট্রির অন্দরের রাজনীতি নিয়ে সরব পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়।

Advertisement

"তৃণমূলের ক'জন নেতামন্ত্রী, বিধায়কের জুলুমবাজি জনতার কাছে মমতা বন্দোপাধ্যায়র ভালো কাজকে গৌণ করে দিয়েছে। এটা তৃণমূলের অতি বড় সমর্থকও স্বীকার করবেন। সেখানে আমি তো তৃণমূল পার্টির সদস্য কিংবা কর্মীও নই।..."

ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে পরমব্রতর ঘাসফুল শিবিরে যোগদানের খবর ছড়িয়ে পড়লেও তা হয়নি। তবে প্রচারের মঞ্চে 'বাংলা বিরোধী বিজেপি'র হয়ে তাঁর সরব হওয়ার সাক্ষী গোটা রাজ্য। যদিও ছাব্বিশের মসনদ ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছে তৃণমূল, বরং 'পরিবর্তনের ঢেউ' নিয়ে বাংলায় সুনামির মতো আছড়ে পড়েছে বিজেপি। সেই প্রেক্ষিতেইগত ৭২ ঘণ্টা ধরে নেটভুবনের আতশকাচে ঘাসফুলের হয়ে প্রচার করা তারকামহল। যে তালিকায় রয়েছেন পরমব্রতও। তৃণমূলের এহেন বিধ্বংসী হারকে কীভাবে দেখছেন অভিনেতা? পরমের কথায়, "আসলে জনসাধারণের মধ্যে একটা রাগ ছিল। সেই রাগটা থাকা স্বাভাবিক। কারণ তৃণমূলের ক'জন নেতামন্ত্রী, বিধায়কের জুলুমবাজি জনতার কাছে মমতা বন্দোপাধ্যায়র ভালো কাজকে গৌণ করে দিয়েছে। এটা তৃণমূলের অতি বড় সমর্থকও স্বীকার করবেন। সেখানে আমি তো তৃণমূল পার্টির সদস্য কিংবা কর্মীও নই। অভিনেতা-পরিচালকের সংযোজন, বাংলার প্রাক্তন শাসক দলের যেমন কিছু ভালো প্রকল্প, কাজ ছিল, তেমনই তাদের একটা অংশের কর্মীদের ঔদ্ধত্য, মানুষের জীবনে ঢুকে যাওয়ার চেষ্টা, একই সঙ্গে দুর্নীতি - এগুলো কোনওটাই তো অস্বীকার করা যায় না।" পরমব্রতর এহেন মন্তব্যে স্বাভাবিকভাবেই কৌতূহল উঁকি দিতে পারে যে, এত অভিযোগ সত্ত্বেও কেন তৃণমূলের হয়ে ভোটপ্রচারে গিয়েছিলেন তিনি?

তৃণমূলের প্রচারমঞ্চে পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। ছবি- সংগৃহীত

স্বপক্ষে যুক্তি দিয়ে অভিনেতা-পরিচালকের ব্যাখ্যা, মতাদর্শের ক্ষেত্রে তিনি বিজেপির উলটো স্রোত চলা মানুষ। নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজ্যে এসআইআর আবহে যেভাবে আমজনতাকে নাকাল হতে হয়েছে, তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের অস্ত্র হিসেবেই তৃণমূলের মঞ্চকে বেছে নিয়েছিলেন বলে জানান তিনি। পরমব্রতর মন্তব্য, "ভোটার তালিকা থেকে যেভাবে লক্ষ লক্ষ মানুষের নাম বাদ পড়েছে, সেটা আমার অসাংবিধানিক মনে হয়েছে। আর গণতান্ত্রিক দেশে কোনও রাজনৈতিক দলের বিরোধিতা করার অধিকারও আমার রয়েছে। বর্তমানে রাজ্যে বামেরা সেভাবে নেই, আর কংগ্রেস তো অস্তিত্ব সংকটে, তাই প্রতিবাদের পথ হিসেবে তৃণমূলকেই বেছে নিয়েছিলাম। তাছাড়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আমার ভালো সম্পর্ক ছিল এবং রয়েছে। উনিও জানতেন, আমি এসআইআর বিরোধী। সেকারণেই নির্বাচনের অন্তিম লগ্নে বেশ ক'টা প্রচারে গিয়েছিলাম।" পাশাপাশি রাজ্যে পালাবদলের হাওয়ায় সিনেইন্ডাস্ট্রির ভবিষ্যৎ নিয়েও মতামত পেশ করেছেন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়।

"তৃণমূল সরকার সিনেশিল্পটা এমন কিছু লোকের হাতে তুলে দিয়েছিল, যারা কোনভাবেই সিনেমার সঙ্গে যুক্ত নন। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে চলা সেই ক্ষমতার আস্ফালনের বিরুদ্ধেই লড়াইয়ে নেমেছিলাম আমরা। কিন্তু আমাদের সব কাজ নিষিদ্ধ করে দেওয়ার পর একটা সময়ে আমাকে অব্যাহতি চাইতেই হয়।..." 

বিগত দেড় দশকে একাধিকবার বাংলা সিনেপাড়ায় এমন রব উঠেছে- রাজনীতির নাগপাশ থেকে মুক্ত হোক টলিউড! কখনও বিরোধী শিবির সমর্থক হওয়ায় ইন্ডাস্ট্রিতে শিল্পীদের কোণঠাসা হওয়ার খবর ছড়িয়েছে, তো কখনও বা আবার ক্ষমতার আস্ফালনের অভিযোগে সরব হওয়ায় বিরাগভাজন হতে হয়েছে শিল্পীদের। গত একবছরে বাংলা সিনেপাড়ার 'ব্যান কালচার' নিয়েও কম হইচই হয়নি। এবার বঙ্গে ফুলবদলে টলিউডের ভবিষ্যৎ নিয়ে কী ভাবছেন অভিনেতা-পরিচালক? পরমের মতে, "তৃণমূল সরকার সিনেশিল্পটা এমন কিছু লোকের হাতে তুলে দিয়েছিল, যারা কোনভাবেই সিনেমার সঙ্গে যুক্ত নন। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে চলা সেই ক্ষমতার আস্ফালনের বিরুদ্ধেই লড়াইয়ে নেমেছিলাম আমরা। কিন্তু আমাদের সব কাজ নিষিদ্ধ করে দেওয়ার পর একটা সময়ে আমাকে অব্যাহতি চাইতেই হয়। আর আমার সেই লড়াইয়ের উপরই রাজনৈতিক রং লাগিয়ে দেওয়া হয়। অনেকের মতো আমাকেও অনেক অপমান হজম করতে হয়েছে। নির্বাচনী রেজাল্ট নিয়ে বহু রাজনৈতিক বিশ্লেষণ, কাঁটাছেড়া হতে পারে, কিন্তু এহেন ফলাফলে যদি আখেড়ে সিনেমার উন্নতি হয় কিংবা ফেডারেশনের খবরদারি বন্ধ হয়, তাহলে সেটা স্বস্তির।" বঙ্গে গৈরিক সূর্যোদয়ের পর টলিউড নিয়ে আশাবাদী থাকলেও পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় স্পষ্ট বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, লড়াকু নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি তাঁর ব্যক্তিগত সম্মান বরাবর বহাল থাকবে।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement