shono
Advertisement

Breaking News

West Bengal Assembly Election 2026

'রাজনীতির আস্ফালন না থাকলেই খুশি হব', বঙ্গে গৈরিক সূর্যোদয়ে কতটা আশাবাদী টলিউড?

দীর্ঘ দেড় দশকের রাজপাট তৃণমূল গুটিয়ে নিতেই বাংলা সিনেইন্ডাস্ট্রির অন্দরে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সমাহার। সোমবার বঙ্গে গৈরিক সূর্যোদয় দেখার পর টলিউডের ভবিষ্যৎ নিয়ে কী ভাবছেন তারকারা?
Published By: Sandipta BhanjaPosted: 02:31 PM May 05, 2026Updated: 02:31 PM May 05, 2026

একুশের বিধানসভা ভোটে মাটি কামড়ে পড়ে থাকলেও তৃণমূল সরকারকে উৎখাতে ব্যর্থ হয়েছিল বিজেপি। ছাব্বিশের নির্বাচনে বাংলায় সরকার গঠনের সেই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হল। গেরুয়া ঝড়ে খড়কুটোর মতো উড়ে গেল তৃণমূল। শ্যামাপ্রসাদের মাটিতে প্রথমবার পদ্ম ফোটায় রাজ্যজুড়ে গেরুয়া কর্মী-সমর্থকদের জয়োল্লাস। দীর্ঘ দেড় দশকের রাজপাট তৃণমূল গুটিয়ে নিতেই বাংলা সিনেইন্ডাস্ট্রির অন্দরে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সমাহার। সোমবার বঙ্গে গৈরিক সূর্যোদয় দেখার পর টলিউডের ভবিষ্যৎ নিয়ে কী ভাবছেন তারকারা?

Advertisement

গত একবছরে বাংলা সিনেপাড়ার 'ব্যান কালচার' নিয়েও কম হইচই হয়নি। এবার বঙ্গে ফুলবদলে কী ভাবছেন টলিউডের তারকামহল? 

অঙ্কুশ হাজরা

বিগত দেড় দশকে একাধিকবার বাংলা সিনেপাড়ায় এমন রব উঠেছে- রাজনীতির নাগপাশ থেকে মুক্ত হোক টলিউড! কখনও বিরোধী শিবির সমর্থক হওয়ায় ইন্ডাস্ট্রিতে শিল্পীদের কোণঠাসা হওয়ার খবর ছড়িয়েছে, তো কখনও বা আবার ক্ষমতার আস্ফালনের অভিযোগে সরব হওয়ায় বিরাগভাজন হতে হয়েছে শিল্পীদের। গত একবছরে বাংলা সিনেপাড়ার 'ব্যান কালচার' নিয়েও কম হইচই হয়নি। এবার বঙ্গে ফুলবদলে কী ভাবছেন টলিউডের তারকামহল? সোহিনী সরকারের মন্তব্য, "আমাদের ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে বলব যে, রাজনীতি ছাড়া কোন জায়গায় হয় না, বরাবরই ছিল। কিন্তু রাজনীতির আস্ফালন যদি ইন্ডাস্ট্রিতে না থাকে তাহলেই খুশি হব। আমাদের তো কারখানা নয়, ইন্ডাস্ট্রি শিল্পের জায়গা। সিনেমা, সিরিজ, সিরিয়াল তৈরির জায়গা। সকলে মনের আনন্দে এখানে কাজ করতে এসেছে। ক্রিয়েটিভিটির থেকে রাজনীতি যেন বেশি না হয়ে যায় এটুকু বলব।"

সোহিনী সরকার

"আমি সবসময়ে বিশ্বাস করি, উন্নয়ন মানে এটা নয় যে জিনিসের দাম কমিয়ে দাও যাতে মানুষের কাছে সহজলভ্য হয়ে যায়। দাম তাই থাকুক, কিন্তু আমজনতার যেন সহজে সেটা কেনার ক্ষমতা থাকে।" 

বঙ্গে পদ্ম ফোটায় 'এটাই তো গণতন্ত্রের আসল মজা' বলে সোমবার রাতে বিজেপিকে স্বাগত জানিয়েছিলেন অঙ্কুশ। এবার সংবাদ প্রতিদিন-কে জানালেন, "আমি আশাবাদী। আমাদের যেটা দরকার, প্রেক্ষাগৃহগুলো ঠিকঠাক হওয়া এবং শহরতলীর মানুষেরা যাতে দু'শো-আড়াইশো টাকায় টিকিট কাটতে পারে। আমি সবসময়ে বিশ্বাস করি, উন্নয়ন মানে এটা নয় যে জিনিসের দাম কমিয়ে দাও যাতে মানুষের কাছে সহজলভ্য হয়ে যায়। দাম তাই থাকুক, কিন্তু আমজনতার যেন সহজে সেটা কেনার ক্ষমতা থাকে। আমাদের ইন্ডাস্ট্রির যেন উন্নতি হয়, সেদিকেই তাকিয়ে। কারণ একসময়ে কুড়ি-ত্রিশ টাকার টিকিট ছিল, সেসময়ে বক্স অফিসে যে ব্যবসা হত, এখন দুশো টাকার টিকিটেও যদি সেরকমই ব্যবসা হয় বা তার চেয়ে কম হয়, তার মানে দর্শক কমে গিয়েছে। সুতরাং, বাংলার রাজনৈতিক পালাবদলে আমি ইন্ডাস্ট্রির উন্নতির স্বার্থে আমি আশাবাদী।"

ইশা সাহা

"টলিউড ইন্ডাস্ট্রি বদলাবে কিনা জানি না, তবে যখন ইন্ডাস্ট্রির খুব খারাপ সময় যাচ্ছিল, তখনও আশা রেখেছিলাম যে সব ঠিক হয়ে যাবে।..." 

বাংলা সিনেইন্ডাস্ট্রিতে কতটা বদল ঘটবে, সেবিষয়ে অবশ্য এখনই মন্তব্য করতে নারাজ ইশা সাহা, তবে বাংলায় রাজনৈতিক পালাবদলে সিনেইন্ডাস্ট্রির জন্য তিনিও যে আশাবাদী, সেটা তাঁর মন্তব্যেই স্পষ্ট। অভিনেত্রী বলছেন, "টলিউড ইন্ডাস্ট্রি বদলাবে কিনা জানি না, তবে যখন ইন্ডাস্ট্রির খুব খারাপ সময় যাচ্ছিল, তখনও আশা রেখেছিলাম যে সব ঠিক হয়ে যাবে। মানুষের তেমনটাই বিশ্বাস করতে ইচ্ছে করে। এখনও তাই হাল ছেড়ে দিইনি। এখনও বিশ্বাস করতে চাই নরমালি আগের মত কাজ করতে পারব। সব থেকে বড় কথা কাজ থাকবে। আশা আছে, বদল তো হয়েছে। ইন্ডাস্ট্রিতে বদল হবে কিনা এটা এত দ্রুত বলা সম্ভব নয়। সদ্য বদল এসেছে দেখা যাক। আশা থাকবে যে কাজের জায়গায় সুস্থ পরিবেশ পাব।"

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement