shono
Advertisement
Bengal Election 2026

শ্যামাপ্রসাদের 'স্বপ্নপূরণ' করলেন মোদি-শাহ, অঙ্গ-কলিঙ্গের পর 'দুর্জয় ঘাঁটি' বঙ্গ জয়

নতুন করে চর্চায় ভারতীয় জনসংঘ প্রতিষ্ঠাতা। গত বছরই ছিল তাঁর ১২৫ তম জন্মবার্ষিকী।
Published By: Biswadip DeyPosted: 05:39 PM May 04, 2026Updated: 07:36 PM May 04, 2026

“শ্যামাপ্রসাদের বাংলা বানাব।” গত বছরের আগস্টে রাজ্যে এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দমদমের সেন্ট্রাল জেল ময়দানে বক্তব্য রাখতে এসে এমনই দাবি করেছিলেন তিনি। প্রায় আট মাসে পরে এই বাংলায় ফুটেছে পদ্ম। আর তারপরই বহু গেরুয়া সমর্থকের মনে ভেসে উঠেছে মোদির সেদিনের সেই সংকল্প। সোমবাসরীয় সকাল যখন দুপুর হতে শুরু করে, তখন থেকেই স্পষ্ট হয়ে যায় আর বিজেপিকে পিছনে ফেলা সম্ভব নয়। আর তখন থেকেই নতুন করে চর্চায় ভারতীয় জনসংঘ প্রতিষ্ঠাতা। গত বছরই ছিল তাঁর ১২৫ তম জন্মবার্ষিকী। সেকথা স্মরণে রেখেই এদিন মোদিকে বলতে শোনা গেল, ''শ্যামাপ্রসাদের আত্মা আজ শান্তি পেল।''

Advertisement

১৯৫১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল জনসংঘ। সেটাই আজকের বিজেপির ভিত্তিপ্রস্তর। আর তাই শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে বলা হয় 'বিজেপির জনক'। সেই মানুষটির স্বপ্নই যেন পূরণ করলেন মোদি-শাহ। যাঁর প্রধান স্বপ্ন ছিল 'এক দেশ, এক নিশান, এক বিধান'। সেই স্বপ্ন অবশ্য আগেই পূরণ হয়েছিল। ২০১৯ সালে ৩৭০ ধারা বাতিল হয়। জম্মু ও কাশ্মীর হয়ে যায় কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল। যা ছিল শ্যামাপ্রসাদের স্বপ্ন। তিনি বারবার বলেছিলেন ওই ধারা বজায় রাখলে ভবিষ্যতে আরও সমস্যা বাড়বে। এখানেই শেষ নয়। শেষপর্যন্ত কাশ্মীরে অভিযান করেন তিনি। ৩৭০ ধারা বিলোপ ও পারমিটরাজ বাতিলের দাবিতে ১৯৫৩ সালের ১১ মে পাঞ্জাবের উধমপুরে সভা করার পর তিনি কাশ্মীরের উদ্দেশে রওনা হন। এরপরই তাঁর গ্রেপ্তারি। এবং ২৩ জুন রহস্যমৃত্যু। এমন ষড়যন্ত্র তত্ত্বও রয়েছে, সেই মৃত্যুর নেপথ্যে নাকি কংগ্রেসের 'হাত' রয়েছে। বলাই বাহুল্য, এই রহস্যের সমাধান আজও হয়নি।

১৯৫১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল জনসংঘ। সেটাই আজকের বিজেপির ভিত্তিপ্রস্তর। আর তাই শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে বলা হয় 'বিজেপির জনক'। সেই মানুষটির স্বপ্নই যেন পূরণ করলেন মোদি-শাহ।

১৯৫০ সালে নেহরুর মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেছিলেন শ্যামাপ্রসাদ। তারপরই জন্ম ভারতীয় জনসংঘের। ১৯৫২ সালের মে মাসে লোকসভা নির্বাচনে দক্ষিণ কলকাতা কেন্দ্র থেকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন তিনি। এত বছর পেরিয়ে বিজেপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা যেন সেদিনের সেই জয়ের এক সুবৃহৎ সম্প্রসারণ হয়ে রইল। দীর্ঘ সময় বঙ্গ রাজনীতিতে বিজেপি প্রবেশ করতে পারেনি। ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তারা পেয়েছিল মাত্র তিনটি আসন। ২০১৯ লোকসভায় ১৮টি আসনপ্রাপ্তিই এরাজ্যে বিজেপির প্রকৃত অভ্যুত্থান। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ৭৭টি আসন। আর এবার একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা। গোটা রাজ্যে পরিবর্তনের চোরাস্রোত তৈরি হয়েছিল। তথাকথিত ফ্লোটিং ভোটার, তৃণমূলের দাপটে অতিষ্ঠ নিম্ন মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্তরা সেই চোরাস্রতে গা ভাসিয়েছেন। যার অবধারিত ফল অঙ্গ-কলিঙ্গের পর বঙ্গে জয়। যে জয়ের নেপথ্যে রয়ে গিয়েছে শ্যামাপ্রসাদের স্বপ্ন। যা পূরণ হল মোদি-শাহর হাত ধরে। 

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement