Advertisement
ঐতিহ্য ও ক্রিকেটের মেলবন্ধন! আইপিএলের মাঝে টাঙ্গালিয়া সাজে গিল-সিরাজরা, কেন?
৭০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী এই বস্ত্রশিল্প।
প্রতি বছর পয়লা মে গুজরাট দিবস পালিত হয়। ১৯৬০ সালের এই দিনে ভাষার ভিত্তিতে বোম্বে রাজ্য বিভক্ত হয়ে গুজরাট ও মহারাষ্ট্র গঠিত হয়। দিনটি গুজরাটের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও উন্নয়নের যাত্রাকে স্মরণ ও উদযাপনের দিন। সরকারি ও সাংস্কৃতিক নানা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে রাজ্যজুড়ে উৎসবের আবহ তৈরি হয়।
রাজ্যের প্রতিষ্ঠা দিবস পালন করলেন গুজরাট টাইটান্সের ক্রিকেটাররা। তাঁদের গায়ে দেখা গেল টাঙ্গালিয়া বুননের বিশেষ শার্ট। যা নজর কাড়ল সবার। এর ফলে গুজরাটের ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প আবারও আলোচনায়।
টাঙ্গালিয়া গুজরাটের সুরেন্দ্রনগর জেলার ডাঙ্গাসিয়া সম্প্রদায়ের ৭০০ বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী বস্ত্রশিল্প। যা হাতে বোনা হয়। এর সবচেয়ে চেনা বৈশিষ্ট্য হল, সুতোর উপর উঁচু ফোঁটার নকশা। যা দেখতে অনেকটা সূচীকর্ম করা পুঁতির কাজের মতো। রঙিন এই ফোঁটাগুলিকে অনেকটা 'শস্যদানা'র মতো দেখতে। তাই এটি 'দানা বুনন' নামেও পরিচিত।
টাঙ্গালিয়ার প্রধান বৈশিষ্ট্যই 'দানা' বা বিন্দু। বুননের সময় টানা সুতোর সঙ্গে বৈপরীত্য রঙের বাণ সুতা পেঁচিয়ে বা গিঁট দিয়ে এই নকশা তৈরি হয়। যা কাপড়ের উপর উঁচু হয়ে থাকে। গুজরাতের সুরেন্দ্রনগর জেলার দেদাড়া, ভাস্তাড়ি, গোদাবেরি এবং ভাড়লা গ্রামে ডাঙ্গাসিয়া সম্প্রদায় মূলত এই শাল ও বস্ত্র তৈরি করে। এতে সাধারণত জ্যামিতিক নকশা, যেমন - বিন্দু, রেখা, বৃত্ত এবং পশুপাখির মোটিফ ব্যবহার করা হয়।
গুজরাট টাইটান্স ক্রিকেটাররা টাঙ্গালিয়া স্টাইলের পোশাক পরেছিলেন। অনেকেই বলছেন, এর মাধ্যমে রাজ্যের প্রাচীন বয়নশিল্পকে সম্মান জানিয়েছেন তাঁরা। টাঙ্গালিয়া পোশাকে দেখা যায় মহম্মদ সিরাজ, শুভমান গিল, রশিদ খান এবং জস বাটলারদের। এর ফলে এই শিল্প আরও জনপ্রিয়তা পাবে বলেই মনে করছেন অনেকে।
এই টাঙ্গালিয়া বুনন আগে আন্তর্জাতিক মঞ্চেও নজর কেড়েছে। হলিউড অভিনেতা ব্র্যাড পিটকেও ‘১১.১১ / ইলেভেন ইলেভেন’ লেবেলের তৈরি এই বিশেষ বস্ত্র পরতে দেখা গিয়েছিল। মূলত দাঙ্গাসিয়া সম্প্রদায়ের শিল্পীরাই এই কাজ করে থাকেন। উল্লেখযোগ্য বিষয়, এই বয়নশিল্প অন্য কোনও অঞ্চলে প্রচলিত নয়।
টাঙ্গালিয়া শব্দটি এসেছে গুজরাটি ‘টাঙ্গালিও’ থেকে, যার অর্থ শরীরের নিচের অংশ। এটি মূলত ভরওয়াড় সম্প্রদায়ের মহিলাদের পোশাক হিসাবে ব্যবহৃত হত। প্রথমদিকে এই বুননে ব্যবহৃত হত ‘ঘেটা’ উল। বর্তমানে মেরিনো উল, সিল্কের পাশাপাশি অ্যাক্রিলিক, ভিসকোস ও কটনের মতো উপকরণও ব্যবহৃত হচ্ছে।
টাঙ্গালিয়া বুনন তৈরি করতে প্রয়োজন অত্যন্ত দক্ষতা। শিল্পীরা বাড়িতেই থাকা পিট লুমে এই কাজ করেন। যা একেবারেই ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতি। টাঙ্গালিয়া পিট লুমে আলাদা করে ওয়ার্প বিম থাকে না। সুতো গেঁথে, হিল্ড শ্যাফট ও রিডের মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা হয়।
২০০৭ সালে ভারতের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ফ্যাশন টেকনোলজির সহায়তায় গান্ধীনগরে টাঙ্গালিয়া হস্তকলা অ্যাসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠা হয়েছিল। যেখানে পাঁচ গ্রামের ২২৬ জন তাঁতিকে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। পরবর্তীতে সেখানে বিভিন্ন কর্মশালা আয়োজিত হয়েছে।
২০০৯ সালে টাঙ্গালিয়া শাল জিআই ট্যাগ পায়। প্রতিটি টাঙ্গালিয়া তৈরি করতে সময় লাগে কয়েক সপ্তাহ। আর এর নকশায় ময়ূর, লাড্ডু, চড়াই, খেজুর বা আমের মতো বিভিন্ন মোটিফ বিশেষভাবে দেখা যায়।
এবার সেই ঐতিহ্যবাহী পোশাকে গুজরাট ক্রিকেটারদের দেখা গেল। গত শুক্রবার টিম ডিনারের আয়োজন করা হয়েছিল। ক্রিকেটারদের সঙ্গে সেখানে উপস্থিত ছিলেন দলের মালিক, সাপোর্ট স্টাফদের। সেখানে ঐতিহ্যবাহী গুজরাটি খাবার (যেমন- ভুঙ্গারা বাটাটা) পরিবেশন করা হয়। কাগিসো রাবাডা, সিরাজদের ডান্ডিয়া খেলতেও দেখা যায়। উল্লেখ্য, টানা তিন ম্যাচ জিতে এই মুহূর্তে ১০ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে আইপিএলের পয়েন্ট টেবিলে পঞ্চম স্থানে রয়েছে।
Published By: Prasenjit DuttaPosted: 04:06 PM May 04, 2026Updated: 08:52 PM May 04, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
