বদলের বাংলায় উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে 'ডিগবাজি'র সংখ্যা! রাজ্য রাজনীতিতে পালাবদলের আবহে গত বাহাত্তর ঘণ্টায় নেটভুবনের আতশকাচে এহেন বহু গুনীজনের মন্তব্য ধরা পড়েছে, যা নিয়ে সরগরম ওয়াকিবহালমহল। এমন আবহে চর্চায় কবীর সুমনের (Kabir Suman) এক মন্তব্য। গত দেড় দশকে যে বঙ্গবাসী তৃণমূল আর সুমনকে সমার্থক বলেই জেনে এসেছে, সেই শিল্পীই কিনা বলছেন, "আমি তো তৃণমূলপন্থী নই!" বাংলা সঙ্গীতজগতে নবতরঙ্গ আনা শিল্পীর এহেন আচমকা 'ভোলবদলে' বিস্মিত অনুরাগীরাও। সংশ্লিষ্ট ইস্যুতেই এবার কবীর সুমনকে বেনজির তোপ তসলিমা নাসরিনের (Taslima Nasrin)।
"আমি এবারও তৃণমূলকে ভোট দিয়েছি ঠিকই, কিন্তু আমি তৃণমূলের কাজে খুশি হতে পারিনি। দলের বহু কথা ও আচরণে মানুষ ধাক্কা খেয়েছে।..."
কবীর সুমন। ফাইল ছবি
গত মার্চ মাসে ধর্মতলার ধরনা মঞ্চে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়িয়ে এসআইআরের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন কবীর সুমন। তবে ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটে বাংলায় গৈরিক সূযোর্দয় হতেই ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে এক সাক্ষাৎকারে শিল্পী যা বলেন, সেকথা নিয়েই বর্তমানে চুলচেরা বিশ্লেষণে খাপ পঞ্চায়ত বসানোর জোগাড় নেটবাসিন্দাদের। কবীর সুমন বলেন, "আমি তো তৃণমূলের সদস্য নই, আমি তৃণমূলপন্থীও নই। আমায় মমতা প্রায় হাতেপায়ে ধরে দাঁড় করিয়েছিলেন। তাঁর আগে আমি কোনও পার্টির সদস্যও ছিলাম না। আমার পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়া মাত্রই আমি পদত্যাগ করি।" শুধু তাই নয়, তৃণমূলের বিধ্বংসী রেজাল্ট নিয়ে সঙ্গীতশিল্পীর মত, "জনাদেশ কেন মমতার বিপক্ষে গেল, সেটা বলতে পারব না। কিন্তু আমি মনে করি, একাধিক ভুল হয়েছে। মানুষ সেটা ভালো চোখে নেয়নি। যেমন চাকরি। চাকরির ক্ষেত্রটা ভয়ংকরভাবে মার খেয়েছে। মানুষ সেটা ভালো চোখে নেননি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সব কাজ ঠিক করেছেন? উত্তর না। তিনি পারেননি। আমি এবারও তৃণমূলকে ভোট দিয়েছি ঠিকই, কিন্তু আমি তৃণমূলের কাজে খুশি হতে পারিনি। দলের বহু কথা ও আচরণে মানুষ ধাক্কা খেয়েছে। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অনেক ভালো কাজও করেছেন।" সুমনের এহেন সাক্ষাৎকার দাবানল গতিতে ভাইরাল হতেই কটাক্ষ, সমালোচনার ঝড়! তোপ দাগতে পিছপা হলেন না লেখিকা তসলিমা নাসরিনও।
বাংলায় 'পরিবর্তনের ট্রেন্ডে' কবীর সুমন যখন সিপিএমের সদস্য হওয়ার কথা বলেছেন বা বামপন্থীদের হয়ে গান বাঁধার ইচ্ছেপ্রকাশ করেছেন, সেবিষয়েও তাঁকে বিঁধেছেন তসলিমা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁর প্রশ্ন, "হাতে পায়ে ধরলেই কাজ হয়ে যায়! কেউ যদি বলে আপনি তো কমিউনিস্ট ছিলেন, হাতেপায়ে ধরেছিল বলে তৃণমূল হয়েছিলেন, এবার..."
তসলিমা নাসরিন। ফাইল ছবি
তসলিমার মন্তব্য, "তিনিই তো বলেছিলেন, আজ থেকে ৩০০ বছর পর মমতার নামে পুজোআচ্চা হবে, মন্দিরও হবে। শুধু তাই নয়, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থনে একটি গানও বেঁধেছিলেন, যেখানে রাজ্যের বিভিন্ন জনমুখী প্রকল্পের কথা তুলে ধরা হয়েছিল। ২০২০ সালে করোনা সংক্রমণের সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাজের প্রশংসা করে একটি গান বেঁধেছিলেন। কবীর সুমন কেবল গানই বাঁধেননি। তিনি 'মমতা' নামে একটি নিজস্ব রাগ তৈরি করে তাতে বাংলা খেয়াল গেয়েছিলেন। 'মমতার জন্য' শীর্ষক একটি বিশেষ গানও বেঁধেছিলেন তিনি। এত গান লেখার জন্য এবং গাওয়ার জন্য কি কেউ তাঁকে হাতে পায়ে ধরেছিল? মমতার নামে মন্দির হবে- এই ঘোষণা তিনি মাথায় একটা সাদা গোল টুপি পরে করেছিলেন। ওই টুপিটা পরার জন্য কে বা কারা তাঁর হাতে পায়ে ধরেছিল, জানতে পারি?" এখানেই অবশ্য থামেননি লেখিকা। বাংলায় 'পরিবর্তনের ট্রেন্ডে' কবীর সুমন যখন সিপিএমের সদস্য হওয়ার কথা বলেছেন বা বামপন্থীদের হয়ে গান বাঁধার ইচ্ছেপ্রকাশ করেছেন, সেবিষয়েও তাঁকে বিঁধেছেন তসলিমা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁর প্রশ্ন, "হাতে পায়ে ধরলেই কাজ হয়ে যায়! কেউ যদি বলে আপনি তো কমিউনিস্ট ছিলেন, হাতেপায়ে ধরেছিল বলে তৃণমূল হয়েছিলেন, এবার হাতেপায়ে ধরলে ঠিক বিজেপি হয়ে যাবেন, তাই না?"
