shono
Advertisement
West Bengal Assembly Election

নদিয়ায় নাম বাদ আড়াই লক্ষ মহিলার! ট্রাইব্যুনালে এখনও ডাক আসেনি, সংশয়ে বাদ পড়া ভোটাররা

ভোটগ্রহণের দিনক্ষণ যতই এগিয়ে আসছে, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার 'ডিলিটেড' বা তালিকা থেকে বাদ পড়া ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা ততই বাড়ছে। সুপ্রিম কোর্টের ইতিবাচক নির্দেশের পরেও প্রশাসনিক জটিলতায় কার্যত দিশেহারা জেলার ৫২ হাজার 'ডিলিটেড' ভোটার। এই বিপুল সংখ্যক ভোটারের অধিকার পুনরুদ্ধারে ট্রাইবুনালে যাওয়ার জন্য ১৫ দিনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল।
Published By: Suhrid DasPosted: 01:06 PM Apr 19, 2026Updated: 01:34 PM Apr 19, 2026

ভোটগ্রহণের দিনক্ষণ যতই এগিয়ে আসছে, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার 'ডিলিটেড' বা তালিকা থেকে বাদ পড়া ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা ততই বাড়ছে। সুপ্রিম কোর্টের ইতিবাচক নির্দেশের পরেও প্রশাসনিক জটিলতায় কার্যত দিশেহারা জেলার ৫২ হাজার 'ডিলিটেড' ভোটার। এই বিপুল সংখ্যক ভোটারের অধিকার পুনরুদ্ধারে ট্রাইবুনালে যাওয়ার জন্য ১৫ দিনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল এবং প্রশাসনের কাছে প্রায় ২০ হাজার আবেদন জমা পড়েছে। অনেক আবেদন পড়েছে অনলাইনেও। কিন্তু তারপর সেই আবেদনের ভিত্তিতে কী অগ্রগতি হয়েছে, তা এখনও জানতে পারেননি ডিলিটেড ভোটাররা।  নদিয়াতেও আড়াই লক্ষ মহিলা ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে। 

Advertisement

আর মাত্র চারদিন পর প্রথম দফার ভোট। তার দু'দিন আগে প্রচার শেষ। আজ রবিবার। মঙ্গলবারের মধ্যে প্রক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হবে? তা নিয়েই সন্দিহান ডিলিটেড ভোটাররা। এনিয়ে নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন একজন 'ডিলিটেড' ভোটারের বাবা তথা রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত ইয়াসিন পাঠান। প্রথমে সস্ত্রীক ইয়াসিনবাবুর নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় থাকলেও তাঁর তিন ছেলেমেয়ের নামই 'আন্ডার অ্যাডজুডিকেশনে' ফেলে দেওয়া হয়। পরে এক ছেলে ও এক মেয়ের নাম ভোটার তালিকাভুক্ত হলেও অপর মেয়ে তামান্না পারভিনের নাম 'ডিলিটেড' তালিকায় লিপিবদ্ধ হয়ে যায়। ইয়াসিনবাবু বলেছেন, অফলাইন এবং অনলাইন দুই স্তরেই তিনি ফের তাঁর মেয়ের জন্য সমস্ত নথিপত্র ট্রাইবুনালের জন্য জমা করেছেন। কিন্তু এখনও শুনানির কোনও নোটিস পাননি তিনি। হাতে আর মাত্র দু'টি দিন আছে। কীভাবে সুরাহা হবে তা নিয়েও বন্দে তিনি। প্রশাসনিক দরবারেও গিয়েছেন তিনি। কিন্তু জেলা প্রশাসন কার্যত মুখে কুলুপ এঁটেছে। 

নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী, এসআইআরে নদিয়া জেলায় মোট ভোটারের সংখ্যা কমার পাশাপাশি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে মহিলা ভোটারের সংখ্যা। পরিসংখ্যান বলছে, প্রায় আড়াই লক্ষ মহিলা ভোটারের নাম বাদ পড়েছে তালিকা থেকে।

বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনকেই দায়ী করেছে শাসকদল তৃণমূল। বিজেপিকে সুবিধা পাইয়ে দিতে নির্বাচন কমিশনই একের পর এক এই ধরনের তুঘলকি পদক্ষেপ নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল সভাপতি তথা প্রার্থী সুজয় হাজর। অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী, এসআইআরে নদিয়া জেলায় মোট ভোটারের সংখ্যা কমার পাশাপাশি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে মহিলা ভোটারের সংখ্যা। পরিসংখ্যান বলছে, প্রায় আড়াই লক্ষ মহিলা ভোটারের নাম বাদ পড়েছে তালিকা থেকে। গত বছরের সংশোধিত তালিকায় নদিয়ায় মোট ভোটার ছিলেন প্রায় ৪৪ লক্ষ ১৮ হাজার ৩৮৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ছিলেন প্রায় ২২ লক্ষ ৬৮ হাজার ৯৮০ এবং মহিলা ভোটার প্রায় ২১ লক্ষ ৪৯ হাজার ৭৬৪।

তবে সাম্প্রতিক খসড়া তালিকা প্রকাশের পর দেখা যায়, মহিলা ভোটারের সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২০ লক্ষ ২৬ হাজার ২২৯-এ। অর্থাৎ এক ধাক্কায় প্রায় ১ লক্ষ ২৩ হাজারের বেশি মহিলা ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। অন্যদিকে পুরুষ ভোটারদের ক্ষেত্রেও নাম বাদ পড়েছে প্রায় ২ লক্ষ ১৪ হাজারের মতো। সব মিলিয়ে, মহিলা ও পুরুষ মিলিয়ে প্রায় সাড়ে চার লক্ষ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ায় জেলার মোট ভোনির সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৯ লক্ষ ৪৫ হাজার ৮৮২। যা রাজনৈতিকভাবে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement