রাজনীতির ময়দানে এবার বিতর্কিত মন্তব্য করলেন ডোমকলের তৃণমূল প্রার্থী হুমায়ুন কবীর। দলের কর্মী-সমর্থকদের প্রতি তাঁর হুঁশিয়ারি, "তোমরা কাউকে মারবে না, আমাকে মেসেজ করবে, তারপর আমি গিয়ে এমন মার মারব..."। এই নিয়ে জোর বিতর্ক দেখা দিয়েছে। সিপিএম প্রার্থী অভিযোগ করেছেন, “এটা নির্বাচনী আইন ভঙ্গের সামিল।” প্রার্থীর বক্তব্যে তৃণমূলের অন্দরেও অস্বস্তি ছড়িয়েছে বলে খবর। যদিও পরে তাঁর নিজের বক্তব্য নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন হুমায়ুন। তাঁর কথায়, "পুরো বিষয়টিই ভুল বোঝাবুঝি হচ্ছে!"
গতকাল, শনিবার ডোমকলে তৃণমূলের কর্মিসভা ছিল। সেখানেই বক্তব্য রাখার সময় বিতর্কিত কথা বলেন ওই কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী হুমায়ুন কবীর। তিনি মঞ্চ থেকে বলেন, “তোমরা কাউকে মারবে না, আমাকে ম্যাসেজ করবে। তারপর আমি গিয়ে এমন মার মারব, যে পিছনের চামড়া দিয়ে ওর বাড়ির সামনে ডুগডুগি বাজিয়ে আসব।" এই বক্তব্যের পরেই শুরু হয়েছে জোর গুঞ্জন। শাসকদলের একজন প্রার্থী কীভাবে এমন কথা বলতে পারেন? শুধু তাই নয়, আগামী ২৩ তারিখ মুর্শিদাবাদে ভোট। তার আগে কি ডোমকলে তৃণমূল প্রার্থী ভয়ের রাজনীতি ছড়াতে চাইছেন? সেই প্রশ্ন উঠেছে।
এই বিষয়ে ক্ষোভপ্রকাশ করেছেন সিপিএম প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, “এই ধরনের ভাষা ব্যবহার করে যুব সমাজকে উসকানি দেওয়া হচ্ছে, অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা চলছে। কিন্তু ডোমকলের মানুষ এবার সেটা হতে দেবে না।” কেন এমন মন্তব্য করলেন? সেই প্রসঙ্গে তৃণমূল প্রার্থী হুমায়ুন কবীর পরে নিজের অবস্থান জানান। তাঁর কথায়, “পুরো বিষয়টাই ভুল বোঝাবুঝি হচ্ছে!” তাঁর কথায়, “আমি তো কর্মীদের মারামারি করতে বলিনি, বরং বারন করেছি। বলেছি, বিরোধীরা মারধর করলে কেউ পালটা মারধর করবেন না, বরং আমাকে জানাবে।” এজন্য তিনি তার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরটিও ঘোষনা করেন। কিন্তু ‘এমন মার মারব যে’ এই মন্তব্যের অর্থ কী? তৃণমূল প্রার্থীর ব্যাখ্যা “আমি আইনের লোক। আমি বোঝাতে চেয়েছি, এমন মামলা করব যে আদালতে ঘুরতে ঘুরতে ওদের অবস্থা খারাপ হয়ে যাবে। এটা বোঝাতেই ওই কথা বলা হয়েছে।” তৃণমূলের অন্দরেও অস্বস্তি দেখা দিয়েছে প্রার্থীর শনিবারের হুঁশিয়ারিতে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলেরই এক নেতা বলেন “এই ধরনের মন্তব্য মানুষ ভালোভাবে নিচ্ছে না, এতে আমাদেরই ক্ষতি হচ্ছে।”
সিপিএমের প্রার্থী খোঁচা মেরে বলেন, “আর ক’টা দিন যাক দেখবেন, আরও উলটো-পালটা বলবেন, এমনকি মাথাখারাপ হয়ে পালিয়েও যেতে পারেন!” ডোমকলের রাজনীতিতে ততই উত্তাপ বাড়ছে।
