প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়ার আগেই ইস্তফা জটে জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জ বিধানসভা আসনের তৃণমূল প্রার্থী তথা এশিয়াডে সোনাজয়ী অ্যাথলিট স্বপ্না বর্মন। রেলের কর্মচারী হওয়া সত্ত্বেও রাজনৈতিক দলের যোগদানের অভিযোগে স্বপ্নার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে রেল। পালটা স্বপ্নার দাবি, তিনি ১৬ মার্চ ইস্তফা পত্র জমা দিয়েছেন। তা নিয়ে গড়িমসি করছে রেল। এই অভিযোগে কলকাতা হাই কোর্টের সার্কিট বেঞ্চে আবেদন করেছেন তিনি।
২০২০ সালের রেলের আলিপুরদুয়ার ডিভিশনের স্টাফ এন্ড ওয়েলফেয়ার ইনস্পেকটর হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন এশিয়াডে সোনা জয়ী স্বপ্না বর্মন। ১৬ মার্চ স্বপ্না বর্মন রেলের চাকরি ছাড়ার জন্য আবেদন জমা করেন। এরই মধ্যে গত ৯ মার্চ রাজনৈতিক সভায় যোগ দেওয়ায় স্বপ্নার বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ আনে রেল। ভারতীয় রেলের তরফে ইস্তফা মঞ্জুর করে এনওসি না দেওয়ায় মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়তে হতে পারে স্বপ্নাকে।
এই আশঙ্কা থেকে ইতিমধ্যেই কলকাতা হাই কোর্টের সার্কিট বেঞ্চে মামলা দায়ের করেছেন স্বপ্না। তাঁর বক্তব্য, ১৬ মার্চ ইস্তফা পত্র জমা দিলেও ইস্তফা মঞ্জুর করেনি রেল। কলকাতা হাই কোর্ট তাঁকে ফের ইস্তফাপত্র জমা দিতে বলেছে। এবং আগামী আটচল্লিশ ঘন্টার মধ্যে রেলকে ইস্তফা বিবেচনার নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট। শেষ পর্যন্ত রেল যদি আগামী ৪৮ ঘণ্টায় ইস্তফাপত্র গ্রহণ না করে, তাহলে স্বপ্নার প্রার্থীপদ নিয়ে প্রশ্ন উঠে যাবে।
আসলে সময়টা ভালো যাচ্ছে না স্বপ্না বর্মনের। সদ্যই পিতৃবিয়োগ হয়েছে তাঁর। বেশ কিছুদিন ধরেই তিনি অসুস্থ ছিলেন বলে খবর। শিলিগুড়ির একটি বেসরকারি হাসপাতালে তিনি ভর্তি ছিলেন। সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। বাবাকে সুস্থ করিয়ে বাড়ি ফেরানোর জন্য কসুর করেননি তিনি। বাবার মৃত্যুর জেরে সেভাবে প্রচারেও ঝাঁপাতে পারেননি। এরই মধ্যে ভোটে লড়া নিয়ে সংশয় তৈরি হল।
