বঙ্গে বেজে গিয়েছে ভোটের বাদ্যি! আর তা ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই ময়দানে নেমে পড়েছেন শাসক-বিরোধী দলের প্রার্থীরা। সেই মতো আজ, মঙ্গলবার প্রচারে বের হন বর্ধমান দক্ষিণের বিজেপি প্রার্থী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র। আর সেই প্রচার চলাকালীনই স্থানীয় মহিলাদের বিক্ষোভের মুখে পড়েন তিনি। শুধু তাই নয়, প্রার্থীকে ঘিরে ধরে মহিলাদের সটান প্রশ্ন, 'এতদিন কোথায় ছিলেন?' হঠাৎ এহেন প্রশ্নের মুখে পড়ে রীতিমতো হকচকিয়ে পড়েন বিজেপি প্রার্থী। কী জবাব দেবেন তা ভাবার আগেই কার্যত ধেয়ে আসে আরও একাধিক প্রশ্ন! ভাঙা বাড়ি দেখিয়ে এক মহিলা বলেন, "আবাস যোজনার ঘর দেননি কেন? এতদিন খোঁজ নেননি কেন?" এরই মধ্যে এক মহিলা বাড়ির সামনের পাকা রাস্তা দেখিয়ে মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্রকে বলেন, "আমাদের কাউন্সিলর নাড়ু ভকত পাকা রাস্তা করে দিয়েছেন, আপনারা কী করেছেন?।" এরপরই ভিড় থেকে আওয়াজ ওঠে 'জয় বাংলা' স্লোগান। ঘটনায় রীতিমতো অস্বস্তিতে পড়ে যান বিজেপি প্রার্থী। এলাকার মানুষের বিক্ষোভ এবং একের পর এক প্রশ্নবাণে কোনও রকমে এলাকা ছাড়েন তিনি।
বর্ধমান দক্ষিণ তৃণমূলের অন্যতম শক্তঘাঁটি। গত নির্বাচনে এই আসন তৃণমূলের দখলে যায়। বিপুল ভোটে জয় পান খোকন দাস। এবারও তাঁকে প্রার্থী করেছে শাসকদল তৃণমূল। অন্যদিকে এই কেন্দ্রেরই বিজেপি প্রার্থী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র। ২৬ এর নির্বাচনে এই আসনে জয় পেতে একেবারে ময়দানে নেমে পড়েছেন তিনি। মানুষের কাছে গিয়ে জনসংযোগ সারছেন। সেই মতো আজ মঙ্গলবার বর্ধমান শহরের ২২ নম্বর ওয়ার্ডে প্রচারে গিয়েছিলেন মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র। সেখানেই স্থানীয় মহিলাদের একাধিক প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় তাঁকে। যদিও এই ঘটনা পরিকল্পনা করেই ঘটানো হয়েছে বলে দাবি মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্রের। তিনি বলেন, "বহু মানুষ আসছেন প্রচারে। মালা পরাচ্ছেন। শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। দুই তিনজন ওইরকম করেছে। তাতেই বোঝা যাচ্ছে পরিকল্পিত ভাবে এটা করানো হয়েছে। আর এইভাবে ধমকে, চমকে বিজেপিকে রোখা যাবে না।"
যদিও বিজেপি প্রার্থীর এহেন অভিযোগ উড়িয়ে তৃণমূল নেতা দেবু টুডু জানান, এই ক্ষোভ সাধারণ মানুষের। এর সঙ্গে তৃণমূলের কোনও সম্পর্ক নেই। তৃণমূল নেতা বলেন, "কেন্দ্রীয় সরকারের বঞ্চনা নিয়ে মানুষের ক্ষোভ রয়েছে। সারা বছর ওরা মানুষের পাশে থাকে না। আর সেই কারণেই এই ঘটনা।''
বলে রাখা প্রয়োজন, আবাস যোজনার টাকা-সহ একাধিক প্রকল্পে রাজ্যের প্রাপ্য বকেয়া অর্থ কেন্দ্র মেটাচ্ছে না বলে অতীতে একাধিকবার প্রশ্ন তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তা মেটানোর দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও চিঠিও লিখেছেন। কিন্তু বাংলার প্রতি কেন্দ্রের বিমাতৃসুলভ আচরণের ফলে এখনও সেই বকেয়া টাকা মেটায়নি কেন্দ্র। যা অনেকক্ষেত্রেই উন্নয়নের বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমনকী মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যেও তা বহুবার উঠে এসেছে। সেই ক্ষোভ যে ভোটারদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে তা এদিনের ঘটনায় স্পষ্ট।
