তিনি মর্নিং ওয়াকে বেরলেই নাকি বিজেপির দু'জন অনুগামী বেড়ে যায়। বঙ্গ বিজেপিতে এ নাকি প্রাচীন প্রবাদ। স্পষ্টবক্তা, খানিকটা ঠোঁটকাটাই বলা যায়। তবে তাঁর কথাবার্তা, চালচলনে যা সবথেকে স্পষ্ট, তা হল - লড়াই। রাজনীতির জমিতে তিনি ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে লড়তে জানেন। তাঁর বিরুদ্ধে ২৮টি মামলা। রয়েছে খুনের চেষ্টা, দাঙ্গায় উসকানি দেওয়ার মতো অভিযোগ। শনিবার তিনি খড়গপুর সদরের বিজেপি প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন জমা দেন। জনপ্রিয় 'দাবাং' নেতার শিক্ষাগত যোগ্যতা, সম্পত্তির খতিয়ানের দিকে নজর রয়েছে সকলের।
বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতির বিরুদ্ধে দাঙ্গায় উসকানি, খুনের চেষ্টা-সহ একাধিক মামলায় অভিযুক্ত। সবমিলিয়ে ২৮টি মামলা রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
দিলীপ ঘোষের জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, তিনি গত ১৯৮০ সালে মাধ্যমিক পাশ করেন। ১৯৮২ সালে ঝাড়গ্রাম থেকে আইটিআই পাশ। পরের বছর অর্থাৎ ১৯৮৩ সালে আইটিআই অ্য়াপ্রেন্টিসের কোর্স করেন। জনসংযোগে চোস্ত দিলীপ ঘোষের রাজনৈতিক কেরিয়ার অত্যন্ত নজরকাড়া। তাঁর বিরুদ্ধে মালিপাঁচঘড়া, জামুরিয়া, ইটাহার, দুর্গাপুর, কোতয়ালি, খড়গপুর টাউন, বিধাননগর, নিউ জলপাইগুড়ি, কাঁথি, রামনগর, রায়না, কেশিয়ারি, কোকওভেন, বলরামপুর, ঝাড়গ্রাম-সহ রাজ্যের একাধিক থানায় এফআইআর দায়ের হয়। এছাড়া কলকাতার কালীঘাট, ময়দান, হেয়ার স্ট্রিট থানাতেও দিলীপের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতির বিরুদ্ধে দাঙ্গায় উসকানি, খুনের চেষ্টা-সহ একাধিক মামলায় অভিযুক্ত। সবমিলিয়ে ২৮টি মামলা রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
এবার আসা যাক তাঁর স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির খতিয়ানে। মনোনয়ন জমার সময় দিলীপের হাতে ছিল ৩ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। একাধিক ব্যাঙ্ক এবং পোস্ট অফিসে বিনিয়োগ করেছেন দিলীপ ঘোষ। অঙ্কের হিসাবে দাঁড়ায় ২৫ লক্ষ ২৫ হাজার ৮০৫ টাকা। মোট ২৮ লক্ষ ৭৫ হাজার ৮০৫ টাকা অস্থাবর সম্পত্তির মালিক দিলীপ। স্থাবর সম্পত্তি হিসাবে রয়েছে ১.৮৮ একরের একটি কৃষিজমি। একটি ৮০০ বর্গ ফুট এবং একটি ৩ হাজার ৪৮৩ ফুটের মোট দু'টি ফ্ল্যাটের মালিক তিনি। মোট ১ কোটি ৮৫ লক্ষ ৪৫ হাজার ৫৮৯ টাকার স্থাবর সম্পত্তির মালিক দাপুটে নেতা।
গত বছর বিয়ে করেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর দলেরই নেত্রী রিঙ্কু মজুমদারের সঙ্গে সাতপাকে বাঁধা পড়েন। তাঁর সম্পত্তির পরিমাণও নেহাত কম নয়। দিলীপের জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, স্ত্রীর হাতে নগদ রয়েছে ৫ লক্ষ টাকা। ব্যাঙ্কে বিনিয়োগ করেছেন ২২ লক্ষ ৯৮ হাজার ৩০১ টাকা। একটি গাড়িও রয়েছে তাঁর। বাজারদর ১৪ লক্ষ ৬২ হাজার টাকা। স্থাবর সম্পত্তি হিসাবে ১টি ফ্ল্যাটের মালিক দিলীপ জায়া। ১ হাজার ৩০৭ বর্গ ফুটে বাণিজ্যিক আবাসনেরও মালিক তিনি। সবমিলিয়ে মোট ৭০ লক্ষ টাকার সম্পত্তির মালিক রিঙ্কু। হলফনামায় তাঁর গয়নাগাটি সংক্রান্ত কোনও তথ্য নেই।
বলে রাখা ভালো, ২০১৯ সালে বাংলার প্রায় প্রতিকূল মাটিতেও তিনি পদ্ম ফুটিয়েছিলেন। ১৮টি সিট পেয়ে বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্রে বিজেপিকে তীব্র ভাবে প্রাসঙ্গিক করে তুলেছিলেন। অথচ চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনে ভরাডুবি। হারের পর দলের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয় তাঁর। মাঝে দলীয় কর্মসূচিতেও দেখা যেত না তাঁকে। সেই দিলীপ ঘোষই খড়গপুর সদর আসনে বিজেপির 'তুরুপের তাস'। সাংগঠনিক 'দুর্বলতা' সত্ত্বেও জয়ের হাসি হাসতে পারবেন দিলীপ, সেটাই এখন দেখার।
