দফায় দফায় তালিকা প্রকাশ, দফায় দফায় বিক্ষোভ। প্রার্থী নিয়ে অসন্তোষ যেন পদ্মশিবিরে সিরিজের মতো। একটা বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী ক্ষোভ মিটতে না মিটতেই, আরও একটা বিধানসভা কেন্দ্রের কর্মী-সমর্থকরা জড়ো হচ্ছেন প্রার্থী বদলের দাবিতে। যার জেরে ভোটের মুখে কার্যত 'লেজে-গোবরে' অবস্থা বিজেপির।
শনিবার অমিত শাহ শহর ছাড়তে না ছাড়তেই সল্টলেকে বিজেপির পার্টি অফিসের সামনে আছড়ে পড়ে বিক্ষোভ। চন্দননগরে দলীয় প্রার্থী বদলের দাবি তুলেছেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের একটা বড় অংশ। বিক্ষোভকারীদের দাবি, বহিরাগত প্রার্থী সরানো হোক। স্থানীয় কাউকে প্রার্থী করার দাবিতে এদিন স্লোগান দিতে থাকেন বিজেপির বিক্ষোভকারীদল।
প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের নির্বাচনে দীপাঞ্জন গুহ চন্দননগর থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন বিজেপির টিকিটে। প্রায় ৩৩ হাজার ভোটে তৃণমূলের ইন্দ্রনীল সেনের কাছে পরাজিত হয়েছিলেন। সেই দীপাঞ্জনকে ফের প্রার্থী করায় ক্ষুব্ধ দলীয় কর্মী-সমর্থকদের একাংশ। উল্লেখ্য, বিজেপি তৃতীয় প্রার্থী তালিকায় চন্দননগরের প্রার্থী হিসেবে দীপাঞ্জনের নাম প্রকাশ করার পর থেকেই জেলাজুড়ে দফায় দফায় বিক্ষোভ শুরু হয়। হাতে দলীয় পতাকা নিয়ে রাস্তায় আগুন জ্বেলে দীপাঞ্জন গুহ ‘দূর হঠো’ স্লোগান দিতে থাকেন বিজেপি কর্মীরা। বুধবার পুলিশি হস্তক্ষেপে চন্দননগর জিটি রোডে বিজেপির বিক্ষোভ খানিকটা দমানো গেলেও, শনিবার সেই অসন্তোষের আঁচ এসে পড়ল সল্টলেক বিজেপির দফতরে।
উল্লেখ্য, উত্তর থেকে দক্ষিণ। কোচবিহার থেকে উদয়নারায়নপুর, বলাগড় থেকে বেলেঘাটা জায়গায় জায়গায় প্রার্থী নিয়ে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা। এই পরিস্থিতিতে বেকায়দায় পড়েছে পদ্মশিবির। এখনও ১৯ আসনে প্রার্থীর নাম প্রকাশ বাকি। তার আগেই যেভাবে মাথাচাড়া দিচ্ছে বিজেপির 'বিদ্রোহ', তাতে নির্বাচনী প্রচার কার্যত শিকেয় তুলে ঘরোয়া কোন্দল সামাল দিতেই মরিয়া বাংলার বিরোধীশিবির।
