শনিবারের ব্রিগেডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জনসভা নিয়ে যখন উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে গেরুয়া শিবিরে, সেসময় 'কেষ্টগড়' বীরভূমে সামনে এল অন্য এক ছবি। জেলার একাধিক জায়গায় 'বয়কট বিজেপি' লেখা পোস্টার চোখে পড়ল। কে বা কারা এই পোস্টার লাগিয়েছে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা।
জানা গিয়েছে, জেলার বিভিন্ন বিধানসভা এলাকায় রাস্তার মোড়, দেওয়াল ও জনবহুল জায়গায় ওই পোস্টার দেখা যায়। পোস্টারে বাংলায় লেখা রয়েছে - 'বয়কট বিজেপি'। সিউড়ির ডাঙাল ও বোলপুরের একাধিক জায়গায় এমন পোস্টার-ব্যানার দেখা গিয়েছে। রাতারাতি এভাবে পোস্টার ছড়িয়ে পড়ায় রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। গোটা ঘটনা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তুঙ্গে উঠেছে তরজা। জেলা তৃণমূলের নেতারা জানান, দলীয়ভাবে এই ধরনের কোনও পোস্টার লাগানো হয়নি। যেভাবে বাংলাকে রাজনৈতিকভাবে লাগাতার বঞ্চনা করছে বিজেপি, তাতে সাধারণ ভোটারদের মধ্য থেকে এই ধরনের বক্তব্য উঠে আসাই স্বাভাবিক।
অন্যদিকে, বিজেপির দাবি, সরাসরি রাজনৈতিক লড়াইয়ে পেরে না উঠে এখন আড়াল থেকে লড়াই করার চেষ্টা করছে তৃণমূল। এদিন, বোলপুর সুপার মার্কেট সংলগ্ন বকুলতলা, বোলপুর থেকে শান্তিনিকেতন যাওয়ার রাস্তার ধারের বাজার এলাকা, স্টেশন সংলগ্ন সহ শহরের একাধিক জায়গায় এই পোস্টার চোখে পড়ে। পোস্টারগুলিতে লেখা হয়, "বাংলার মর্যাদা নিয়ে রাজনীতি চলবে না, বয়কট বিজেপি।" তবে এই পোস্টারগুলি কারা লাগিয়েছেন, তা এখনও পর্যন্ত স্পষ্ট নয়।
ঘটনা ঘিরে যথারীতি রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিজেপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এটি শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের চক্রান্ত। এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা। তাঁর কথায় "এটি সাধারণ মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। মানুষের একাংশ বিজেপিকে চাইছে না বলেই তারা প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে পোস্টারের মাধ্যমে নিজেদের মত প্রকাশ করেছেন।" বিজেপির বোলপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডলের দাবি, "সামনে নির্বাচন আসছে এবং তৃণমূল তাদের সম্ভাব্য পরাজয় আঁচ করতে পেরেছে। সেই কারণেই এই ধরনের পোস্টার দিয়ে রাজনৈতিক বিভ্রান্তি তৈরি করার চেষ্টা করছে। তবে এতে কোনও রাজনৈতিক লাভ হবে না।"
