গত ২০০৬ সাল। রাজ্যের তৎকালীন সিইও দেবাশিস দেন ভোটের আগে জেলা সফরে যান হেলিকপ্টার চড়ে। প্রায় ২০ বছর পর যেন একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি। এবার হেলিকপ্টারে চড়ে ভোটপ্রস্তুতি খতিয়ে দেখবেন সিইও মনোজকুমার আগরওয়াল। রাজ্যের নানা প্রান্তে ঘুরে ঘুরে ভোটপ্রস্তুতি খতিয়ে দেখছেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক। এতদিন সড়কপথে যাতায়াত করছিলেন তিনি। তাতে সময় বেশ খানিকটা বেশিই লাগছিল। এবার হেলিকপ্টার ব্যবহার করবেন সিইও, এমনই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আগামী ২৩ এপ্রিল রাজ্যে প্রথম দফার ভোট। হাতে সময় কম। তার আগে আগামী ২০ ও ২১ এপ্রিল একাধিক জেলায় যাবেন সিইও। জানা গিয়েছে, এই দু'দিনে তিনি পশ্চিম মেদিনীপুর, মালদহ, উত্তর দিনাজপুর ও কোচবিহারে যাবেন। ভোটপ্রস্তুতি নিজে সরেজমিনে খতিয়ে দেখবেন। এই জায়গাগুলিতে কপ্টারে চড়েই পৌঁছবেন তিনি। সাধারণত নির্বাচনী প্রচারে দ্রুত যাতায়াতের জন্য হেলিকপ্টার ব্যবহার করেন নেতা-মন্ত্রীরা। এবার সেই পথেই হাঁটলেন সিইও।
বলে রাখা ভালো, বাংলার ভোটে অশান্তি ঘটে না তা একেবারে বলা যাবে না। বোমাবাজি থেকে খুন – এমন নানা বড় ঘটনার সাক্ষী থাকে বহু জায়গা। একুশের নির্বাচনের পর ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগে রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে যায়। বিশেষত, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, মুর্শিদাবাদ, মালদহে একাধিক অশান্তির ঘটনা ঘটে। যদিও চব্বিশের লোকসভা নির্বাচন মোটের উপর শান্তিপূর্ণ ছিল। ভোট কিংবা ভোট পরবর্তী হিংসায় একজনেরও প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। ছাব্বিশের নির্বাচনে চব্বিশের সেই ধারা বজায় রাখতে তৎপর নির্বাচন কমিশন। আর সে কারণেই ভোটের কাজে যুক্ত প্রত্যেক আধিকারিকদের একমাত্র কমিশনের নির্দেশমতো কাজ করার কথা বারবার মনে করিয়ে দিয়েছেন জ্ঞানেশ কুমার। কোনও রাজনৈতিক দল কিংবা নেতার নির্দেশে কাজ করলে ওই আধিকারিকদের বিরুদ্ধে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। এছাড়া প্রত্যেক পুলিশ সুপারদের কোনও হিংসা দেখলেই কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শান্তিপূর্ণ ভোটের লক্ষ্যেই জেলায় জেলায় ঘুরে ব্যবস্থাপনা খতিয়ে দেখছেন সিইও।
