হাতে আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা। রাত পোহালেই বিধানসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশ। এই পরিস্থিতিতে ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট করলেন পানিহাটির বিজেপি প্রার্থী রত্না দেবনাথ অর্থাৎ অভয়ার মা। লড়াই জারি থাকবে তা জানিয়ে লিখলেন, 'তোমরা আমাকে ভুল বুঝো না।' এতেই একাংশ মনে করছেন, তাঁর কিছু আচরণ যে জনমানসে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে, তা বুঝতে পারছেন তিনি নিজেও। সেই কারণেই এই পোস্ট।
দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চললেও প্রথম থেকেই অভয়ার বাবা ও মা জানিয়েছিলেন, তাঁরা সক্রিয় রাজনীতিতে আসতে চান না। যদিও কানাঘুষো শোনা যাচ্ছিল, বিজেপির টিকিটে লড়তে পারেন তাঁরা। ভোট ঘোষণার পর আচমকাই অভয়ার মা জানান, তিনি বিজেপির হয়ে ভোটের ময়দানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। পানিহাটি আসনেই তাঁকে প্রার্থী করে পদ্মশিবির। প্রার্থী হওয়ার পর থেকে প্রচারে স্বাভাবিকভাবেই উঠে এসেছে অভয়া প্রসঙ্গ। রত্নাদেবী স্পষ্টভাষায় জানিয়েছেন, প্রভাবশালী না হলে সুবিচার মেলে না। তাই প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত। প্রথম থেকেই এলাকার মানুষ তাঁর পাশে ছিলেন। অভয়ার মা, তাই খানিকটা বাড়তি ভালোবাসাও পেয়েছিলেন রত্নাদেবী।
তবে ভোটের একেবারে মুখে সিপিএম সম্পর্কে তাঁর করা মন্তব্য ও তাঁর উসকানিতে সিপিএমের এক তরুণী কর্মী ও তাঁর বাবাকে মারধরের ঘটনায় দানা বাঁধে বিতর্ক। রত্নাদেবীর আচরণে বিরক্ত হন এলাকার মানুষরাই। সোশাল মিডিয়ায় ওঠে নিন্দার ঝড়। মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়, কলকাতা দাশগুপ্ত-যারা প্রথমদিন থেকে অভয়ার হয়ে লড়েছেন, তাঁদের দল সম্পর্কে উসকানিমূলক মন্তব্য ভালোভাবে নেননি আমজনতা। ভোটবাক্সে তার প্রভাব পড়েছে বলে আশঙ্কাও রয়েছে। এসবের মাঝে ভোটগণনার আগের রাতে সোশাল মিডিয়ায় তাৎপর্যপূর্ণ পোস্ট রত্নাদেবীর। তিনি লিখলেন, 'আমার মেয়ের বিচার যতক্ষণ না পাব এ লড়াই চলছে এ লড়াই চলবে। শুধু তোমরা আমায় ভুল বুঝো না। তোমরা প্রথম দিন থেকে যে রকম আমার সঙ্গে ছিলে, সেরকম শেষ দিন পর্যন্ত সঙ্গে থেকো।'
