বঙ্গ রাজনীতিতে সৌজন্য ইদানিং বিরল হয়ে গিয়েছে - এমন নিন্দেমন্দ যাঁরা করেন, তাঁদের সেসব কথা নেহাৎই সমালোচনা। নির্বাচনী আবহেও দিব্যি বাংলার আনাচেকানাচে যুযুধান প্রার্থীদের মধ্যে সৌজন্য বিনিময়ের হাজার ছবি দেখা যাচ্ছে। তবে তার বেশিরভাগটাই শাসক শিবিরের দৌলতে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। কখনও প্রতিদ্বন্দ্বী সিপিএম প্রার্থীর সঙ্গে হাত মিলিয়ে নিজ নিজ পথে প্রচার করা, কখনও বিরোধী নেতানেত্রীদের বাড়ি গিয়ে তৃণমূল প্রার্থীদের জনসংযোগ। মোটেই বিরল নয়, বরং প্রায় রোজকার ছবিতে পরিণত হয়েছে। রবিবার তেমনই ছবি দেখা গেল খাস কলকাতার রাসবিহারী কেন্দ্র। কলকাতা পুরসভার দীর্ঘদিনের সিপিএম কাউন্সিলর থেকে বামমনস্ক অভিনেতার বাড়ি ঘুরে ঘুরে প্রচার সারলেন তৃণমূল প্রার্থী দেবাশিস কুমার।
বাজারে ঘুরে প্রচার সারলেন রাসবিহারীর তৃণমূল প্রার্থী। নিজস্ব ছবি
মধুছন্দা দেব। কলকাতা পুরসভার ৯২ নং ওয়ার্ডের দীর্ঘদিনের সিপিএম কাউন্সিলর। তৃণমূলের দাপটেও পুরনির্বাচনে যে দু-এক জায়গায় বামেদের দুর্গ অটুট রয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম ৯২ নং ওয়ার্ড। রবিবার দেখা গেল, প্রবীণা 'দিদি'র বাড়িতে গেলেন তৃণমূল প্রার্থী দেবাশিস কুমার। সামগ্রিক খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি তাঁকে ভোট দেওয়ার আবেদনও জানালেন। এরপর দেখা গেল, নিজের এলাকা বাসিন্দা টলি সেলেব পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে দেখা গেল তৃণমূল প্রার্থীকে। পরমব্রত বামমনস্ক বলে বরাবর পরিচিত। মাঝে তাঁর সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠতা এবং বিভিন্ন সরকারি মঞ্চে তাঁর উপস্থিতিতে ভোটের আগে জোর জল্পনা উঠেছিল, পরমব্রত তৃণমূলে যোগ দিচ্ছেন। কিন্তু সেসব নিছকই জল্পনা। বরং নিজ নিজ রাজনৈতিক আদর্শে অবিচল থেকে যে যাঁর মতপ্রকাশ করেছেন।
পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে প্রচারে দেবাশিস কুমার। নিজস্ব ছবি
যদিও রবিবার দেবাশিস কুমার পরমব্রতর বাড়িতে গেলে দেখা যায়, অভিনেতা রীতিমতো সমাদর করেন। একে অপরের সঙ্গে হাত মিলিয়ে, আলিঙ্গন করে সৌজন্য বিনিময় করলেন। এখানেই শেষ নয়, রাসবিহারী কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী স্বপন দাশগুপ্তের বাড়িতেও তৃণমূল প্রার্থী জনসংযোগ সেরেছেন বলে জানা যায়। আর এখানেই ব্যালটের যুদ্ধের আগেই তৃণমূল প্রার্থী কয়েকধাপ এগিয়ে গেলেন, বলাই বাহুল্য। সারাবছর নিজ নিজ এলাকায় জনসংযোগে দড় তৃণমূলের নেতারা। তাই নির্বাচনী আবহেও তাঁরা বেশ ফুরফুরে মেজাজেই প্রচার সারেন। আর এক্ষেত্রে বিরোধীদেরই অগ্রাধিকার দিলেন দেবাশিস কুমার। এরপরও কি নিন্দুকরা বলবেন বাংলায় রাজনৈতিক সৌজন্য নজিরবিহীন?
