আইএসএফকে নিয়ে সিপিএমের মাখামাখিতে চরম ক্ষুব্ধ বামফ্রন্টের শরিকরা। একাধিক আসন রফা নিয়ে জটিলতা এমন জায়গায় পৌঁছল যে, শরিকদের কোটার আসন আইএসএফ না ছাড়লে আলাদা করেও প্রার্থী দিয়ে দিতে পারে শরিকদল। আরএসপি ও ফরওয়ার্ড ব্লকের কোটার আসন যদি সিপিএম দিতে রাজি না হয়, কিংবা আইএসফের হাতে দেয় তা হলে সেরকম কয়েকটা আসনে আলাদা প্রার্থীও ঘোষণা করে দিতে পারে আরএসপি ও ফরওয়ার্ড ব্লক। অর্থাৎ, আসন সমঝোতা না হলে শরিকরা কয়েকটা আসনে প্রার্থী ঘোষণা করে দেবে। যেখানে বন্ধুত্বপূর্ণ লড়াই হবে। সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের আইএসএফ প্রীতি নিয়ে শরিকরা এতটাই ক্ষুব্ধ যে, এমন সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বামফ্রন্টের শরিকদলগুলির বক্তব্য, শরিকরা পরে, আইএসএফের কথাকে আগে গুরুত্ব দিচ্ছে সিপিএম। এতে তারা অত্যন্ত ক্ষুব্ধ। রীতিমতো ক্ষোভ প্রকাশ করে আরএসপি নেতৃত্বের তরফে বুধবার চিঠি দেওয়া হয়েছে ফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসুকে।
আরএসপির সঙ্গে ৬টি আসন নিয়ে জট রয়েছে। সেগুলি হল কালচিনি, আলিপুরদুয়ার, বাসন্তী, বোলপুর, কালীগঞ্জ ও বৈষ্ণবনগর। এর মধ্যে কালচিনি, বাসন্তী ও বোলপুর আসনটি আইএসএফ দাবি করেছে। কালীগঞ্জ, বৈষ্ণবনগর ও আলিপুরদুয়ার চাইছে সিপিএম। আরএসপির তরফে বলা হয়েছে, এই ৬টি আসন ছাড়া তাদের পক্ষে অসম্ভব। বাকি ১৩টি আসন নিয়ে অবশ্য রফা হয়েছে তাদের সিপিএমের সঙ্গে।
আরএসপির সঙ্গে ৬টি আসন নিয়ে জট রয়েছে। সেগুলি হল কালচিনি, আলিপুরদুয়ার, বাসন্তী, বোলপুর, কালীগঞ্জ ও বৈষ্ণবনগর। এর মধ্যে কালচিনি, বাসন্তী ও বোলপুর আসনটি আইএসএফ দাবি করেছে। কালীগঞ্জ, বৈষ্ণবনগর ও আলিপুরদুয়ার চাইছে সিপিএম। আরএসপির তরফে বলা হয়েছে, এই ৬টি আসন ছাড়া তাদের পক্ষে অসম্ভব। বাকি ১৩টি আসন নিয়ে অবশ্য রফা হয়েছে তাদের সিপিএমের সঙ্গে।
সূত্রের খবর, আসন বণ্টন নিয়ে বামফ্রন্টের বৈঠকে নিজেদের বক্তব্য রেখেছেন আরএসপির রাজ্য সম্পাদক তপন হোড় এবং রাজ্যনেতা রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্যদিকে, ফরওয়ার্ড ব্লকের দাবি করা দেগঙ্গা, পাঁচলা ও মধ্যমগ্রাম আসনে ভাগ বসাতে চাইছে আইএসএফ। ফরওয়ার্ড ব্লক জানিয়ে দিয়েছে দেগঙ্গা যদি আইএসএফকে ছাড়া হয় তা হলে পাঁচলায় তারা লড়বে। মধ্যমগ্রাম আসনও ছাড়তে নারাজ ফরওয়ার্ড ব্লক। বৈঠকে ফরওয়ার্ড ব্লকের তরফে ছিলেন রাজ্য সম্পাদক নরেন চট্টোপাধ্যায় ও সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়। আইএসএফের প্রতি সিপিএমের দুর্বলতা নিয়ে এদিন রীতিমতো ক্ষোভ সামনে এসেছে ফ্রন্ট শরিকদের।
এক শরিকদলের শীর্ষ নেতার কথায়, "আমরা এত বছর ধরে বামফ্রন্টে নানা সঙ্কট-সংগ্রামে একসঙ্গে যুক্ত থেকেছি। সেখানে আমাদের বোঝাপড়াকে অস্বীকার করে নতুন যারা উঠে এসেছে, একটা সম্প্রদায়কে খুশি করার চেষ্টা হচ্ছে। এটা বামফ্রন্টের ক্ষেত্রে দুর্বলতার জায়গা।" ওই শরিক নেতার তোপ, "আইএসএফ সবে এসেছে। শ্রমিক-কৃষক আন্দোলনে তাদের কী ভূমিকা আছে। এটা মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। বামফ্রন্টের মধ্যে অভূতপূর্ব পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে।"
এক শরিকদলের শীর্ষ নেতার কথায়, "আমরা এত বছর ধরে বামফ্রন্টে নানা সঙ্কট-সংগ্রামে একসঙ্গে যুক্ত থেকেছি। সেখানে আমাদের বোঝাপড়াকে অস্বীকার করে নতুন যারা উঠে এসেছে, একটা সম্প্রদায়কে খুশি করার চেষ্টা হচ্ছে। এটা বামফ্রন্টের ক্ষেত্রে দুর্বলতার জায়গা।"
শরিকদলের আরেক নেতার কথায়, "শরিকদের রাজনৈতিক মর্যাদা দিয়ে আসন বণ্টন করা হোক।" দলের অন্দরে ক্ষোভ প্রকাশ করলেও শরিক নেতারা অবশ্য প্রকাশ্যে কেউ মন্তব্য করতে চাননি। উল্লেখ্য, একুশের ভোটের আগে সংযুক্ত মোর্চার মঞ্চে ব্রিগেডের মাঠে ভাষণ দিচ্ছিলেন তৎকালীন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরি। ঠিক সেই সময়ই ভিড়ের মধ্যে থেকে মঞ্চে উঠে আসেন আব্বাস সিদ্দিকি। তাঁকে দেখেই 'ভাইজান, আব্বাস' রবে গমগম করে ওঠে গোটা ব্রিগেড চত্বর। তাতে মাঝপথে বক্তৃতা থামিয়ে দিতে হয়েছিল অধীরকে। আব্বাসকে মঞ্চে স্বাগত জানাতে এগিয়ে যান মহম্মদ সেলিম, বিমান বসুও। এমন পরিস্থিতিতে বক্তৃতা শেষ না করেই ডায়াস ছেড়ে চলে যেতে উদ্যত হয়েছিলেন অধীর।
