বাংলায় ভোট ঘোষণার পরে অভিযোগ পাল্টা অভিযোগে সরগরম হয়ে উঠেছে রাজ্য সহ জেলার রাজনীতি। এবার নতুন ফের বিতর্ক তৈরি হয়েছে নন্দীগ্রামে। রাজ্যের অন্যতম 'হেভিওয়েট' কেন্দ্র এটি। ভোটের মুখে তৃণমূলের পক্ষ থেকে নন্দীগ্রামের মহিলা ভোটারদের নিয়ে দিঘার জগন্নাথ মন্দির দর্শন করানো হয়। যা নিয়ে নির্বাচন বিধি ভঙ্গের অভিযোগ তুলেছে বিজেপি। শুধু তাই নয়, এই বিষয়ে বিজেপির পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। যা নিয়ে পালটা সরব হয়েছে শাসকদল তৃণমূল।
এবারও নন্দীগ্রাম বিধানসভা আসন থেকে বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। পালটা তৃণমূলের 'তরুপের তাস' একদা শুভেন্দু ঘনিষ্ঠ পবিত্র কর। নন্দীগ্রামের 'ঘরের ছেলে' তিনি। রাজনৈতিকভাবে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ নন্দীগ্রাম। আর সেখানেই মহিলাদের দিঘায় নিয়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিজেপির অভিযোগ, নির্বাচনী আচরণবিধি চালু থাকার মধ্যেই নন্দীগ্রামের মহিলাদের জগন্নাথ মন্দির দর্শনের নাম করে গাড়িতে করে দিঘায় নিয়ে গিয়ে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছে তৃণমূল, যা নির্বাচনী বিধিভঙ্গের সামিল। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপও দাবি করেছে জেলা বিজেপি নেতৃত্ব।
তমলুক সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সহ-সভাপতি প্রলয় পাল ও নন্দীগ্রাম বিধানসভার বিজেপি অবজারভার অভিজিৎ মাইতি সাংবাদিক বৈঠক করে জানান, রাজনৈতিক লড়াই হোক নীতির ভিত্তিতে, ভোটারদের প্রলোভন দেখিয়ে প্রভাবিত করা গণতন্ত্রের পরিপন্থী।
অন্যদিকে, বিজেপির এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে তৃণমূল। নন্দীগ্রাম ১ ব্লক তৃণমূলের কোর কমিটির সদস্য বাপ্পাদিত্য গর্গ বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিভিন্ন প্রকল্পের মধ্য দিয়ে নন্দীগ্রামের মা-বোন- দিদিভাইরা আর্থিকভাবে স্বনির্ভর। বিজেপির এই অভিযোগ ভিত্তিহীন। মহিলারা নিজেদের উদ্যোগে যাচ্ছেন জগন্নাথ প্রভুর আশীর্বাদ নিতে। একটু অপেক্ষা করুন জগন্নাথ দেবের আশীর্বাদে শুভ শক্তি প্রতিষ্ঠা হবে এবং সাম্প্রদায়িক শক্তির বিনাশ ঘটবে।
