ভোট ঘোষণার পর থেকে বাংলায় একের পর এক আধিকারিক বদল। নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেই অভিযোগ। এবার এই অভিযোগে কলকাতা হাই কোর্টের (Calcutta HC) দ্বারস্থ আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার প্রধান বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি। রাজ্যের সঙ্গে কোনও আলোচনা না করেই আইপিএস, আইএএসদের বদলি করা হয়েছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে মামলায় পার্টি করার আবেদনও করা হয়েছে। আগামী সোমবার মামলার শুনানির সম্ভাবনা।
ভোট (West Bengal Elections 2026) ঘোষণার দিনই তাৎপর্যপূর্ণভাবে রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব-সহ একাধিক পুলিশ কর্তাকে সরিয়ে দেয় নির্বাচন কমিশন। এমনকী কলকাতা পুলিশ কমিশনার, ডিজি-সহ একাধিক জেলার পুলিশ সুপারকেও রাতারাতি বদল করার নির্দেশ দেয় কমিশন। সরানো হয়েছে রায়গঞ্জ, মুর্শিদাবাদ, বর্ধমান, প্রেসিডেন্সি এবং জলপাইগুড়ির রেঞ্জের ডিআইজিকে। বদলি নিয়ে রাজ্যের সঙ্গে কোনও আলোচনা করা হয়নি বলেই অভিযোগ উঠছে। তা নিয়ে ইতিমধ্যেই সুর চড়িয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও।
রাজ্যের সঙ্গে আলোচনা না করেই কেন শীর্ষ আধিকারিকদের বদল, তা নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠিও দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, মঙ্গলবার প্রার্থী ঘোষণার দিনেও বিজেপি এবং কমিশনকে একযোগে আক্রমণ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ”বাংলাকে টার্গেট করা হচ্ছে।” তিনি বলেন, ”আপনাদের অনেক পরিকল্পনা, অনেক চক্রান্ত আছে। কিন্তু মনে রাখবেন, যাদের বদলি করেছেন, সবাই আমাদের অফিসার। বিজেপির জেতার সম্ভাবনা নেই। এসআইআর, গ্যাসের লাইনে দাঁড় করিয়ে মানুষকে হেনস্তা করা! নিজেরা বেলাইন হয়ে যাবেন। এটা বাংলা অস্মিতা রক্ষা, বাঙালি অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। এই লড়াইয়ে বাংলা, বাংলার মা-মাটি-মানুষ জিতবে। দিল্লি কা লাড্ডু জিতবে না। আমাদের হাত থেকে ম্যান পাওয়ার কাড়তে পারেননি। ভোট মানুষ দেয়, মনে রাখবেন।” এবার এই ক্ষোভের জল গড়াল হাই কোর্টে।
