দু'দফা ভোটের (WB Assembly Election 2026) পর আরও কড়া নির্বাচন কমিশন। কোথায় কোথায় পুনর্নির্বাচন, তা ময়দানে ঘুরে সিদ্ধান্ত নেবেন বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত (Subrata Gupta)। ভোটের পরের দিন মূলত স্ক্রুটিনির কাজ করা হয়ে থাকে। কিন্তু এবার সেই কাজ ময়দানে নেমে করতে হবে বলে নির্দেশ মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের। জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে সুব্রত গুপ্তকে ফোন করেন তিনি। দ্বিতীয়দফার ভোটের পুঙ্খানুপুঙ্খ খোঁজ নেন। শুধু তাই নয়, যে সমস্ত জায়গা থেকে অভিযোগ উঠেছে, সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি যাতে সরেজমিনে খতিয়ে দেখা হয়, সেই নির্দেশও বিশেষ পর্যবেক্ষককে জ্ঞানেশ কুমার দেন বলে জানা যাচ্ছে।
প্রথমদফার ভোটে দাবি ওঠেনি। কিন্তু বুধবার অর্থাৎ দ্বিতীয়দফার ভোট মিটতেই ৭৭টি বুথে পুনর্নির্বাচনের দাবি উঠেছে। আর এই বুথের সবগুলিই দক্ষিণ ২৪ পরগনার চারটি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে। কমিশন সূত্রে খবর, সবচেয়ে বেশি অভিযোগ এসেছে ৩২টি। তাও ফলতা থেকে। এরপর রয়েছে ডায়মন্ডহারবার ২৯টি, মগরাহাট থেকে ১৩ ও বজবজ থেকে ৩টি অভিযোগ জমা পড়েছে। কোথাও ইভিএমে টেপ লাগিয়ে দেওয়া, কোথাও আবার ইভিএমে আতর লাগিয়ে দেওয়া বা ক্যামেরায় রুমাল চাপা দেওয়ার অভিযোগ এসেছে। অন্যদিকে ভোটের অন্তিম লগ্নে একটি বিস্ফোরক অভিযোগ জমা পড়ে নির্বাচন কমিশনে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ভোটারের জামার পকেটে স্পাই ক্যামেরা রাখা হয়েছে। যাতে শনাক্ত করা যায়, ভোটার কোন দলকে ভোট দিচ্ছেন! ডায়মন্ডহারবারের মগরাহাট পশ্চিম থেকে এই অভিযোগ জমা পড়ে কমিশনে। একের পর এক অভিযোগ নিয়ে রীতিমতো কড়া নির্বাচন কমিশন। জানা যাচ্ছে, যে সমস্ত জায়গাগুলি থেকে এই সমস্ত অভিযোগ এসেছে সেখানে আজ পরিদর্শনে যাবেন বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত। থাকবেন পর্যবেক্ষকরাও। বুথে গিয়ে সরজমিনে অভিযোগ খতিয়ে দেখবেন সুব্রত গুপ্ত। এরপরেই কটা বুথে পুনর্নির্বাচন, তা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন। এই প্রসঙ্গে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল জানিয়েছেন, রিপোল নিয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। স্কুটিনি করা হচ্ছে। সেই রিপোর্ট দিল্লিতে পাঠানো হবে। এরপরেই পুনর্নির্বাচন নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
