রাজ্যজুড়ে বন্ধ মদের দোকান। আজ, বৃহস্পতিবার থেকে প্রথম দফার নির্বাচনী এলাকায় শর্তসাপেক্ষে বন্ধ বাইক চলাচল। দিঘা-সহ সমুদ্র পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে পর্যটকদের ফাঁকা করার নির্দেশ। ভোটের দিন বুথের ১০০ মিটারের মধ্যে ভোটার ছাড়া অন্য কারও প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা। ভোটার স্লিপ বাধ্যতামূলকভাবে বিলি করতে হবে বিএলওদের। কোনও ঘটনা ঘটলে পুলিশ অনুমতি না নিয়েই ব্যবস্থা নিতে পারবে কেন্দ্রীয় বাহিনী।
'ছাব্বিশের নির্বাচন (West Bengal Elections 2026) যুদ্ধে' একের পর এক বেনজির সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। সমস্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের লক্ষ্যে। এমনটাই দাবি নির্বাচন কমিশনের। নির্বাচনের আগে কী কী নিয়মে বদল করল কমিশন?
প্রথম দফার তিনদিন ও দ্বিতীয় দফার ৯ দিন আগেই রাজ্যের সব মদের দোকান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যদিও কমিশন সাধারণত ভোট গ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে সংশ্লিষ্ট এলাকায় বার ও মদের দোকান বন্ধ করে। এবার সেই নিয়মে বদল করা হয়েছে। জানানো হয়েছে, গোটা রাজ্যে প্রথম দফায় ২০-২৩ এপ্রিল বন্ধ মদের দোকান ও পানশালা। দ্বিতীয় দফায় ২৫-২৯ এপ্রিল বন্ধ থাকবে মদের দোকান ও পানশালা। ৪ মে ভোটগণনার দিন সারাদিন বন্ধ মদের দোকান ও পানশালা।
ভোটের দু’দিন আগে থেকেই মোটরবাইক চলাচলে কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করেছে কমিশন। নির্বাচনের দু'দিন আগে বাইক র্যালিতে নিষেধাজ্ঞা। এমার্জেন্সি ছাড়া সন্ধে ৬টা থেকে ভোর ৬টা অবধি বাইক চালানোয় নিষেধাজ্ঞা। একইভাবে এমার্জেন্সি ছাড়া সকাল ৬টা থেকে সন্ধে ৬টা অবধি বাইকে দু'জনে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। নির্বাচনের দিন ভোটদানের জন্য সকাল ৬ থেকে সন্ধে ৬ পর্যন্ত বাইক চালানোয় অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া এমার্জেন্সিতে ছাড় মিলবে। তবে যাঁরা বাইক বিধিনিষেধে ছাড় চান, তাঁদের স্থানীয় প্রশাসন থেকে অনুমতি নিতে হবে। প্রথম দফার ১৫২টি আসনে এই নিয়ম ইতিমধ্যেই জারি হয়েছে। বাকি ১৪২টি আসনের ক্ষেত্রে ভোটের দুই আগে অর্থাৎ ২৭ তারিখ থেকে এই নিয়ম চালু হবে।
এ দিকে ২১ তারিখ বিকেল থেকে ২৩ পর্যন্ত দিঘা, মন্দারমণি, তাজপুরের মতো পর্যটনস্থলগুলির হোটেল, গেস্ট হাউসগুলিতে বাইরের কোনও ব্যক্তি থাকতে পারবেন না বলেই নির্দেশ জারি করেছে কমিশন। থাকতে দেওয়া হবে না কোনও রাজনৈতিক দলের প্রচারককেও। নিয়ম লঙ্ঘন হলে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ২০২৩ সালের ২২৩ নম্বর ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
ভোটের দিন বুথের ১০০ মিটারের মধ্যে ভোটার ছাড়া অন্য কারও প্রবেশ নিষেধ করা হয়েছে। এদিকে ভোটার স্লিপ বাধ্যতামূলকভাবে বিলি করতে হবে বিএলওদের। নির্দেশ জারি করে কমিশন আরও জানিয়েছে, প্রথম দফা ভোটের তিন দিন আগে অলিখিতভাবে থানার দখল কার্যত আধা সামরিক বাহিনীর হাতে তুলে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তাদের নির্দেশে বলা হয়েছে, এলাকায় কোনও ঘটনা ঘটলে পুলিশের অনুমতি না নিয়েই ব্যবস্থা নিতে পারবে বাহিনী। অথচ খারাপ কিছু হলে ফল ভুগতে হবে থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ আধিকারিককেই। সব মিলিয়ে ভোটের আগে একাধিক বেনজির সিদ্ধান্ত নিয়ছে কমিশন।
