shono
Advertisement
Mamata Banerjee

'লাটসাহেব আমাকে গালি দিয়েছেন', রাজ্যপাল পরিবর্তনের ডাক দিতেই নাম না করে খোঁচা মমতার

বাংলার অতীত এবং বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তরুণ প্রজন্মকে পরিবর্তনে শামিল হওয়ার ডাক দিয়েছেন রাজ্যপাল আর এন রবি। পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে লোকভবনের এক অনুষ্ঠানে একথা বলেন তিনি।
Published By: Sayani SenPosted: 06:07 PM Apr 15, 2026Updated: 06:23 PM Apr 15, 2026

বাংলার অতীত এবং বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তরুণ প্রজন্মকে পরিবর্তনে শামিল হওয়ার ডাক দিয়েছেন রাজ্যপাল আর এন রবি। পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে লোকভবনের এক অনুষ্ঠানে একথা বলেন তিনি। সেই মন্তব্যের পরই রাজ্যপালের নাম না করে ফুঁসে উঠলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। ভোটের মুখে ফের রাজ্যপাল বনাম মমতা, উঠছে প্রশ্ন।

Advertisement

রাজ্যপাল আর এন রবি আরও বলেন, "যখন গোটা দেশ এতটা এগিয়ে গিয়েছে, তখন বাংলা পিছিয়ে থাকতে পারে না। বাংলাকেও সঙ্গী হতে হবে। নেতৃত্ব দিতে হবে হয়তো। এগিয়ে আসুন। শপথ নিন।"

লোকভবনের অনুষ্ঠানে রাজ্যপাল রাজ্যবাসীর উদ্দেশে দীর্ঘ বার্তা দেন। তাঁর মতে, "ছয়ের দশকে ১০ শতাংশের বেশি জিডিপি আসত বাংলা থেকে। এই মাটি শিল্প, সংস্কৃতি এবং বৌদ্ধিক প্রাণবন্ত। আটের দশক মোটে চারটি রাজ্যের আয় বাংলার থেকে বেশি ছিল। বর্তমানে ১৫টি রাজ্যের আয় বাংলার চেয়ে বেশি। জাতীয় পুঁজিতে ১০.৬ শতাংশ থেকে বাংলা ৫ শতাংশে নেমে এসেছে। স্কুল, কলেজে পড়ুয়ার সংখ্যা জাতীয় অনুপাতের তুলনায় কম। কোথায় নেমে এসেছি আমরা। যে রাজ্য গোটা দেশকে প্রগতির পথ দেখাত, দুর্ভাগ্যজনকভাবে আজ পরিস্থিতি খুব খারাপ।"

তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে রাজ্যপাল আর এন রবি আরও বলেন, "ইতিবাচক হওয়ার প্রতিজ্ঞা করুন। পরিবর্তনের অংশ হোন। গৌরব পুনরুদ্ধার, উন্নততর হওয়ার পরিবর্তনের জন্য আমাদের প্রতিজ্ঞা করতেই হবে। যখন গোটা দেশ এতটা এগিয়ে গিয়েছে, তখন বাংলা পিছিয়ে থাকতে পারে না। বাংলাকেও সঙ্গী হতে হবে। নেতৃত্ব দিতে হবে হয়তো। এগিয়ে আসুন। শপথ নিন।"

মমতা বলেন, "বাংলার লাটসাহেব। সবচেয়ে বড় বাড়িতে যিনি থাকেন, আমি নাম নেব না, আজ বিবৃতি দিয়েছেন। আজ নববর্ষ, বাংলার মানুষকে অভিনন্দন জানান। আমাকে গালি দিয়েছেন। আগে তো অশান্তি হত না। এখন আপনাদের অধীনে আসার পর প্রতিদিন অশান্তি হচ্ছে। এটা নির্বাচন কমিশের বিরুদ্ধে যায়। আমাদের হাতে এখন আইনশৃঙ্খলা নেই। নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্রের কাছে রয়েছে।"

এই মন্তব্যের মাত্র কয়েকঘণ্টা পরই উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুর থেকে তোপ দাগেন। কারও নাম না করে মমতা বলেন, "বাংলার লাটসাহেব। সবচেয়ে বড় বাড়িতে যিনি থাকেন, আমি নাম নেব না, আজ বিবৃতি দিয়েছেন। আজ নববর্ষ, বাংলার মানুষকে অভিনন্দন জানান। আমাকে গালি দিয়েছেন। আগে তো অশান্তি হত না। এখন আপনাদের অধীনে আসার পর প্রতিদিন অশান্তি হচ্ছে। এটা নির্বাচন কমিশের বিরুদ্ধে যায়। আমাদের হাতে এখন আইনশৃঙ্খলা নেই। নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্রের কাছে রয়েছে।" প্রশ্ন উঠেছে, তবে কি মমতার নিশানায় রাজ্যপাল আর এন রবি?

বলে রাখা ভালো, বাংলা রাজ্য-রাজ্যপালের সংঘাতের সাক্ষী হয়েছে আগেই। জগদীপ ধনকড়ের সময় নবান্ন ও রাজভবনের সম্পর্ক মোটেও ভালো ছিল না। এরপর সিভি আনন্দ বোসের সঙ্গেও সংঘাত হয়েছে যথেষ্ট। যদিও তাঁর ইস্তফার সময় বোসের পাশে দাঁড়িয়ে সরব হন খোদ মমতা। গত ১৩ মার্চ রাজ্যপাল হিসাবে দায়িত্ব নেন আর এন রবি। মাঝে গত ২১ মার্চ লোকভবনে রাজ্যপালের সঙ্গে মমতার (Mamata Banerjee) সাক্ষাতও হয়। তবে দু'জনের মধ্যে সংঘাত এখনও সেভাবে দেখা যায়নি।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement