বিজেপির প্রচার মাইকের 'তাণ্ডবে'র জন্য নিজের কেন্দ্র ভবানীপুরে গতকাল, শনিবার সভা করতে পারেননি তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)! সাধারণ মানুষ, তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশ্যে ক্ষমাও চেয়েছিলেন নেত্রী। বলেছিলেন, "আমাকে ক্ষমা করবেন। আমি কাল এখানে র্যালি করে দেব।" সেই কথা রাখলেন জননেত্রী। আজ রবিবার ভবানীপুরের চক্রবেড়িয়াতেই পদযাত্রার মধ্যে দিয়েই রবিবাসরীয় প্রচার শুরু করেন তিনি।
এদিন বিকেল ৪টে ১৫মিনিট সময়ে চক্রবেড়িয়া মোড় থেকে শুরু হয় পদযাত্রা। কালীঘাট রোড, হরিশ মুখার্জি রোড-সহ একাধিক রাস্তা ধরে পদযাত্রা এগোতে থাকে। সর্বাগ্রে ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পদযাত্রা ও জননেত্রীকে দেখার জন্য রাস্তার দু'পাশে বহু মানুষ উপস্থিত ছিলেন। এদিন নেত্রীকে দেখার জন্য আমজনতার উন্মাদনা ছিল নজরকাড়ার মতো। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও সাধারণ মানুষের সঙ্গে এদিন জনসংযোগ করেন।
পদযাত্রায় নেত্রীর সঙ্গে অসংখ্য সাধারণ মানুষ। নিজস্ব চিত্র
নিজের কেন্দ্র ভবানীপুরে এবার অন্য ধরনের প্রচার করছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। এলাকার বহুতলগুলিতে গিয়ে বাসিন্দাদের সঙ্গে জনসংযোগ করেছিলেন তিনি। এদিনও পদযাত্রার সময়ে সেই ঘটনা দেখা গিয়েছে। সাধারণত সুপ্রিমো পদযাত্রার সময় হাঁটার গতি অনেকটাই বেশি থাকে। তবে এদিনের পদযাত্রায় হাঁটার গতি ছিল তুলনামূলক কম। ধীর পায়ে হাঁটার সময় তিনি জনসাধারণের উদ্দেশ্যে হাত নেড়েছেন। কখনও রাস্তায় থেমে সাধারণ মানুষের সঙ্গে এগিয়ে গিয়ে কথা বলেছেন। তাঁকে পাশে পেয়ে উৎফুল্ল হন আমজনতাও।
এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) পা ছুঁয়ে প্রমাণ করতে গিয়েছিলেন এক মহিলা। নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁকে আটকেছিলেন। সেসময় নেত্রী নিরাপত্তারক্ষীদের ওই মহিলাকে ছেড়ে দিতে বলেন। তিনি নেত্রীর পা ছুঁয়ে প্রণাম করেন। হাজরা ফায়ার ব্রিগেডের সামনে ওই পদযাত্রা শেষ হয়। প্রায় ৯০ মিনিট ওই পদযাত্রা হয়েছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভবানীপুরের 'ঘরের মেয়ে'। তাঁকে দেখার এদিন রবিবার বিকেলে আবালবৃদ্ধবনিতারা উপস্থিত ছিলেন। বাড়ির বারান্দা, ছাদের মানুষজনকে ভিড় করে অপেক্ষা করতে দেখা যায়।
নেত্রীকে শুভেচ্ছা স্থানীয়দের। নিজস্ব চিত্র
প্রসঙ্গত, গতকাল, শনিবার জনসভা ছিল চক্রবেড়িয়ায় স্বামী নারায়ণ মন্দিরের কাছে। কিন্তু সেখানকার সভা পণ্ড হয়ে যায় বিজেপির মাইক ‘আস্ফালনে’! অভিযোগ, তৃণমূলনেত্রী তথা ভবানীপুরের প্রার্থীর সভার সামনেই উচ্চস্বরে মাইক বাজাচ্ছিল বিজেপি। তাতে অত্যন্ত বিরক্ত হন মমতা। বলেন, " এভাবে মিটিং করা সম্ভব নয়। আমায় ক্ষমা করবেন। এর প্রতিবাদে আমায় ভোটটা দেবেন।” ক্ষুব্ধ মমতা আরও দাবি, “আমি সব অফিশিয়াল পারমিশন নিয়েছি। তার পরেও এই মনোভাব? ওরা পশ্চিমবঙ্গকে দখল করতে জোর করে যা করছে, তা ঠিক নয়। ওরা যদি আমার কেন্দ্রে এটা করতে পারে…!” এরপরই সভা ছেড়ে বেরিয়ে যান তিনি।
