রাত পোহালেই ভোটের রেজাল্ট। ঠিক তার আগেই আসানসোল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের গণনাকেন্দ্রের সামনে চরম উত্তেজনা। নির্বাচন কমিশনের স্টিকার লাগানো একটি গাড়ি থেকে মুখবন্ধ খামে উদ্ধার মোবাইল। কারচুপির অভিযোগ তুলে সরব শাসক-বিরোধী সবপক্ষই।
রবিবার আসানসোল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের সামনে গাড়িগুলিতে রুটিন চেকিং চালাচ্ছিলেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মীরা। সেই সময়ই রানিগঞ্জ বিধানসভা এলাকায় একটি গাড়ি গণনাকেন্দ্রের ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করলে সেটিকে আটকানো হয়। গাড়িটিতে তল্লাশি চালাতেই বেরিয়ে আসে একটি সিল করা বড় খাম। রাজনৈতিক দলের কর্মীদের অভিযোগ, "ওই খামটি খোলার পরই তার ভিতর থেকে বেশ কিছু নথিপত্রের সঙ্গে একটি সচল স্মার্টফোন পাওয়া যায়। মোবাইলটি একটি অনলাইন শপিং সাইটের প্যাকেটে মোড়া ছিল ও তাতে আইএমইআই নম্বরও লেখা ছিল।" সায়ন্তন তেয়ারি নামক এক রাজনৈতিক কর্মী জানান,"ইলেকট্রনিক ডিভাইস, যাতে ব্লুটুথ ও ব্রাউজার রয়েছে, সেটি কেন এভাবে খামের ভিতরে লুকিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল? যদি কোনও অফিসারের ফোন হয়, তবে খামে মুড়িয়ে কেন নিয়ে যাওয়া হবে?"
ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই গণনা কেন্দ্রের বাইরে বিক্ষোভ শুরু হয়। বিজেপি-তৃণমূল সব রাজনৈতিক কর্মীদের দাবি, এই ফোন ব্যবহার করে গণনার তথ্যে কারচুপি করার পরিকল্পনা করা হচ্ছিল। তাঁদের অভিযোগ, কর্তব্যরত পুলিশ ও নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকরা এই বিষয়ে কোনও সদুত্তর দিতে পারেননি, বরং তারা তড়িঘড়ি ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যান। বিক্ষোভকারীরা মোবাইলটি বাজেয়াপ্ত করে 'সিজার লিস্ট' তৈরি করার দাবি জানিয়েছেন। ফোনের মালিক কে ও কেন সেটি নথির আড়ালে লুকানো ছিল, তা নিয়ে তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।
