বাগদার পর এবার গাইঘাটা। শুক্রবার গভীর রাতে দ্বিতীয় অতিরিক্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হতেই মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ল মতুয়া মহলে! দেখা গেল, গাইঘাটার চাঁদপাড়ার ১৭৩ নম্বর বুথ এলাকার ১৮৬ জনের মধ্যে বৈধ ভোটার মাত্র তিন! বাকি ১৮৩ জনের নামই বাদ পড়ে গিয়েছে। এমন তালিকা থেকে স্বভাবতই ব্যাপক ক্ষুব্ধ মতুয়ারা। বড়সড় আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য কমিশন গঠিত ট্রাইব্যুনালে কীভাবে আবেদন করবেন, সে বিষয়েও ওয়াকিবহাল নন তাঁরা। সবমিলিয়ে চূড়ান্ত অনিশ্চয়তায় সময় কাটছে।
চাঁদপাড়ার ১৭৩ নং বুথে ১৮৬ জনের নাম বিচারাধীন ছিল চূড়ান্ত ভোটার তালিকায়। শুক্রবার দ্বিতীয় সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট বেরতেই দেখা গেল, তার মধ্যে ১৮৩ জনের নামই বাদ চলে গিয়েছে৷ বাদ পড়া মতুয়ারা জানাচ্ছেন, ''কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর আশ্বাস দিয়েছিলেন, কোনও হিন্দু মতুয়া উদ্বাস্তুদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাবে না৷ আমরা মন থেকে তাঁর কথায় ভরসা করেছিলাম। কিন্তু তাহলে কেন আমাদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ গেল? এর জবাব কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে দিতে হবে৷'' ১৭৩ নম্বর বুথের ঢাকুরিয়ার বাসিন্দার দেবপ্রসাদ বালা বলেন, ''আমার পরিবার যুগ যুগ ধরে ভোট দিয়ে আসছে। তবু আমার নাম বাদ গেল। আমরা মতুয়া, আমাদের পাড়ার প্রায় সব লোকেরই নাম বাদ গিয়েছে৷ শান্তনু ঠাকুরের কথা বিশ্বাস করে আমরা ভুল করেছি৷''
ওই এলাকার বাসিন্দা বৃদ্ধা লক্ষ্মীরানি সিংহ লস্করের কথায়, ''আমি বহুদিন ধরে ভোট দিয়ে আসছি। এ দেশের নাগরিক বলেই ভোট দিয়েছি। বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাই। আমি ১৯৬৫ সালের বাবার কাগজ দিয়েছি, জমির কাগজ দিয়েছি। তারপরও আমার নাম কেন বাদ দেওয়া হল?'' নিরঞ্জন শীল নামে আরেক বাসিন্দা বলছেন, ''আমার পরিবারের সবার নাম বাদ গিয়েছে। আমরা এখন কোথায় যাব? কী করব জানি না। আমরা তো আদি বাসিন্দা। তথাপি আমাদের সঙ্গে এমন কেন করা হলো? কার কাছে উত্তর চাইব?''
এই ঘটনা নিয়ে মহকুমা জুড়ে প্রচার শুরু করেছে তৃণমূল৷ পালটা বিজেপিকে আক্রমণ শুরু করেছে তৃণমূল নেতৃত্ব৷ তৃণমূলের বনগাঁ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস বলেন, ''বিজেপি মতুয়াদের ভোটের স্বার্থে ব্যবহার করে। এর আগে ২১ সালে, ২৪ সালে এদের ভোট নিয়ে ওরা বনগাঁতে জয়লাভ করেছিল। এখন চক্রান্ত করে মতুয়াদের নাম বাদ দিয়ে দিয়েছে৷ ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানোর চেষ্টা করছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যতদিন আছেন, এই মানুষগুলোর কোনও ক্ষতি হতে দেবেন না৷ কোনও সরকারি ভাতা বন্ধ হবে না।''
বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার বিজেপি সভাপতি বিকাশ ঘোষ বলেন, ''তৃণমূল চক্রান্তে করেছে বিএলওদের দিয়ে। সে কারণেই অনেকের নাম বাদ যাচ্ছে। যাঁরা হিন্দু সনাতন মতুয়া তাঁদের ভয়ের কিছু নেই। তাঁদের সবার নাম উঠে যাবে৷ কীভাবে ওঁদের নাম তাড়াতাড়ি ওঠে সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আমরাও কথা বলছি।'' এর আগে বাগদার পুরাতন হেলেঞ্চা এলাকায় ৪৩ জন বিচারাধীনের মধ্যে ৪২ জনের নাম বাদ দিয়েছিল। ফলে বনগাঁ মহকুমা জুড়েই মতুয়াদের ক্ষোভ তীব্র হচ্ছে৷ তাদের বক্তব্য, বিধানসভা ভোটে এর জবাব দিয়ে বিজেপিকে ভালো করে বুঝিয়ে দেবে।
