তৃণমূল কর্মীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারে চাঞ্চল্য ছড়াল পূর্বস্থলীতে। ক্লাবঘর থেকে মিলল দেহ। মৃতের নাম অসিত দেবনাথ। বিজেপি এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত, এমন অভিযোগ তৃণমূলের পক্ষ থেকে উঠেছে। ভোটের ফল বেরনোর পর অসিত দেবনাথের বাড়িতে বিজেপি হামলা চালিয়েছিল বলে অভিযোগ তৃণমূল কংগ্রেসের। ভোট পরবর্তী হিংসা পূর্বস্থলীতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ। পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। এটি খুন নাকি আত্মহত্যা? সেই তদন্ত শুরু হয়েছে।
বছর ৪০ বয়সী অসিত দেবনাথের বাড়ি পূর্বস্থলী ১ ব্লকের দোলগোবিন্দপুরে। পেশায় তিনি ডেকোরেটর ব্যবসায়ী ছিলেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে স্থানীয় এলাকার একটি ক্লাবঘরে তাঁর গলায় ফাঁস লাগানো ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। বিজেপি এই কাজের সঙ্গে যুক্ত, এমন অভিযোগ উঠেছে। পূর্বস্থলী দক্ষিণের তৃণমূল প্রার্থী তথা বিদায়ী মন্ত্রী স্বপন দেবনাথের অভিযোগ, " ভোটের ফল বেরনোর পর বিজেপির লোকজন অসিতের বাড়িতে হামলা চালায়। মেরে ওর মেয়ের হাতের আঙুল ভেঙে দিয়েছে। টানা হুমকি চলছিল।" তাঁর আরও বক্তব্য, "এখন বুঝতে পারছি না, ওকে মেরে টাঙিয়ে দেওয়া হল, নাকি লাগাতার হামলা হুমকি সহ্য করতে না পেরে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে আত্মঘাতী হল!" যদিও বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, মিথ্যা অভিযোগ আনছে তৃণমূল। এই ধরনের সংস্কৃতিতে তাঁরা বিশ্বাসী নয়।
স্বপন দেবনাথের অভিযোগ, গোটা বিধানসভা এলাকাজুড়ে তৃণমূল কর্মীদের উপর বিজেপি অত্যাচার চালাচ্ছে। এখনও পর্যন্ত ৫০ জন ঘরছাড়া। ভোটের ফল বেরনোর পর থেকেই ছোট-বড় মিলিয়ে ২৫টি তৃণমূল কার্যালয়ে তালা দেওয়া, দখল করা, আগুন লাগানো হয়েছে! বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি, মারধরের ঘটনাও চলছে! পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশ সুপার ও নাদনঘাট থানায় অভিযোগ জানানো হয়েছে। স্বপন দেবনাথ আরও বলেন, "আমার বিদ্যানগরের বাড়িতে গিয়েও হুমকি দিয়েছে।" যদিও এই বিষয়ে বিজেপির জয়ী প্রার্থী প্রাণকৃষ্ণ তপাদারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।বিজেপির ৩নং মণ্ডলের সভাপতি বাবুরাম বিশ্বাস বলেন, "এই এলাকায় তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব রয়েছে। যার জেরে নিজেদের মধ্যে প্রায়ই অশান্তি হয়। যদিও মৃত্যুর ঘটনা খুবই দুঃখজনক। তবে কীভাবে উনি মারা গিয়েছেন, জানা নেই।" তৃণমূল এলাকায় হামলা চালাচ্ছে, এমন অভিযোগ করছে বিজেপি।
