বাংলায় ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান। পরিবর্তনের ঢেউয়ে প্রথমবার রাজ্যে ফুটতে চলেছে পদ্ম। তবে সবার নজরে এখন ভবানীপুর। একদিকে তৃণমূল প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অন্যদিকে বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। একেবারে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। এই টানটান উত্তেজনার মধ্যেই মোবাইল ফোন হাতেই সাখাওয়াতের গণনা কেন্দ্রে পৌঁছে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শুভেন্দু অধিকারী। এরপরেই পদক্ষেপ করল কমিশন। জানা যাচ্ছে, দু'জনের মোবাইল ফোন নিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেয় কমিশন। অন্যদিকে গণনার মধ্যেই হেস্টিংসে যান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। সেখান থেকে দ্রুত তাঁকে বেরিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয় কমিশন। বঙ্গভোটে (West Bengal Assembly Election) অভিষেক প্রার্থী নন। সেই কারণেই কমিশনের এহেন পদক্ষেপ।
ছাব্বিশে ২২৬-এর বেশি আসনে জয় নিয়ে আত্মবিশ্বাসী ছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তবে নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরুর প্রথমদিন থেকে বিজেপি এবং কমিশন কারচুপি করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন তিনি। তবে বিশ্বাস ছিল বাংলার মানুষের প্রতি। সোমবার ভোটগণনার ট্রেন্ড আসতেই দেখা যায়, তৃণমূলকে ছাপিয়ে ক্রমশ এগিয়ে যাচ্ছে বিজেপি। কিন্তু এরপরেও ভিডিওবার্তায় এজেন্টদের মাটি কামড়ে পড়ে থাকার নির্দেশ দেয় কমিশন।
কিন্তু দুপুর গড়াতেই সাখাওয়াতের গণনা কেন্দ্রের বাইরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তৃণমূল নেতা কর্মীদের মারধরের অভিযোগ ওঠে বিজেপির বিরুদ্ধে। এমনকী মুখ্যমন্ত্রীর এজেন্টকেও মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ। এরপরেই সাখাওয়াতের গণনা কেন্দ্রে পৌঁছে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও সেখানে আগে থেকেই উপস্থিত ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী।
জানা যায়, কমিশনের নিয়মকে অমান্য করে দু'জনেই মোবাইল ফোন নিয়ে গণনা কেন্দ্রে পৌঁছে যান। তা জানা মাত্রই পদক্ষেপ করল কমিশন। অন্যদিকে কর্মী সমর্থকদের মনোবল বাড়াতে পথে নেমেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। হেস্টিংসের গণনা কেন্দ্রে যান তিনি। প্রশ্ন ওঠে, প্রার্থী না হয়েও কীভাবে গণনা কেন্দ্রে ঢুকলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আর তা জানা মাত্র ওই গণনাকেন্দ্র থেকে তাঁকে বেরিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয় কমিশন।
