ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে বেআইনিভাবে পোস্টাল ব্যালট বাছাইয়ের অভিযোগ। রিটার্নিং অফিসারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ তৃণমূল। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এই স্ট্রংরুমে সন্দেহজনক গতিবিধির অভিযোগ তোলে শাসক শিবির। ধরনায় বসেন বেলেঘাটার প্রার্থী কুণাল ঘোষ ও শ্যামপুকুরের প্রার্থী শশী পাঁজা। পরে আসেন জোড়াসাঁকোর তৃণমূল প্রার্থী বিজয় উপাধ্যায়-সহ তৃণমূল নেতা-কর্মীরা। তারপর থেকেই ক্ষুদিরাম অনুশীলন সমিতির নিরাপত্তা আরও আঁটসাঁট করা হয়। সাঁজোয়া গাড়ি, কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিতে যেন দুর্গে পরিণত হয় স্ট্রংরুম।
ওইদিন কুণাল ঘোষ বলেন, “সাড়ে তিনটে পর্যন্ত স্ট্রংরুমের সামনে দলীয় কর্মী-সমর্থকরা ছিলেন। তাঁদের বিকেলের দিকে সরিয়ে দেওয়া হয়। মাঝে আচমকা ই-মেল পাঠিয়ে জানানো হয় বিকেল চারটের সময় ফের খোলা হবে স্ট্রংরুম। আমরা তখন দলীয় কর্মীদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করি। জিজ্ঞেস করি, তোমরা আছো? তাঁরা জানান, চলে গিয়েছেন। তখন আমরা দু’জনে দৌড়ে আসি। এখন আমাদের ঢুকতে দিচ্ছে না। নিমন্ত্রণ করছে বিজেপিকে।” কুণালের প্রশ্ন, “আমাদের ই-মেল করা হলে কেন ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না?”
শশী পাঁজাও বলেন, “স্ট্রংরুম অত্যন্ত স্পর্শকাতর। তা খুললে অবশ্যই প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে জানাতে হবে। কেন জানানো হল না?” তৃণমূল প্রার্থীদের অবস্থান বিক্ষোভের খবর পাওয়ামাত্রই ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের স্ট্রংরুমে পৌঁছন ডিইও স্মিতা পাণ্ডে। তাঁর উপস্থিতিতে স্ট্রংরুমের ভিতরে ঢোকেন শশী-কুণাল। তা শুনে আবার ক্ষুব্ধ হন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। কেন তাঁরা ভিতরে ঢুকলেন, সে প্রশ্ন তুলে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে গেরুয়া শিবির। এককথায় বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়। স্ট্রংরুমের বাইরে তৃণমূল প্রার্থীদের সঙ্গে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের একপ্রস্থ বচসাও হয়। এরপর রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ কুণাল ঘোষ জানান, কমিশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা হয়েছে তাদের। তৃণমূলের প্রতিনিধিদের অনুপস্থিতিতে কাউকে স্ট্রংরুমে ঢুকতে দেওয়া হবে না বলেই আশ্বাস কমিশনের। আর তারপরই ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের বাইরে অবস্থান বিক্ষোভ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত কুণাল ঘোষের। দলীয় কর্মী-সমর্থকদের জায়গা ফাঁকা করে দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। এরপর শুক্রবারও দফায় দফায় ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের সামনে অশান্তির পরিবেশ তৈরি হয়।
