হাতে মাত্র একটা দিন। সোমবারই ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election) ফলাফল প্রকাশ। সকাল ৮টা থেকে শুরু হবে ভোটগণনা। তার ঠিক আগে, শনিবার ২৯৪ কেন্দ্রের কাউন্টিং এজেন্টদের নিয়ে শনিবার প্রায় ঘণ্টা তিনেক ভারচুয়াল বৈঠক সারলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee), অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের খবর, বৈঠকে তৃণমূল সুপ্রিমো এজেন্টদের বার্তা দিয়েছেন, তৃণমূল দু'শোর বেশি আসনে জিতছে। কোনও কেন্দ্রের জয়ের ব্যবধান কম হলে এজেন্টদের পুনর্গণনার দাবি তুলতে হবে। এছাড়া আরও খবর, ভোটের সময় যে কর্মীরা আক্রান্ত হয়েছেন, তাঁদের পরে পুরস্কৃত করা হবে বলে ঘোষণা করেছেন দলনেত্রী। তাঁর বার্তা, ৪ মে যতক্ষণ না তিনি নিজে সাংবাদিক বৈঠক করে জয়ের কথা ঘোষণা করছেন, ততক্ষণ কোনও এজেন্ট যেন গণনাকেন্দ্র ছেড়ে না বেরিয়ে আসেন।
তাঁর কথায়, ‘‘কাউন্টিং এজেন্টরা হালকা খাবার খাবেন। বাইরের জল নেবেন না, বাড়ির জল নেবেন। পান, বিড়ি, সিগারেট ওইদিন বা আগেরদিন কেউ নেবেন না। কাউন্টিং সেন্টারে চা খেতে না দিলে ওদেরই ব্যবস্থা করতে বলবেন।''
সূত্রের খবর, কাউন্টিং এজেন্টদের অভয়বাণী দিয়ে মমতার বার্তা, ‘‘আপনারা জিতবেন। চিন্তা করবেন না। ১০০০ বা ২০০-৩০০ ভোটে কোথাও জিতলে পুনর্গণনা চাইবেন। ভোর ৫টার মধ্যে গণনাকেন্দ্রে পৌঁছে যাবেন। সঙ্গে ডায়েরি রাখবেন, ইভিএম খোলার সঙ্গে সঙ্গে নোট করবেন। আর দুর্বল হলে তৃণমূল করার দরকার নেই।'' ওইদিন কর্মীদের ডায়েট নিয়েও সতর্কবার্তা দিয়েছেন নেত্রী। তাঁর কথায়, ‘‘কাউন্টিং এজেন্টরা হালকা খাবার খাবেন। বাইরের জল নেবেন না, বাড়ির জল নেবেন। পান, বিড়ি, সিগারেট ওইদিন বা আগেরদিন কেউ নেবেন না। কাউন্টিং সেন্টারে চা খেতে না দিলে ওদেরই ব্যবস্থা করতে বলবেন।''
মমতার (Mamata Banerjee) আরও পরামর্শ, ‘‘আপনাদের চোখ ধাঁধিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবে। কাউন্টিং সেন্টারে চোখ খোলা রাখবেন। ডেটা ঠিক করে কম্পিউটারে তুলছে কিনা, সেদিকে নজর রাখবেন। আপনার ভোট (West Bengal Assembly Election) বিজেপির ঘাড়ে দিয়ে দিতে পারে। খুব কষ্ট করে লড়াই করেছেন আপনারা, জিততে হবে। যাঁরা কষ্ট করেছেন, আক্রান্ত হয়েছেন, দল তাঁদের পুরস্কৃত করবে।''
একুশের নন্দীগ্রামের ফলাফলের কথা মনে করিয়ে অভিষেকের আরও বক্তব্য, ‘‘ওরা চাইবে লোডশেডিং করতে, বাহিনী দিয়ে অত্যাচার করা। ছাত্র সংগঠন ট্রান্সফরমার ঘিরে রাখবে। বিশেষ করে পূর্ব মেদিনীপুরে নজর রাখবেন। সিআরপিএফ যদি অত্যাচার করে, আপনারাও ঝান্ডা নিয়ে থাকবেন। আমাকে যদি কেউ মারে আমার আত্মরক্ষার অধিকার আছে।''
ভোটগণনায় কী কী কারচুপি হতে পারে, সেসব প্রযুক্তির দিকটি বিশদে তুলে ধরে কাউন্টিং এজেন্টদের বোঝালেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর পরামর্শ, ‘‘ইভিএম আনার পর ফর্ম ১৭ সি-র সঙ্গে আমাদের সিরিয়াল নম্বর মেলাতে হবে। নম্বর ম্যাচ না করলে মেশিন খোলা যাবে না। ভিভিপ্যাট কাউন্টিংয়ের দাবি জানাতে হবে। নম্বর মিলে গেলে সিল, তারিখ, সময় যাচাই করতে হবে। প্রথম দফা, দ্বিতীয় দফা মিলিয়ে নেবেন। টোটাল বোতামের নম্বর মেলাবেন। ১৭ সি ফর্মের সঙ্গে সেটা মিলতে হবে। তারপর রেজাল্টের বোতাম টিপে ধরে ধরে কোন প্রার্থী ক'টা পেয়েছে দেখবেন। ডায়রি নিয়ে যাবেন। সুবিধা অ্যাপে তোলার সময় সেটা ওখানেই করতে হবে। কিন্তু কোন প্রার্থী ক'টা ভোট পেয়েছে সেটা ফরম্যাট করে নিয়ে যাবেন। নোট করবেন। এই চুরি বিহারে, দিল্লিতে হয়েছে।''
একুশের নন্দীগ্রামের ফলাফলের কথা মনে করিয়ে অভিষেকের আরও বক্তব্য, ‘‘ওরা চাইবে লোডশেডিং করতে, বাহিনী দিয়ে অত্যাচার করা। ছাত্র সংগঠন ট্রান্সফরমার ঘিরে রাখবে। বিশেষ করে পূর্ব মেদিনীপুরে নজর রাখবেন। সিআরপিএফ যদি অত্যাচার করে, আপনারাও ঝান্ডা নিয়ে থাকবেন। আমাকে যদি কেউ মারে আমার আত্মরক্ষার অধিকার আছে। কোথাও অবজার্ভার গিয়ে বলল, আপনাকে থানায় যেতে হবে।কেউ এরকম বললে লিখিত দেখতে চাইবেন। থানায় নিয়ে যেতে হলে পুলিশ করবে। এগুলো ভয় দেখানোর কৌশল। আগামী দু'দিন শক্ত থাকবেন। একটা বাঙালির উপর ডান্ডা পড়লে তার জবাব হবে।''
