নির্বাচনী আবহে নয়া বিড়ম্বনা। এখনও বহু ভোটারের নাম 'বিচারাধীন', যার মধ্যে রয়েছেন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরাও। বিস্তর ঝাড়াই-বাছাইয়ের পর নির্বাচন কমিশন দু'দফায় অতিরিক্তি ভোটার তালিকা প্রকাশ করলেও নিজের নাম সেই তালিকায় দেখতে পাননি অনেকে। অর্থাৎ তাঁদের ভাগ্য এখনও ঝুলে। এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বিপদে ভোটযুদ্ধের প্রার্থীরা। কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, ভোটার তালিকায় নাম না উঠলে প্রার্থীপদে মনোনয়ন দিতে পারবেন না। আর সেই কারণে মনোনয়নের আগে যাতে প্রার্থীদের নাম নিষ্পত্তি করে ফলাফল প্রকাশ করা হয়, সেই আর্জি জানিয়ে কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতিকে চিঠি লিখল শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। দলের তরফে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য তিনপাতার সেই চিঠিতে আবেদন জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে জরুরিকালীন পরিস্থিতিতে হস্তক্ষেপ করুন প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল।
এসআইআরের পর 'বিচারাধীন' ৬০ লক্ষের মধ্যে অর্ধেকের বেশি নামের নিষ্পত্তি হয়ে গিয়েছে বলে দাবি। অতিরিক্ত তালিকাও প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু তারপরও দেখা যাচ্ছে, কোনও তালিকায় নাম নেই, এমন ১১ জন প্রার্থী লড়ছেন শাসক শিবিরের হয়ে। এঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য শ্যামপুকুরের প্রার্থী, রাজ্যের বিদায়ী মন্ত্রী শশী পাঁজা, বীরভূমের হাসন কেন্দ্রের প্রার্থী কাজল শেখ। এছাড়া উত্তরপাড়া, দেগঙ্গা এবং মুর্শিদাবাদের অন্তত ৩ আসনের প্রার্থীদের নাম বিচারাধীনের তালিকায়।
রাজ্যে দু'দফায় - ২৩ ও ২৯ এপ্রিলে ভোটগ্রহণ পর্ব। প্রথম দফা অর্থাৎ ২৩ এপ্রিলের ভোটপর্বে যে প্রার্থীরা লড়ছেন, তাঁদের মনোনয়নের শেষ দিন ৬ এপ্রিল। আর দ্বিতীয় দফা বা ২৯ এপ্রিলের যাঁদের ভোটপরীক্ষা, তাঁরা শেষ ৯ এপ্রিল মনোনয়ন দিতে পারবেন। এসআইআরের পর 'বিচারাধীন' ৬০ লক্ষের মধ্যে অর্ধেকের বেশি নামের নিষ্পত্তি হয়ে গিয়েছে বলে দাবি। অতিরিক্ত তালিকাও প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু তারপরও দেখা যাচ্ছে, কোনও তালিকায় নাম নেই, এমন ১১ জন প্রার্থী লড়ছেন শাসক শিবিরের হয়ে। এঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য শ্যামপুকুরের প্রার্থী, রাজ্যের বিদায়ী মন্ত্রী শশী পাঁজা, বীরভূমের হাসন কেন্দ্রের প্রার্থী কাজল শেখ। এছাড়া উত্তরপাড়া, দেগঙ্গা এবং মুর্শিদাবাদের অন্তত ৩ আসনের প্রার্থীদের নাম বিচারাধীনের তালিকায়।
এঁদের ভবিষ্যৎ কী? আদৌ কি ভোটে লড়তে পারবেন? তার দ্রুত নিষ্পত্তি চেয়েই তৃণমূলের এই চিঠি। হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতিকে লেখা চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যর চিঠিতে বেশ কয়েকটি দাবি তোলা হয়েছে। যেমন -
- ১১ জন প্রার্থীর ভবিষ্যৎ যত দ্রুত সম্ভব স্পষ্ট করা হোক
- সপ্তাহে দু-একদিন নয়, 'বিচারাধীন' জট কাটাতে প্রতিদিন প্রকাশিত হোক অতিরিক্ত তালিকা
- কারও নাম বাদ পড়লে, কী কারণে বাদ, তার কারণ জানানো হোক
- ট্রাইব্যুনালে আবেদন এবং নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া আরও সহজ করা হোক
প্রধান বিচারপতির তত্বাবধানে যেহেতু এই কাজটি চলছে, তাই তৃণমূলের আর্জি, তিনিই কমিশনকে এসব সমস্যার কথা জানিয়ে দ্রুত সমাধানে সচেষ্ট হন। এখন দেখার, শাসক শিবিরের এই আবেদন কতটা কার্যকর হয়। নিষ্পত্তির কাজ আদৌ দ্রুততর হয় কিনা।
