লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা জমিয়ে স্কুটি কিনলেন সাঁইথিয়া ব্লকের দেড়িয়াপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের দইকোটা গ্রামের আদিবাসী এক বধূ নন্দী সরেন। ওই স্কুটিতেই চেপেই লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের প্রচারে নেমেছেন তিনি।
এই নির্বাচনে (West Bengal Assembly Election) তিনি হয়ে উঠেছেন তৃণমূলের প্রচারের ‘মুখ’। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে রাজ্য সরকারের লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পের আওতায় আর্থিক সহায়তা পেয়ে আসছেন তিনি। পরিবারের নিত্যদিনের খরচের চাপে সেই টাকা খরচ করে ফেলাই স্বাভাবিক ছিল, কিন্তু ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নেন নন্দী। দীর্ঘ প্রায় পাঁচ বছর ধরে ধীরে ধীরে সেই টাকা জমিয়ে রাখেন তিনি। পাশাপাশি তাঁর মায়ের লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকাও জমিয়ে রাখেন তিনি। অবশেষে সেই জমানো অর্থ দিয়ে কিনে ফেলেন একটি বৈদ্যুতিক স্কুটি। স্কুটিটির মূল্য ৭৪ হাজার টাকা। স্কুটিটি তিনি নগদ অর্থের বিনিময়ে ক্রয় করেন। তাঁর ও তাঁর মায়ের জমানো লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা এবং পরিবারের কিছু আর্থিক সহযোগিতায় নন্দী স্কুটিটি ক্রয় করেন।
স্কুটি কেনার পর সেটিকে ব্যক্তিগত প্রয়োজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে আদিবাসী বধূ সেটিকে বানিয়ে ফেলেছেন নির্বাচনী প্রচারের মাধ্যম। স্কুটিতে তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় পতাকা বেঁধে গ্রাম থেকে গ্রামে ঘুরে বেড়াচ্ছেন তিনি। নন্দীর কথায়, “লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা আমি খরচ করিনি, জমিয়ে রেখেছিলাম। পাশাপাশি মায়ের লক্ষ্মীর ভান্ডারে জমানো কিছু টাকাও নিয়েছি। সেই টাকা দিয়েই স্কুটি কিনেছি। কিন্তু আমার কাছে স্কুটি কেনাটাই বড় কথা নয়। যাঁর জন্য এই সুবিধা পেয়েছি, তাঁকে আবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাই। আমাদের মতো মহিলারা ভবিষ্যতেও যাতে এই সাহায্য পায়, তাই আমি নিজেই প্রচারে নেমেছি।”
শুধু সাঁইথিয়া নয়, একই রকম দৃশ্য দেখা যাচ্ছে ময়ূরেশ্বর বিধানসভা কেন্দ্রেও। ময়ূরেশ্বর ২ নম্বর ব্লক এলাকায় একাধিক মহিলা লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা জমিয়ে ও পারিবারিক কিছু সাহায্যের বিনিময়ে স্কুটি কিনেছেন। তাঁরাও স্কুটিতেই দলীয় পতাকা বেঁধে নির্বাচনী প্রচারে নেমেছেন।
