বদলাচ্ছে ভোট প্রচারের ধরণ। মিছিল, মিটিং, সোশাল মিডিয়ায় প্রচারের পাশাপাশি এবার সরাসরি ভোটারদের ঘরে পৌঁছাচ্ছে সাপ লুডোর ছকে। মধ্যমগ্রাম ও অশোকনগরের তৃণমূল প্রার্থী রথীন ঘোষ ও নারায়ণ গোস্বামীর হয়ে কর্মীরা বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিচ্ছেন বিশেষ নকশার লুডো বোর্ড। টার্গেট স্পষ্ট, যাঁরা রাজনৈতিক সভা এড়িয়ে চলেন, তাঁদের হাতেই খেলার ছলে পৌঁছে যাচ্ছে তৃণমূলের কথা।
লুডোর পরিচিত কাঠামো অক্ষুণ্ণ রেখে বোর্ডের ভেতরেই বসানো হয়েছে রাজনৈতিক বয়ান। মইয়ের প্রতিটি ধাপ জুড়ে রাজ্য সরকারের প্রকল্প-যুবসাথী, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, বাণিজ্য দিশারী বাংলা, দুয়ারে চিকিৎসা, বার্ধক্য ভাতা, কৃষি বাজেট, শিক্ষায়তন, সুস্বাস্থ্য, বাংলার বাড়ি। গুটি মইয়ে পড়লেই দ্রুত উপরে ওঠার সময় উন্নয়নের ধারাবাহিকতার বার্তা। বিপরীতে সাপের ঘরগুলোতে বিজেপি নেতৃত্বের মুখ বসিয়ে নেতিবাচক বার্তা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, শুভেন্দু অধিকারী, দিলীপ ঘোষ, শমীক ভট্টাচার্য-প্রতিটি মুখের সঙ্গে যুক্ত আলাদা সতর্কবার্তা। ভোটাধিকার বাতিল, মাছ মাংস বন্ধ, মাতৃভাষায় বাধা, উন্নয়ন থমকে যাওয়া। সাপে পড়লেই গুটি এক লাফে নীচে, প্রতীকী পতন।
তৃণমূলের কথায়, এই বোর্ড শুধু প্রচারের উপকরণ নয়, একধরনের সরাসরি যোগাযোগের কৌশল। বাড়ির মহিলাদের পাশাপাশি প্রবীণদের লক্ষ্য করেই পরিকল্পনা। যাঁরা ঘরে বসে লুডো খেলেন, তাঁদের মধ্যেই বার্তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা। রথীন ঘোষ বলেন, “লুডো এমন একটা খেলা যা সব বয়সের মানুষ খেলেন। বোর্ড না থাকায় অনেকেই খেলতে পারেন না, আমরা সেটা পৌঁছে দিচ্ছি। তার প্রতিটি ঘরেই থাকছে বার্তা। খেলতে খেলতেই মানুষ বুঝতে পারবেন কোন পথ উপরে নিয়ে যায়, আর কোনটা নীচে নামায়।” নারায়ণ গোস্বামী বলেন, "অবসর সময়ে আমাদের ঘরের মা-বোনেরা সাপ লুডো খেলে। সেই খেলার ছকে দেখানো হয়েছে সাপের মুখে পড়া মানে বিজেপির মুখে পড়া, চলে আসতে হবে লেজে। আর মই-তে পড়লে সেটা মমতা দির উন্নয়ন।"
