দুর্নীতির যাঁতাকলে পিষেছেন চাকরিহারারা। লক্ষ লক্ষ টাকায় চাকরি বিক্রির ভিড়ে চাকরি খুইয়ে রাতারাতি রাস্তায় এসে পড়েছিলেন যোগ্যরা। হাই কোর্ট পেরিয়ে দুর্নীতির মামলা শীর্ষ আদালতে গড়ালেও মেলেনি অধিকার, ফেরেনি চাকরি। আগাগোড়া দুর্নীতির প্যাঁচে নতুন নিয়োগের দরজাও বন্ধ কয়েক বছর ধরে। প্রতিবাদ, ধরনা, আন্দোলনকে সঙ্গী করে রাত কাটিয়েছেন চাকরিপ্রার্থীরা। তৃণমূলের আমলে প্রায় দেড় দশক জুড়েই শিক্ষক দুর্নীতির 'কালো অধ্যায়' দেখেছে বঙ্গবাসী। বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের ধরাশায়ী পরিস্থিতির অন্যতম কারন এই নিয়োগ কেলেঙ্কারিই, এমনটাই মনে করছেন চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীরা।
২০১৮ প্রাথমিক টেটের পাশ করা এক চাকরিপ্রার্থী বলেন, "মাতঙ্গিনী মূর্তির পাদদেশে হাজার দিনের আন্দোলন। দিনের পর দিন পুলিশের মার খেয়েছি। আমাদের এক মহিলা চাকরিপ্রার্থী পুলিশের কামড় খেয়েছে। প্রতিবাদে নামলেই পুলিশ চ্যাঙদোলা করে ভ্যানে তুলে থানায় নিয়ে গেছে। আমরা চাকরির আশায় পথে নেমেছি, উলটে আমাদের নামেই হাই কোর্টে মামলা হয়েছে।"
বাংলা এখন পালাবদলের সন্ধিক্ষণে। চাকরিহারারা মনে করিয়েছেন, 'যোগ্য' প্রায় ১৯ হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষাকর্মীদের অবস্থা প্রায় খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে। ক্ষমতার হাতবদল হতেই চাকরিহারাদের মধ্যে থেকেও উঠে আসছে ক্ষোভ। তাঁদের বক্তব্য,"আগের সরকারের দুর্নীতির কারণেই তাঁদের চাকরি গিয়েছে। এখনও তাঁরা ন্যায়বিচার পাননি।" ২০১৮ প্রাথমিক টেটের পাশ করা এক চাকরিপ্রার্থী বলেন, "মাতঙ্গিনী মূর্তির পাদদেশে হাজার দিনের আন্দোলন। দিনের পর দিন পুলিশের মার খেয়েছি। আমাদের এক মহিলা চাকরিপ্রার্থী পুলিশের কামড় খেয়েছে। প্রতিবাদে নামলেই পুলিশ চ্যাঙদোলা করে ভ্যানে তুলে থানায় নিয়ে গেছে। আমরা চাকরির আশায় পথে নেমেছি, উলটে আমাদের নামেই হাই কোর্টে মামলা হয়েছে।" উচ্চ প্রাথমিকের এক চাকরিপ্রার্থীর প্রশ্ন, "গোটা সিস্টেমটাই যেখানে দুর্নীতিগ্রস্ত। সেখানে আন্দোলন করে কী মিলেছে? গত ১৫ বছরে মাত্র দু'বার এসএসসি পরীক্ষা হয়েছে। ২০১৬ সালে উচ্চ প্রাথমিকে বিজ্ঞপ্তি জারি হলেও নিয়োগ হয়নি।"
গত বছর থেকে বেতন আটকে চাকরিহারা শিক্ষাকর্মীদের। এখনও ন্যায় বিচারের চাকরিহারা 'যোগ্য' শিক্ষক-শিক্ষিকারা। নতুন সরকার এলে শিক্ষাব্যবস্থার হাল ফিরবে? শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে থমকে যাওয়া পথ খুলবে? সেদিকেই তাকিয়ে শিক্ষকমহল।
